মহানায়ককে শ্রদ্ধা চেনা অচেনা উত্তম

৩৬৫দিন।  সময় অনেক নক্ষত্রের আলোই কেড়ে নেয়, কেউ কেউ রয়ে যান কেবল স্মৃতির আড়ালে। আর ব্যতিক্রম হয়ে থেকে যান কিংবদন্তিরা যাঁরা যুগ থেকে যুগান্তরে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন। মহানায়ক উত্তম কুমার সেই ব্যতিক্রমেরই নাম, যাঁর জাদু আজও বাংলার গান, গল্প ও অনুভূতিতে একইভাবে উজ্জ্বল। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের ধ্রুবতারা, বাঙালির আবেগ, রোমান্টিসিজম ও মননের অপরিসীম প্রতীক মহানায়ক উত্তম কুমার। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তি অভিনেতার জীবন ও সৃষ্টির একশো বছর পূর্ণ হলো। শতবর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষণেও বাংলা সিনেমার আকাশে উত্তম কুমার এক ধ্রুবতারা, যাঁর দীপ্তি আজও এতটুকু ম্লান হয়নি। মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কেসিসি- এ মাধ্যমে আয়োজিত হয়েছে বিশেষ সঙ্গীতসন্ধ্যা ‘চেনা অচেনা উত্তম’। সুর ও স্মৃতির এই অনন্য সন্ধ্যায় উপস্থিত থাকবেন আর্টিস্ট ফোরামের বিশিষ্ট সদস্যরা। যাদের ছবির পর্দায় দেখা যায় এই অভিনেতা অভিনেত্রীরা উত্তম কুমারের জীবনের বিশিষ্ট পরিস্থিতি গুলোকে সুন্দর সঙ্গীত সন্ধ্যার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই সন্ধ্যায় উত্তম কুমারের কালজয়ী গানগুলি পরিবেশন করবেন অরিন্দম গাঙ্গুলী, রজতাভ দত্ত, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, রুকমা রায়, কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কৌশিক চক্রবর্তী, সুজন নীল মুখোপাধ্যায়, শ্যামাশিস পাহাড়ি এবং অরিজিতা মুখোপাধ্যায়ের মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী ও অভিনেত্রী বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়। অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী এই অনুষ্ঠানটির অন্যতম সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানান, নিজের গলায় সুর না থাকলেও, তিনি অত্যন্ত সফলভাবে পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন। অনুষ্ঠানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং উপস্থিত দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত হাততালি ও ভালোবাসা দেখে তিনি গভীর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। এই ধরনের মহৎ ও ব্যতিক্রমী আয়োজন সচরাচর দেখা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তম কুমারের শতবার্ষিকী তো বারবার ফিরে আসবে না, তাই এই আয়োজনটি তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ ছিল। অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুপ্ত ইচ্ছা থাকলেও গলায় সুর না থাকায় তিনি আড়ালেই গান গাওয়ার কথা মজার ছলে উল্লেখ করেন। সঞ্চালক হিসেবে তাঁকে কোনো গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি কোন গানটি বেছে নিতেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি হাসিমুখে সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ‘প্যাঁচাকয় প্যাঁচানি’ কবিতার কথা উল্লেখ করেন। এই আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে, আর এই পুরো অনুষ্ঠানটির আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন অভিনেতা ও নির্দেশক অরিন্দম গাঙ্গুলী। অনুষ্ঠানটি সফল করতে এবং শিল্পীদের নিয়ে সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে শুরু থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। অভিনেতা অরিন্দম গাঙ্গুলীর বক্তব্যনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এখানে যাদের দিয়ে গান গাওয়ানো হচ্ছে, তাদের প্রায় সবাই পেশাদার অভিনেতা-অভিনেত্রী। অভিনয়ের পাশাপাশি তারা যে গান পরিবেশনেও পারদর্শী, তা রিহার্সেলেই প্রমাণ করেছেন। সীমিত সময়ে প্রস্তুতি মধ্যে লম্বা সময় ধরে রিহার্সেস না হলেও, মাত্র একদিনের রিহার্সেসেই শিল্পীরা গানগুলো আয়ত্ত করে নিয়েছেন এবং চমৎকারভাবে তা গাইছেন। অরিন্দম গাঙ্গুলী স্ক্রিপ্ট তৈরির সময় শিল্পীদের তালিকা পাঠিয়েছিলেন, যাতে তারা নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী গান বেছে নিতে পারেন।

Scroll to Top