বনগাঁয় সিপিএমের বুক স্টল বানানোর নির্দেশে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের

৩৬৫ দিন। বনগাঁয় সিপিএমের বুক স্টল তৈরির জন্য কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্ব দেন বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি, সিপিএমের পার্টি অফিসের সামনে যে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তা অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সিপিএম এর আবেদনের প্রেক্ষিতে বন্যায় সিপিএমকে বুক স্টল তৈরির অনুমতি দিয়েছিলেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের করে রাজ্য সরকার।
সম্প্রতি বনগাঁ এবং নৈহাটিতে দুর্গাপুজোয় ২ বুকস্টল করতে চেয়ে আবেদন জানায় সিপিএম। কিন্তু অভিযোগ, তাতে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। যা ঘিরে শুরু হয় আইনি সংঘাত। রাজ্য প্রশাসনের কাছে অনুমতি না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম। কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের যাবতীয় আপত্তির কথা শোনার পরে বিচারপতি কঠোর পর্যবেক্ষণের সঙ্গে জানিয়ে ছিলেন, পুজোর সময় পুজো মণ্ডপের পাশে যদি বেলুন বন্দুকের দোকান অথবা লটারি টিকিট বিক্রির দোকান থাকতে পারে তাহলে সিপিএমের পক্ষ থেকে বইয়ের স্টল দেওয়া হলে সমস্যা কোথায়? এমন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে এবং প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন অবিলম্বে যশোর রোডে সিপিএমের পার্টি অফিসের কাছেই পূজা মণ্ডপের থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে সিপিএমের বুক টল তৈরির অনুমতি দিতে হবে।বনগাঁর যশোর রোডে সিপিএমের এই বুকস্টল পূজা মণ্ডপের ১০০ মিটারের মধ্যে করা যেতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং উৎসবের দিনগুলিতে আইনশৃঙ্খলা যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারকে গোটা বিষয়টি নিয়ে একটি রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়েছিল আদালতে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল, অন্যেরা যখন স্টল বসিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন, তখন একটি রাজনৈতিক দল বা আবেদনকারীদের বই বিক্রির অনুমতি থেকে বঞ্চিত করা সঠিক নয়। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শকে সম্মান জানানো এবং তাকে গুরুত্ব দেওয়া সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ। বর্তমান প্রশাসন সেই বিষয়টি সুনিশ্চিত করবে বলেই আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গেল বেঞ্চের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গতকাল রাতেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। মধ্যরাতে মেল করে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে রাজ্য৷ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পুজো অবকাশকালীন বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানানো হয়।
কি জানালো প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ
আজ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ সমস্ত দিক বিবেচনা করে একক বেঞ্চের সেই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। পাশাপাশি, পার্টি অফিসের সামনে যে নতুন স্ট্রাকচার তৈরি করা হয়েছে, তা অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফ থেকে। আজ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি মহম্মদ সাব্বার রশিদির পুজো অবকাশকালীন বিশেষ বেঞ্চ গতকালের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে৷ আদালতের পর্যবেক্ষণ, অনুমতি ছাড়া কোনও স্টল তৈরি করা যায় না৷ বনগাঁয় সিপিএমের পার্টি অফিসের সামনে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের স্টলটি যদি অনুমতি না থাকে, তাহলে সেই স্টলও ভেঙে ফেলতে হবে। সিপিএমের আইনজীবী জানান, বহু বছর ধরে ওই এলাকায় পুজোর সময় স্টল বসানো হলেও কখনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাঁরা পূর্ত দফতর ও হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন বলেও জানান।
রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, ওরা সিঙ্গল বেঞ্চে বেশ কিছু তথ্য লুকিয়েছিল৷ আজ শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বইয়ের স্টল দেওয়ার অনুমতি দেননি৷ তখন সিপিএম রাস্তার সামনে একটি টেবিল ও ছাতার তলায় বইয়ের স্টল দেওয়ার আবেদন জানায়৷ কিন্তু ওদের কনডাক্টের জন্য সেই অনুমতিও দেননি প্রধান বিচারপতি৷ অন্য কেউ রাস্তা দখল করে স্টল করলেই যে আরেকজনকে রাস্তা দখল করে স্টল করার অনুমতি দেওয়া যায়, এই যুক্তিকে কেউ অনুমতি পেতে পারে না।

Scroll to Top