৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের প্রথম ম্যাচে নর্থইস্ট দলের বিপক্ষে ভালো খেলে শেষ মুহূর্তে হেরেছিল মোহনবাগান। দ্বিতীয় ম্যাচে দিল্লির মাঠে লড়াই করে জিতেছিল তারা। সোমবার যুবভারতীতে চেন্নাইকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট এসেছে আবার। কিন্তু দলটার নাম যখন মোহনবাগান তখন শুধুমাত্র জয় সব কিছু নয়। সমর্থকরা মাঠে যান ভালো ফুটবল দেখবেন বলে, আনন্দ করবেন বলে। কিন্তু এই মোহনবাগান তাদের সেই আনন্দ দিতে পারছে না। দেখে মনে হচ্ছিল চেন্নাই নিজেদের ঘরের মাঠে খেলছে।
মোহনবাগান যেন কোনমতে ম্যাচটা শেষ হলেই বাঁচে। যে মোহনবাগানকে দেখে বছর দুয়েক আগেও বিপক্ষ দল ভয় পেত, এই মোহনবাগানের সঙ্গে সেই মোহনবাগানের বিন্দুমাত্র মিল নেই। ফুটবলারদের দেখে মনে হচ্ছে না তারা একসঙ্গে প্র্যাকটিস করেন। দলটা সবার আগে ট্রেনিং শুরু করেছিল। কিন্তু ডুরান্ড এবং আইএফএ শিল্ড খেলার পরেও ইন্ডিয়ান সুপার লিগ শুরু হয়ে গেলেও ফিটনেস বিশেষ উন্নতি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার গ্রিক কোচ পানোসকে দিশেহারা দেখাচ্ছে। আগে পঞ্জাব দলের দায়িত্ব সামলেছিলেন। মোটামুটি পারফর্মেন্স ছিল তার দলের। সেটা দেখে তাকে ভরসা করে নিয়েছিল বাগান ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে দুবার ফর্মেশন বদল করেছেন। নির্দিষ্ট পজিশনে কোন ফুটবলারকে রাখবেন নিজেই বুঝতে পারছেন না। আর গোলের নিচে বিশাল দুর্দান্ত পারফরমেন্স করছেন বলে টিকে আছেন বাগানের কোচ। না হলে হয়তো গোল্ডেন হ্যান্ডশেক হয়ে যেত এতদিনে। সব মিলিয়ে এই গ্রিক ম্যানেজার সম্ভবত মোহনবাগানের চাপ নিতে পারছেন না। বুঝেই উঠতে পারছেন না কি করা উচিত। যে দলের মাথা এরকম হয় সেই দলের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস কোথা থেকে আসবে? ম্যাচের পর দেখা গিয়েছে মোহনবাগান দলের এক উচ্চপদস্থ কর্তা মাঠের মধ্যেই কোচের সঙ্গে সিরিয়াস আলোচনা করছেন। সেই কর্তা যে বেশ বিরক্ত তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল ব্যাপারটা। কোচ অবশ্য বলতে পারেন আপুইয়া, মিগুয়েল এবং জেমীকে তিনি পাননি।
কিন্তু তার পরিবর্তে যারা ছিল তারাও একটা ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখে। এই মোহনবাগান দলের ভারতীয় প্লেয়ারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো বল ধরে রাখার ক্ষমতা সামাদের। তাকেই তিনি প্রথম থেকে নামাননি। দীপক টাংরি প্রত্যেক ম্যাচে প্রথম দলে থাকছেন। অনিরুদ্ধ থাপা তার থেকে কোয়ালিটিতে অনেক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও পরে নামানো হচ্ছে। অদ্ভুত ব্যাপার পঞ্জাবে তার অধীনে
বসনিয়ার সামির যে ফুটবল খেলেছিলেন বাগানে সেটা খেলতে পারছেন না। একমাত্র আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের বিপক্ষে তার গোলটা ছাড়া তার পারফরমেন্স চোখে পড়ার মতো নয়। কেন এত চোট হচ্ছে তার জবাবদিহি করতে হবে কোচকে। এত আগে ট্রেনিং শুরু করে তাহলে কি লাভ হল? দেখে মনে হচ্ছে মোহনবাগান কোচ নিজেই ঘেঁটে আছেন। এর থেকে সঞ্জয় সেন বা বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য অনেক ভালো কোচিং করতেন এরকম দল পেলে। মোহনবাগানের সামনে রয়েছে পাঞ্জাব এবং উড়িষ্যা ম্যাচ। যা খবর ভেতর ভেতর কোচের রিপ্লেসমেন্ট দেখতে শুরু করেছে ম্যানেজমেন্ট। তালিকায় ওয়েন কয়েল, রবি কিন রয়েছেন। রবি এটিকেতে ফুটবলার হিসেবে আগে খেলে গিয়েছেন। এই মুহূর্তে সফলতার সঙ্গে কোচিং করছেন। কয়েল জামশেদপুর এবং চেন্নাইয়ে কাজ করেছেন আগে। আইরিশ ম্যানেজার ডিরেক্ট ফুটবল খেলান। মোহনবাগানের প্রস্তাব পেলে রাজি হয়ে যাবেন। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে আগামী দুটো ম্যাচের ওপর। জিতে গেলে টিকে যেতে পারেন বাগান কোচ। না হলে তার জন্য মোহনবাগানের চ্যাপ্টার ক্লোজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।



