মোহনবাগান – ১
(লি)
নর্থইস্ট ইউনাইটেড – ১
(গঞ্জালেস)
৩৬৫দিন স্পোর্টস। রোহন রায় চৌধুরী। ডেকান আর নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড যে ভারতীয় ফুটবলে সমান প্রতিপক্ষ নয় সেটা সকলেরই জানা। দল হিসেবে অনেক এগিয়ে নর্থইস্ট সেটা জানতেন মোহনবাগান সমর্থকরা। তাই খেলাটা সহজ হবে না জানাই ছিল। আর সেটাই হল মঙ্গলবার নিজেদের ঘরের মাঠে। লিড নিয়েও ড্র করে সন্তুষ্ট থাকতে হল বাগানকে। ঘরের মাঠে মোহনবাগান প্রায় সব বিদেশি নামিয়ে দিল। আর নর্থইস্ট নামাল ভারতীয় একাদশ। ফলাফল ১-১ গোলে ড্র। লি আরউইনের গোল শোধ হয়ে গেল ২৫ মিনিটের মধ্যে। সুযোগ তৈরির অভাব। পেনাল্টি মিস মিগুয়েলের। সবুজ-মেরুন কোচের পরিকল্পনায় হাজারও গলদ।
সেমিতে উঠলেও প্যানাজিওটিস ও তাঁর ছক নিয়ে চিন্তা থাকবে সবুজ-মেরুন ভক্তদের।জেলকোভিচ, আলবার্তো রড্রিগেজ, ডেজান ড্রাজিচ, লি আরউইন- চার বিদেশি। এর সঙ্গে লিস্টন কোলাসো, ছাংতেরা। জাতীয় দলের জন্য অনেক প্লেয়ার না থাকলেও বিদেশি প্লেয়ারে বোঝাই হয়েই নেমেছিল মোহনবাগান। সেখানে নর্থইস্ট ইউনাইটেড কোচ পেদ্রো বেনালি প্রথম একাদশে কোনও বিদেশিই রাখেননি। অথচ তাঁদের কাছেই আটকে গেল সবুজ-মেরুন। কারও সঙ্গে কারও যেন যোগাযোগ নেই। ডেজান ও সমির একসঙ্গে কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। লিস্টন কোলাসোর যা অবস্থা, তাতে তাঁর জায়গায় অনায়াসে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম একাদশে আসতে পারেন। এর মধ্যে কিছুটা নজর কাড়লেন আরউইন। গতি কাজে লাগাচ্ছিলেন ছাংতেও। তবে কয়েকটা ক্ষেত্রে তিনিও বড্ড বেশি ভুল পাস করলেন। প্রথমার্ধে নিঃসন্দেহে দাপট ছিল বাগানের। যদি গোলই না আসে, তাহলে কী লাভ! প্রশংসা প্রাপ্য নর্থইস্টের গোলকিপার দীপেশের। বেশ কয়েকটা দুরন্ত বল বাঁচিয়ে নিজের দলকে ম্যাচটা ড্র করতে সাহায্য করলেন। চৌহানের বুদ্ধিমান কিপিং একের বেশি গোল খেতে দিল না নর্থ ইস্টকে। দ্বিতীয়ার্ধে মিগুয়েল ও জেমি ম্যাকলারেনকেও নামিয়ে দেন প্যানাজিওটিস। তার এক মিনিট পরেই সুফল পেল মোহনবাগান।
ড্রাজিচের ক্রস হেড করে পিছন দিকে ভাসিয়ে দেন ম্যাকলারেন। সেই বল ধরে মুহূর্তের মধ্যে জালে বল জড়িয়ে দেন আরউইন। গোল পাওয়ার পর মাত্র ২০ মিনিটের জন্য ছন্দে ফেরে। ৭০ মিনিটে নর্থ ইস্টের হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। কিন্তু মিগুয়েলের শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচিয়ে দেন দীপেশ। আর ঠিক তিন মিনিট পরেই নর্থইস্টের আঘাত। মোহনবাগান ডিফেন্ডারদের অনায়াসে পিছনে ফেলে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন ইথিয়ান। আলবার্তো, রাহুল ভেকেরা শুধু দেখে গেলেন। বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে সমতা ফেরাতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি নর্থইস্ট স্টাইকার। তবে শেষ দিকে গ্রয়েনে চোট পেলেন জেমি। ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়লেন। তার চোট কতটা গুরুতর বোঝা যাবে পরে। তবে আশা ছাড়তে নারাজ মোহনবাগানের গ্রিক কোচ। পরিষ্কার জানিয়েছেন শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য। তার জন্য তারা প্রস্তুত এবং সেমিফাইনালে জিতেই ফাইনালে প্রবেশ করার ব্যাপারে নিশ্চিত মোহনবাগান দল। এখন দেখার নিজের কথা কতটা রাখতে পারেন পানোস। তবে বল নিজেদের দখল থেকে বারবার হাতছাড়া হওয়া একটা বড় দলের কাছে কখনই শুভ লক্ষণ নয়। যদিও শেষ মুহূর্তে আজ সূহেলের নেওয়া শট বিপক্ষ গোলরক্ষকের হাত থেকে বেরিয়ে এলে যেভাবে মিস করলেন মিগুয়েল সেটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। মোদ্দা কথা গোল করতে হবে ম্যাচ জিততে গেলে। সেই রাস্তা মোহনবাগান যত তাড়াতাড়ি খুজে পাবে ততই মঙ্গল।





