জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ‘শাস্তি’
৩৬৫ দিন। যন্তরমন্তরে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে গ্রেফতার হতে হয়েছে ককরোচ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসদের। তার প্রতিবাদে দিল্লির কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার কর্মসূচি শুরুর আগেই দীপকে-কে আটক করল দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের কাছ থেকে আটক করা হয় আইসা নেত্রী নেহা বোরাকেও। পুলিশের বাধার পরেও কনট প্লেস সেন্ট্রাল পার্কের কাছাকাছি চলে আসেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের টেনে হিঁচড়ে পুলিশ গাড়িতে তোলে বলে অভিযোগ।
সকালে বাড়ি গিয়ে দীপকে-কে নোটিশ
কনট প্লেসে যাতে কোনো ভাবেই ককরোচদের তেরঙ্গা ওড়াও কর্মসূচি দানা বাঁধতে না পারে তার জন্য পরোক্ষে চাপ তৈরীর কৌশল নেয় দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসে আগেই ১৬৩ ধারা জারি করে দেওয়া হয় পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মাত্র ১১ জনকে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে পতাকা ওড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়। পুলিশ জানতো এই হাস্যকর নির্দেশ ককরোচরা মানবে না। তাই তাদের ওপর চাপ বাড়াতে শুক্রবার বেল বাড়তেই দিল্লির যে আবাসনে দীপকে থাকছেন সেখানে পৌঁছে যায় দিল্লি পুলিশ। তিন জন মহিলা অফিসার ও দু’জন পুরুষ অফিসার দীপকের সঙ্গে দেখা করে তাকে একটি নোটিশ ধরান। এই নোটিশের মোদ্দা কথা হল, কনট প্লেসে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে তাই তিনি যেন তেরঙ্গা ওড়াও কর্মসূচি বাতিল করে দেন। এক পুলিশ অফিসারের সঙ্গে নোটিশ পাওয়ার পর দীপকের একটি কত্থপোকথন সামনে এসেছে। যেখানে তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “এ সব আপনারা কী ধরনের তামাশা শুরু করেছেন! এটাকে আবার নোটিস বলে নাকি? আপনাদের যা মনে আসছে, সেটাই আপনারা লিখে দিচ্ছেন।” সাদা টি-শার্টে মহাত্মা গান্ধীর ছবি এবং নীল ডেনিম পরা দিপকে পুলিশের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে কটাক্ষের সুরে বলেন, “ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিন না! এ আবার কেমন রসিকতা?” চ্যালেঞ্জ করে বলেন, তিনি যে সাধারণ মানুষকে হিংসায় উস্কে দিয়েছেন, এমন একটিও ভিডিও পুলিশ দেখাতে পারবে না।
বাড়ি থেকে বেরতেই গ্রেফতার দীপকে
বিকেল ৪ টে নাগদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে কনট প্লেসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন দীপকে। তার গাড়ি ও আবাসন গোটাটাই ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ ও আধ সেনা। গাড়ি থেকে তাকে নামতে বলা হয়। গাড়ি থেকে দীপকে নামতেই তাকে একপ্রকার ঠেলতে ঠেলতে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। ভিডিওতে দেখা যায় দীপকে বার বার জানতে চাইছেন কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে? তার অপরাধটা কী? তার কোনো উত্তর না দিয়ে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পরে দিল্লি পুলিশের একটি সূত্র জানায় দীপকে ও আইসা নেত্রী নেহাকে সতর্কতামূলক আটক করা হয়েছে। এদিকে যখন কনট প্লেসে যেতে গিয়ে দীপকে-নেহারা আটক হচ্ছেন তখন স্যোসাল মিডিয়ায় জাতীয় পতাকার গরিমা ব্যখ্যা করে পোস্ট করে দিল্লি পুলিশ। সেখানে বলা হয়, দেশের পতাকা সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়ার যোগ্য। জাতীয় পতাকাকে সম্মান করুন। দেশের গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখুন।
গণতন্ত্রের ওপর হামলা
দীপকের গ্রেফতারির প্রতিবাদে সিজেপির তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয় যেখানে দীপকের গ্রেফতারির নিন্দার পাশাপাশি গোটা ঘটনাকে গণতন্ত্রের ওপর হামলা বলে বর্ণনা করা হয়। ককরোচদের অভিযোগ, গ্রেফতারির সময় দেখা যাচ্ছে অভিজিৎ দীপকে সম্পূর্ণ একা। হঠাৎ করে তিনি যখন গাড়িতে উঠছেন তখন তার গাড়ি ঘিরে ফেলা হল তার পর তিনি যখন নামলেন তখন তাকে গাড়িতে তুলে দেওয়া হল। এটা কী ধরণের আচরণ? দীপকে নিজেও বার বার বলছিলেন, ‘আমি তো একা!’ তারপরেও কোন যুক্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হল? দেশে তেরঙ্গা ওড়ানো কী দেশদ্রোহীতা? তাহলে তো দেশপ্রেমী হওয়াটাও আইনত অবৈধ! কনট প্লেসকে যে ভাবে দুর্গে পরিণত করা হয়েছে তার-ও সমালোচনা করে ককরোচরা। তাদের খোঁচা, এবার একটু মানুষকে শ্বাস নিতে দিন্। তেরঙ্গা ওড়ানোর জন্য আমাদের গ্রেফতার করবেন! কত জনকে এ ভাবে গ্রেফতার করবেন? দেশের আইন আপনাদের এই ক্ষমতা দেয় কী?
ককরোচদের বাংলাদেশ যোগ!
ককরোচ জনতা পার্টিকে আক্রমণে এবার রাজনাথ সিংকে ময়দানে নাম আলো বিজেপি। শুক্রবার সিজেপি-কে তীব্র আক্রমণ করে রাজনাথ বলেন, ককরোচ জনতা পার্টি যে আন্দোলন করছে তার একটাই লক্ষ্য দেশ জুড়ে অশান্তি পাকানো। মুখে ওরা বলছে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওদের আন্দোলন কিন্তু আসলে ওরা কেন্দ্রে নির্বাচিত সরকাররে ফেলে দিতে চাইছে চক্রান্ত করে। এরপর বিস্ফোরক অভিযোগ করে রাজনাথ বলেন, ককরোচদের আন্দোলনে যুক্ত এক নেত্রী তো বাংলাদেশের সমর্থন পেয়ে আপ্লুত। এখানেই বোঝা যাচ্ছে এই আন্দোলনের পেছনে কারা আছে আর তাদের আসল উদ্দেশ্য কী। ইন্দিরার জরুরী অবস্থা, ইন্দিরা হত্যার পর শিখ দাঙ্গা, ১৯৯০ সালে করসেবক হত্যা প্রসঙ্গ টেনে রাজনাথ কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন। রাজনাথের এই অভিযোগের পাল্টা দিয়েছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, “প্রণববাবু বলতেন, গণতন্ত্রে বিরোধী দলের কাজই হল সরকারের বিরোধিতা করা, ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো।”






