৩৬৫ দিন । স্নেক ইন দি প্লেন না হয়েও স্নেক ইন দি এয়ারপোর্টও যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে তা বিলক্ষন টের পাচ্ছেন বিমানবন্দরের কর্মীরা। আর এর ভয়ে কার্যত বেশ আতঙ্কেই থাকেন দেশের অন্যতম ব্যস্ত নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টের সব স্তরের কর্মচারীরা ।দমদম এয়ারপোর্টে তিনজন সাপুড়ে গত মঙ্গলবার তন্নতন্ন করে খুঁজেও সাপের টিকিটি না পেলেও সাপ যে সেখানে আছে তা জানালেন এয়ারপোর্টে কর্মরত নানা বিভাগের কর্মীরাই ।
প্রায় আড়াই লক্ষ স্কোয়ার মিটার জুড়ে 101 বছরের পুরোনো এই বিমানবন্দর আধুনিক হলেও এখনো তার চারিদিকে প্রচুর ঝোপঝাড় আছে । পুরোনো এয়ারপোর্টের পশে নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি ) র কর্মীরা গত সপ্তাহে অভিযোগ করে যে দোতলায় তারা একটি হলুদ কালো ছোপের সাপকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে যেতে দেখেছেন। এরপরেই বারাসাত ফরেস্ট রেঞ্জ থেকে তিনজন সাপুড়েকে পাঠানো হয় এ টিসিতে সাপের ডেরা খুঁজেতে ।কিন্তু তারা জানিয়েছে যে তারা সেখানে সেরকম কিছুই খুঁজে পাননি ।তবে শুধু সাপই নয় এর আগে শেয়াল , বনবিড়াল ও বিমানবন্দরের ভিতরে এমনকি রানওয়েতে দেখা গেছে ।
তবে যশোর রোডের পশে অবস্থিতিত এই বিমানবন্দরের নানা জায়গায় ঝোপঝাঁপ রয়েছে সেখানে সাপ থাকা মোটেই অস্বাভাবিক নয় । অন্যদিকে পুরোনো বিমানবন্দরের বাড়িটি পরিত্যক্ত হওয়াতে সেটিও হয়ে উঠেছে সাপ, ইঁদুরের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এ টি সি তে নাইট শিফটে কাজ করেন এক কর্মী জানিয়েছেন তারা রাতে মূল বিল্ডিং থেকে এ টি সি তে এলে রীতিমতো টর্চলাইট নিয়ে বেরোন ।এছাড়াও তারা নির্দিষ্ট একটি রাস্তাতেই যাওয়া আসা করেন ও বহুবার সাপকে পুরো বিল্ডিং থেকে থানার দিকে ও থানা থেকে পুরোনো শিবমন্দিরের দিকে অনেকবার যেতে দেখা গেছে । শুধু তারাই নয় কার্গো গেটের কর্মীরাও এই এই সাপের আতঙ্কে ভোগেন। তাদের এক কর্মী জানান মাল খালাস করতে অনেক সময়ই রাত হয়ে যায় ।ফলে বহুবার তারা সাপ দেখেছেন ওই এলাকায় ।
বিধাননগর রেঞ্জের বনবিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন এর আগেও তারা পুরো এয়ারপোর্ট এর পাঁচিল ঘেরা এলাকা পরিক্রমা করে দেখেছেন ও কয়েকটি জায়গা সন্দেহ হওয়াতে সেগুলো সরিয়েও দিয়েছেন ।কিন্তু শিরপোর্টের পাঁচিলের মধ্যেই যে এলাকায় সাপের বাসা রয়েছে বলেই তার অভিমত ।তার মোর এখানে বিষাক্ত ও নির্বিষ উভয় জাতের সাপের বাস । বিষাক্তদের মধ্যে আলকেউটে , চন্দ্রবোড়াই মূলত দেখা যায় এই সব এলাকায় নির্বিষ প্রজাতির মধ্যে দাঁড়াশ, বাতেছরা, চিতি ধরণের সাপেরই আধিক্য বিমানবন্দর এলাকায় । ও আধিকারিক জানিয়েছেন এই সাপ গুলি গাছ , জলের পাইপ এমনকি ওভারহেড কেবল বেয়েও উঠতে পারে ।ফলে দোতলা তে সাপের ওঠা মোটেই অস্বাভাবিক নয় ।





