সীমা খান্নার বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় নাম না তোলার অভিযোগ গোয়ার নির্বাচন কমিশনারের

৩৬৫ দিন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে সরগরম দেশের রাজনীতি। এই বিতর্কে জড়িয়ে গিয়েছে কমিশনের আইটি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত সীমা খন্নার নাম। কমিশনের এই আধিকারিককে ইতিমধ্যেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন দেশের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী। তার বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার গোয়ার নির্বাচন কমিশনার সীমা খান্নার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
৯৭ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করার জন্য ৭ দিনে আট বার ইমেল করেছিলেন গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। কিন্তু উল্টো দিক থেকে কোনও উত্তর আসেনি। এ ক্ষেত্রেও কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে সেই সীমা খন্নাকে, যিনি কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেলের পদে রয়েছেন। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর নতুন একটি প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। এসআইআর-পর্বে গত ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল গোয়ায়। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম ছিল না ওই ৯৭ জনের। অথচ ওই তালিকা প্রকাশের চার দিন আগে ৯৭ জনের নাম ঢোকানোর জন্য অষ্টম ইমেলটি করেছিলেন গোয়ার সিইও। মেলের প্রতিলিপি গিয়েছিল গোয়ার নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী এবং সীমা খন্নার কাছে।
এই ৯৭ জনের নামই তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র তালিকায় ছিল। সুপ্রিম কোর্ট এই তালিকায় থাকা ভোটারদের নতুন করে নথিপত্র জমা দেওয়া কিংবা আবেদন জানানোর জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর গোয়ার ৬৪৯ জন ভোটার নথি পেশ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আর্জি জানান। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি আবেদনের নিষ্পত্তি করেন নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-রা। ৯৭ জনের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানোর বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন বলছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী আধিকারিকেরা এই ৯৭ জনের নামের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দিলেও কমিশনেল সফ্‌টওয়্যারে সেগুলি ঢোকানোই হয়নি।
প্রতিবেদন অনুসারে, ১৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮টি মেল পাঠানো হলেও সীমার তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তরফে কোনও উত্তর আসেনি। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ৯৭ জনের নাম গোয়ার ভোটার তালিকায় ওঠেনি। এই ৯৭ জনের নাম তোলার জন্য ইআরও-রা নির্দিষ্ট সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করতে পারেননি। তার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সফ্‌টওয়্যারটি দিল্লি থেকে পরিচালিত করা হচ্ছিল।
প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে যে, সফ্‌টওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কমিশনের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সীমাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চিঠি দিয়েছিলেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদন বলছে, দেশের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী গত নভেম্বর থেকে অগস্ট পর্যন্ত তাঁদের নিজস্ব নোটে একাধিক বার ভোটার তালিকার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীকরণ নিয়ে বক্তব্য জানিয়েছেন। নাম নথিভুক্ত করার সফ‌্টওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ যে ইআরও-দের হাতে নেই, তা-ও জানানো হয়। বুধবার প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দুই কমিশনার সঁধু এবং জোশীর অভিযোগ, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির বিষয়টি এখন আর বিকেন্দ্রীভূত ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় না। গোটা বিষয়টি নাকি নিয়ন্ত্রণ করেন সীমা খান্না। ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন এবং বাদ দেওয়ার কাজে ইআরও-দের ক্ষমতা হ্রাস করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে একাধিক বার প্রশ্ন তুলেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার।
ইতিমধ্যেই বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, দলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত ডিসেম্বরেই সীমার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিষেক বলেছেন, “আমার কাছে স্ক্রিনশট রয়েছে। সীমা খন্না নামে একজন মহিলা রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কী? দিল্লিতে কার নির্দেশে তিনি কাজ করছেন? তাঁর কথোপকথনের সমস্ত স্ক্রিনশট রয়েছে।” দুই নির্বাচন কমিশনার সঁধু এবং জোশী সেই সীমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় মমতা তৃণমূলের দাবি, তারা যে অভিযোগ তুলেছিল, তাতেই সিলমোহর পড়ল।

 

Scroll to Top