শান্তিপুরের দুর্গা প্রতিমা ট্রেনে তোলা নিয়ে রণক্ষেত্র শিয়ালদহ শাখা!

৩৬৫ দিন।বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি। কেবল বিশ্ববিখ্যাত তাঁত শাড়ি কিংবা ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের জন্যই নয়, নদিয়ার শান্তিপুরের মৃৎশিল্পের সুনাম আজ রাজ্য ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশেও স্বীকৃত। দূরদূরান্ত থেকে পুজো উদ্যোক্তারা ছুটে আসেন এখানকার শিল্পীদের নিখুঁত সৃষ্টিকে মণ্ডপে নিয়ে যেতে। তবে এবার সেই শান্তিপুরের তৈরি দুর্গা প্রতিমা ট্রেনে নিয়ে যাওয়ার পথে দেখা দিল চরম বিশৃঙ্খলা। রেলের ভেন্ডার কামড়ায় প্রতিমা তোলাকে কেন্দ্র করে ছানা ব্যবসায়ীদের একাংশের বিরুদ্ধে অমানবিক দাদাগিরি, অশ্রাব্য গালিগালাজ এবং পবিত্র প্রতিমা ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠল। সোমবার শান্তিপুর থেকে শিয়ালদহগামী একটি ডাউন লোকালে ট্রেনে এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় স্তম্ভিত শান্তিপুরবাসী তথা সমগ্র মৃৎশিল্পী সমাজ। ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের বাসিন্দা শ্রী শত্রুঘ্ন শোভন করের পরিবারে বহু বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমানে তাঁর প্রবাসী পুত্র অভ্যুদয়েশ্বর করের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোর জন্য শান্তিপুরের উদীয়মান ও তরুণ মৃৎশিল্পী সৌম্যদীপ মণ্ডলের কাছ থেকে একটি সাড়ে পাঁচ ফুটের প্রতিমা বায়না করা হয়েছিল। গত ৫ই অক্টোবর শান্তিপুর স্টেশন থেকে দুপুর ২টো ২২ মিনিটের ডাউন শিয়ালদহ লোকাল ট্রেনের প্রথম ভেন্ডার কামড়ায় নির্দিষ্ট ট্রাভেলিং টিকিট  কেটেই প্রতিমাটি সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে রওনা করার জন্য তোলা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুজো উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, ট্রেনটি ছাড়ার পর ফুলিয়া স্টেশনে পৌঁছাতেই বাধ সাধে একদল ছানা ব্যবসায়ী। তারা জোরপূর্বক ভেন্ডার কামড়ায় ঢুকে চরম দাদাগিরি শুরু করে। অভিযোগ, পুজো উদ্যোক্তা বয়োবৃদ্ধ শত্রুঘ্নবাবুকে গায়ের জোরে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, চালুকুটো করে তোলা সাড়ে পাঁচ ফুটের দুর্গা প্রতিমাটিকে টেনে-হিঁচড়ে ট্রেনের দরজা পর্যন্ত নামিয়ে ফেলার চেষ্টা করে অভিযুক্ত ছানা ব্যবসায়ীরা। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কামরায় উপস্থিত সাধারণ যাত্রী ও রেল আধিকারিকদের মধ্যস্থতা ও হস্তক্ষেপে প্রতিমাটি কোনোক্রমে পুনরায় কামড়ায় তোলা সম্ভব হয়। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যা ঘটার ঘটে যায়। অভিযোগ উঠেছে, কামরা জুড়ে ছানা ব্যবসায়ীরা তাদের ছানার পুটুলি এমন অসংবেদনশীলভাবে রাখে যে, তা থেকে গড়িয়ে পড়া নোংরা ও টক জল কার্তিক ও গণেশ মূর্তির নিচের অংশে ঢুকে যায়। অতিরিক্ত জলে ভেজার কারণে মূর্তির কাঁচা মাটি নরম হয়ে একাকার অবস্থা তৈরি হয়। শুধু তা-ই নয়, প্রতিমার গায়ে পা লাগানো, প্রতিমার সামনেই ধূমপান করা এবং ভক্তদের প্রতিমা ছেড়ে সাধারণ কামড়ায় চলে যেতে বাধ্য করার মতো চরম অসভ্যতার নজিরও মেলে। পরবর্তীতে অত্যন্ত কায়দা করে নামখানার বাড়িতে প্রতিমা পৌঁছানোর পর দেখা যায়, দেবীর হাত ও আঙুলের বেশ কিছুটা অংশ এবং সূক্ষ্ম গয়নাগাটি ভেঙে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

Scroll to Top