৩৬৫ দিন। সায়ন্তী অধিকারী।ছবি- সুব্রত কোটাল ছোটবেলায় পৌরাণিক চরিত্রদের জীবন্ত হতে দেখেছেন অ্যানিমেশন তথা কার্টুনের দুনিয়ায়। কখনও হনুমান, রাম-সীতা, কখনও আবার পাণ্ডব-কৌরবের যুদ্ধ পুরাণের চরিত্রেরা অ্যানিমেশনের পর্দায় নতুন জীবন পেয়েছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে এ দেশে আমদানি হয়েছে টম অ্যান্ড জেরি, বব দ্য বিল্ডার, পিঙ্ক প্যান্থারের মতো জনপ্রিয় অ্যানিমেশন ও কমিকসের চরিত্র। এ বার সেই চরিত্র-দেখার অভিজ্ঞতাতেই নতুন সংযোজন,কলকাতায় সুকুমার রায়ের অমর সৃষ্টি আবোল তাবোল এর চরিত্রদের নিয়ে বিশেষ মিনিয়েচার প্রদর্শনী।
বইয়ের পাতা থেকে মিনিয়েচারে
খুঁড়োর কল, কুমড়োপটাশ, হেঁকোমুখো হ্যাংলা-ছোটবেলায় যাদের নিয়ে পড়তে পড়তে কল্পনার জগতে পৌঁছে যাওয়া, এ বার সেই চরিত্রগুলিই উঠে আসছে ছোট আকারের শিল্পকর্মে। ‘আবোল তাবোল’-এর মোট ১৫টি চরিত্রকে মিনিয়েচার হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। সুকুমার রায়ের লেখায় যে অদ্ভুতুড়ে, মজাদার এবং কল্পনাপ্রবণ জগতের সঙ্গে বাঙালি পাঠকের পরিচয়, সেই জগতকেই এ বার চোখের সামনে হাজির করার চেষ্টা হয়েছে।
৬ অক্টোবর পর্যন্ত কেয়াতলা লেনে চলবে প্রদর্শনী
২ থেকে ৬ অক্টোবর এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। দুপুর ১টা থেকে প্রদর্শনী শুরু হবে। কেয়াতলা লেনের ছবি-ও-ঘর আর্ট গ্যালারিতে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে একসঙ্গে দেখা যাবে ‘আবোল তাবোল’-এর ১৫টি চরিত্রের মিনিয়েচার, হেঁশোরাম হুঁশিয়ার ও তাঁর আশ্চর্য প্রাণী, গুপী-বাঘা-ভূতের রাজাকে নিয়ে ডায়োরামা এবং টেনিদার আড্ডার নানা চরিত্র। 
কপিরাইট নিয়েও প্রশ্ন
তবে এই ধরনের চরিত্রকে নতুন মাধ্যমে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কপিরাইট ও স্বত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। জানা গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই স্রষ্টার পরিবারের কাছ থেকে কপিরাইট বা অনুমতি নেওয়া হচ্ছে না। ফলে কোনও সাহিত্যিক বা শিল্পীর সৃষ্ট চরিত্রকে বাণিজ্যিক ভাবে নতুন রূপে ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট স্বত্বাধিকারীর অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
বিশেষত যে সব চরিত্র বহু দশক ধরে বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ হয়ে রয়েছে, তাদের নতুন মাধ্যমে ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্রষ্টার উত্তরাধিকারীদের অধিকার এবং অনুমতির বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
দাম ১০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা
প্রদর্শনীর মিনিয়েচারগুলির আকার প্রায় ২ ইঞ্চি থেকে ৬ ইঞ্চির মধ্যে। সবগুলিই থ্রিডি প্রিন্ট মডেল। চরিত্রগুলির দাম শুরু হচ্ছে ১০০০ টাকা থেকে এবং সর্বোচ্চ দাম প্রায় ৩৫০০ টাকা। ফলে দর্শক শুধু প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পাশাপাশি পছন্দের চরিত্রের মিনিয়েচার সংগ্রহও করতে পারবেন।প্রযুক্তির ব্যবহারেও রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। থ্রিডি প্রিন্টের মাধ্যমে সাহিত্যের চরিত্রকে বাস্তবের মডেলে রূপ দেওয়া হয়েছে। ফলে এক দিকে যেমন পুরনো দিনের সাহিত্য ও নস্ট্যালজিয়া রয়েছে, অন্য দিকে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্পভাবনা।
শুধু আবোল তাবোল নয়
প্রদর্শনীর আকর্ষণ শুধু ‘আবোল তাবোল’-এর ১৫টি চরিত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। রয়েছে হেঁশোরাম হুঁশিয়ার ও তাঁর আশ্চর্য প্রাণীদের নিয়ে বিশেষ কাজ। রয়েছে গুপী-বাঘা-ভূতের রাজাকে কেন্দ্র করে বড় ডায়োরামা। অর্থাৎ বাংলা সাহিত্য ও সিনেমার একাধিক জনপ্রিয় চরিত্রকে একই প্রদর্শনীতে নতুন আঙ্গিকে হাজির করা হয়েছে।পাশাপাশি রয়েছে টেনিদার আড্ডাও। প্যালারাম, ক্যাবলা, হাবুল-সহ টেনিদার সেই পরিচিত জগতকে ডায়োরামার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের এই চরিত্রগুলি একাধিক প্রজন্মের পাঠকের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। ফলে তাদের ত্রিমাত্রিক রূপ দর্শকদের কাছে নস্ট্যালজিয়ার পাশাপাশি নতুন অভিজ্ঞতাও তৈরি করবে।
বাংলার পটচিত্র থেকে আধুনিক প্রযুক্তি
এই উদ্যোগে বাংলা শিল্প ও লোকসংস্কৃতির নানা উপাদানকেও নতুন ভাবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। বাংলার পটচিত্র থেকে ভারতীয় বিভিন্ন শিল্পরীতির ভাবনা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী চরিত্র এবং আধুনিক থ্রিডি প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনই প্রদর্শনীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।ভারতের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অ্যানিমেশন, কমিকস, মিনিয়েচার এবং চরিত্রভিত্তিক শিল্পচর্চা হয়ে আসছে। সেই পরিসরে কলকাতায় বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী চরিত্রগুলিকে কেন্দ্র করে এই ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে বইয়ের পাতায় থাকা চরিত্রগুলিকে সংগ্রহযোগ্য মডেলে রূপ দেওয়ার ভাবনা শিল্প ও সাহিত্যের মধ্যে একটি নতুন সংযোগ তৈরি করছে।
ছোটবেলার স্মৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যোগ
আজকের শিশুদের বিনোদনের জগৎ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। মোবাইল ফোন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল গেম এবং আন্তর্জাতিক অ্যানিমেশন সিরিজের ভিড়ে বাংলা সাহিত্যের পুরনো চরিত্রগুলির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় অনেক সময় বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেই জায়গায় আবোল তাবোল এর চরিত্রগুলিকে থ্রিডি মডেলের মাধ্যমে সামনে নিয়ে আসার উদ্যোগ অন্য রকম আগ্রহ তৈরি করতে পারে।অন্য দিকে, যাঁরা ছোটবেলায় সুকুমার রায়ের লেখা পড়ে বড় হয়েছেন, তাঁদের কাছে এই প্রদর্শনী অনেকটা পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার মতো। খুঁড়োর কল, কুমড়োপটাশ কিংবা হেঁকোমুখো হ্যাংলার সঙ্গে ফের দেখা হবে, তবে এ বার বইয়ের পাতায় নয়-চোখের সামনে তিন মাত্রায়।
আবোল তাবোল’র চরিত্রদের মিনিয়েচার নিয়ে প্রদর্শন
চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত
- khabar365din
- October 4, 2026
- 2:32 pm
- No Comments




