৩৬৫ দিন। পুলিশে চাকুরিরতা মহিলার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন স্বামী, জেনে ফেলেছিল স্ত্রী। তারপরেই তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল। মৃতার পরিবারের দাবি, ব্যাঙ্ক ম্যানেজার স্বামী অত্যাচার করে তাদের মেয়েকে খুন করেছে। অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। ওই দিন গভীর রাতে উত্তর চব্বিশ পরগনার গোপালনগরের একটি বাড়ি থেকে এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতার নাম পূর্ণিমা মন্ডল। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে পূর্ণিমার সঙ্গে সন্দীপ বৈদ্য নামে পেশায় একটি ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের বিয়ে হয় ১৪ বছর আগে। ওই দম্পতির একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
পূর্ণিমার বাপের বাড়ির অভিযোগ কয়েক বছর হল এক মহিলার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান সন্দীপ। যে মহিলার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে সে আবার পেশায় পুলিশ। স্বামীর পরকীয়ার বিষয়ে জানার পরেও ভয়ে মুখ বন্ধ রাখেন পূর্ণিমা। কিন্তু মেয়ের জন্মের পর কেন কন্যা সন্তান হয়েছে সেই প্রশ্ন তুলে পূর্ণিমার ওপর অত্যাচার শুরু করে সন্দীপ। তাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হত। সন্দীপকে উস্কানি দিত তার সেই পুলিশ বান্ধবী বলে অভিযোগ পূর্ণিমার পরিবারের। এর প্রতিবাদ করায় পূর্ণিমাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলা হয়। সম্প্রতি তাকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতেন চাপ দেওয়া হচ্ছিল। পূর্ণিমার পরিবার অভিযোগ করছে তাদের মেয়েকে হয় খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে নয়তো তার ওপর এমন অত্যাচার করা হয়েছে যে সে বাধ্য হয়েছে আত্মহত্যা করতে। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে , নিয়ম মত মৃত মহিলার দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মৃত পূর্ণিমার পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সন্দীপকে আটক করে জেরা চলছে। সবটাই এখন তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে, পূর্ণিমার দিদি সীমা মণ্ডল বলেন, ‘‘ঘটনার দিন রাত দুটো নাগাদ পূর্ণিমা ফোন করেছিল। বলেছিল ওর উপর অত্যাচার করছে। ওকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা ওর শ্বশুরবাড়িতে ফোন করি। তখন বলা হয়, পূর্ণিমার শরীর খারাপ। আমরা যেন গিয়ে দেখে আসি।’’ মৃতার পরিবারের প্রশ্ন, পূর্ণিমা আত্মহত্যা করলে তাকে অসুস্থ বলা হল কেন?





