‘শিবসেনা মামলার মতো অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা নয়, ৪ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক’: সুপ্রিম কোর্ট

৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা অথবা ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির মামলার মত অনির্দিষ্ট কাল ধরে ফাইল ফেলে রাখা যাবে না। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং প্রতীক ব্যবহারের মালিকানা কারা পাবে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে, আগামী চার মাসের মধ্যেই। এভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে রীতিমতো ডেডলাইন বেঁধে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। অন্যদিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলের টিকিটের বিজয়ী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পৃথক ব্লক গঠন করা ১০ বিধায়কের পদ খারিজের জন্য মমতা তৃণমূলের বিধায়ক শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বলে ডেডলাইন বেঁধে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
কমিশনকে চার মাসের ডেডলাইন
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন হঠাৎ করেই ঘোষণা করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করা হলো। এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরকে আলাদা দলীয় নাম ও প্রতীক অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ করেন নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন মমতা। আজ সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে রিপোর্ট জমা দেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের কাছে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানতে চান, ৩ মাস পার হয়ে গিয়েছে। আপনারা আধুনিক প্রযুক্তি এমনকি এআই ব্যবহার করেন তো, তাহলে এত সময় লাগছে কেন? সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে মমতাপন্থী তৃণমূলের আইনজীবীরা আর্জি জানিয়েছিলেন, যাতে অক্টোবর মাসের মধ্যেই কমিশন জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের নাম নিয়ে বিতর্কের নিষ্পত্তি করে। অন্তত, পুর নির্বাচনের আগে যাতে নিষ্পত্তি কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়, সেটাই ছিল মমতা তৃণমূলের আর্জি। জোড়াফুল প্রতীক ফিরে পেয়েই পুরভোটে লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখেই এই আর্জি জানিয়েছিলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ‌উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ বলে, কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করেছে। আমরা সময়সীমা মেনে চলার কথা বলছি। উভয় পক্ষকে নথি জমা দেওয়ার জন্য আমরা অতিরিক্ত ৪ সপ্তাহ সময় দিচ্ছি। তারপর কমিশনকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে সেই সময়সীমাও সর্বোচ্চ চার মাসের বেশি নয়। অর্থাৎ আজকের দিন থেকে আগামী চার মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ও ঘাসের উপর জোড়া ফুল প্রতীকের মালিকানা কাদের থাকবে। প্রসঙ্গত, পুজোর পরই কলকাতা, হাওড়া সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি পুরসভায় ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু আজ সুপ্রিমকোর্ট যেভাবে চার মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তার ফলে আসন্ন পুর নির্বাচনেও তৃণমূলের জোড়া ফুল ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
ঋতব্রতদের মামলার নিষ্পত্তি ৮ অক্টোবরের মধ্যে
অন্যদিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলের টিকিটে বিজয়ী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যেভাবে তৃণমূলের বেশ কিছু বিধায়ক পৃথক ব্লগ গঠন করেছিলেন তাদের মধ্যে থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহ ১০ বিধায়কের বিধায়ক পথ খারিজের জন্য শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় আজ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল স্পিকারকেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে। এই ধরনের মামলায় অর্থাৎ দলত্যাগ বিরোধী আইনে তিন মাসের মধ্যে স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন যেহেতু ৮ জুলাই সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে তাই স্পিকার নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।

Scroll to Top