৩৬৫ দিন। চিনের প্রাক্তন রাষ্ট্রনেতা ও কমিউনিস্ট বিপ্লবের পথিকৃৎ মাও সে তুংকে নিয়ে তৈরি একটি ইন্টারনেট ‘মিম’ ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করে চরম বিপাকে পড়লেন ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপে। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। এক বিবৃতিতে এমবাপে জানান, তাঁর মন্তব্যটি ছিল অপরিণামদর্শী এবং তাঁর কথায় যাঁরা আঘাত পেয়েছেন, তাঁদের কাছে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না বলেও জানান এই তারকা।
ঘটনার সূত্রপাত ফরাসি অনলাইন শো ‘দ্য ব্রিজ’-এর একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এমবাপেকে তাঁর প্রিয় একটি ইন্টারনেট মিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “ভিডিওতে একজনের মুখ দেখা যায়। সম্ভবত তিনি একজন চিনা একনায়ক (ডিক্টেটর)।” ওই ভিডিওটিতে মাও সে তুংয়ের ছবির উপর এমবাপের মুখ বসানো হয়েছিল। ফুটবল দুনিয়ায় এমবাপের প্রভাব বোঝাতে ভক্তরা রসিকতা করে এমন মিম বানালেও চিনে মাও সে তুং অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শ্রদ্ধেয় এক ব্যক্তিত্ব। ফলে এমবাপের এই ‘একনায়ক’ মন্তব্য দেশটিতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
চিনের তীব্র প্রতিবাদের মুখে বড়সড় বাণিজ্যিক ধাক্কাও খেয়েছেন এমবাপে। দেশটির তিনটি শীর্ষস্থানীয় সংস্থা পানীয় প্রস্তুতকারক ‘ডংপেং’, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী ‘মেংনিউ’ এবং চিজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘মিল্কগ্রাউন্ড’ অবিলম্বে এমবাপের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা করেছে। প্রতিটি সংস্থাই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, জাতীয় ভাবাবেগে আঘাত হানে এমন কোনও আচরণ বা মন্তব্যকে তারা সমর্থন করে না। এছাড়া চিনা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডনোট-এ তাঁর নতুন ফলোয়ার যুক্ত হওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তাঁর প্রচারমূলক সমস্ত বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চিনা সামাজিক মাধ্যমে এই মুহূর্তে এমবাপেকে বয়কট করার ডাক শীর্ষ ট্রেন্ডে উঠে এসেছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুনও। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, চিনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হানলে সব মহল থেকেই এর সম্মিলিত বিরোধিতা হবে। সার্বিক পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ক্ষতি ও ভাবমূর্তি বাঁচাতে তড়িঘড়ি ক্ষমাপ্রার্থনা করতে বাধ্য হলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।





