কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মিলছে বাজির পরিচয়! কেনাকাটা করতে ভিড় বাড়ছে দোকানে

৩৬৫ দিন। উৎসবের মরশুমে আতসবাজির বাজারে এবার নজর পরিবেশবান্ধব বাজির দিকে। কালীপুজো ও দীপাবলির আনন্দকে সামনে রেখে হাওড়ার চ্যাটার্জিপাড়ার ব্যাঁটরা সম্মিলনীর মাঠে জমে উঠেছে সবুজ বাজির মেলা। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলায় এবছর বসেছে মোট ৫০টি স্টল। প্রতিটি স্টলেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবুজ আতসবাজির সম্ভার। উদ্যোক্তাদের দাবি, বাজি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সচেতনতা বাড়াতে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কিউআর কোডের উপর। প্রতিটি বাজির প্যাকেটে রয়েছে নির্দিষ্ট কিউআর কোড ও সবুজ লোগো। মোবাইলের মাধ্যমে কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট বাজি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন ক্রেতারা।
ফলে কেনাকাটার সময় বাজির পরিচয় ও অনুমোদন যাচাই করার সুযোগ থাকছে। গত ২ নভেম্বর মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। পরদিন থেকেই শুরু হয়েছে কেনাবেচা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকছে মেলা। কালীপুজো পর্যন্ত চলবে এই বাজার। পুরনো পরিচিত বাজির পাশাপাশি এবার বেশ কিছু নতুন ধরনের আতসবাজিও সাজানো হয়েছে স্টলগুলিতে। সকাল থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাজি কিনতে আসছেন বহু মানুষ। বিক্রেতাদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শেষের দিকে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে। হাওড়া বাজি মেলা কমিটির সম্পাদক সৌমিত্র মণ্ডল জানান, মেলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক ব্যবসায়ীর বৈধ লাইসেন্স রয়েছে এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনেই বাজি বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, এই মেলার সঙ্গে শুধু উৎসবের আনন্দ নয়, জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের জীবিকা। সারা বছর বাজি তৈরির কাজে যুক্ত শ্রমিকদের পাশাপাশি মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও অন্যান্য কর্মীদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। একসময় ডুমুরজলায় বসত এই মেলা। গত প্রায় তিন বছর ধরে চ্যাটার্জিপাড়ার ব্যাঁটরা সম্মিলনীর মাঠেই আয়োজন করা হচ্ছে এই বাজির বাজার। সব মিলিয়ে উৎসবের কেনাকাটা, নতুন বাজির সম্ভার এবং কিউআর কোডের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ—এই তিনের মেলবন্ধনে দীপাবলির আগে হাওড়ার বাজি মেলা ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আকর্ষণ।

Scroll to Top