রহস্যে মোড়া খুন!
নিজেদের বাড়িতেই উদ্ধার মহিলার দেহ

৩৬৫ দিন। মেঝেয় পড়ে রয়েছে চাপ চাপ রক্ত! এক পাশে পড়ে রয়েছে মহিলার দেহ, পঞ্চমীতে হাড়হিম ঘটনা হুগলির চুঁচুড়ার প্রতাপপুরে। নিহত গৃহবধূর নাম সানন্দা বারিক। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে সানন্দাকে। ঘটনার পর থেকে খোঁজ নেই সানন্দার স্বামী মোহনের। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মোহন বারিক আদতে ওড়িশার বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে চুঁচুড়ায় সপরিবার ঘর ভাড়া নেন তিনি। বাড়িতে তার স্ত্রী সানন্দা ছাড়াও ওই দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মোহন বড়বাজারে একটি শাড়ির কোম্পানিতে মার্কেটিং বিভাগে কাজ করতেন।
}বড়বাজার থেকে শাড়ি কিনে নিজেরাও ব্যবসা করতেন। এই সূত্রে সানন্দাও নিয়মিত বড়বাজার আসতেন। শেষ বার মঙ্গলবার ওই দম্পতিকে একসঙ্গে দেখেছিলেন স্থানীয়রা। দুজনে একসঙ্গে বড়বাজার গিয়েছিলেন। রাতে ফিরেও আসেন। বুধবার সানন্দা তার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তখন পর্যন্ত সব স্বাভাবিক ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ওই দম্পতির আর কোনো কোনও খোঁজ মিলছিল না।‌ বৃহস্পতিবার প্রায় সারা দিন ঘরের দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের পেছন দিকের একটি জানলা কোনও রকমে খুলে তারা দেখেন ঘরের মেঝেতে চাপ চাপ রক্ত আর তার পাশে সানন্দা‌ পড়ে রয়েছেন।‌ খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে সানন্দার দেহ উদ্ধার করে ইমামবাড়া হাসপাতালে ময়নাতদন্তে পাঠায়। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে কোনো সময় সানন্দাকে খুন করা হয়। মেঝেতে যে পরিমাণ রক্ত ছিল তা দেখে পুলিশের অনুমান অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মৃত্যু হয় সানন্দার। তার স্বামী যেহেতু নিখোঁজ তাই প্রাথমিক ভাবে তাকেই সন্দেহ পুলিশের। তবে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সানন্দার সঙ্গে মোহনের বিয়েতে সানন্দার পরিবারের প্রথমে মত ছিল না।‌ কারণ, মোহন সানন্দাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিল। পরে অবশ্য সব মিটমাট হয়ে যায় তাই পারিবারিক বিবাদের জেরে এই ঘটনা কি না তাও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

Scroll to Top