মোহনবাগান: ০
পাঞ্জাব এফসি: ০
টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে মোহনবাগান জয়ী
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ কিশোর ভারতী স্টেডিয়াম থেকে মোহনবাগান বনাম পাঞ্জাব ম্যাচ শেষে যখন বেরিয়ে আসছিলেন সমর্থকরা বেশিরভাগের গলায় একটাই সুর, মোহনবাগানের সব ফুটবলারদের মাইনে দিয়ে দেওয়া হোক গোলরক্ষক বিশালকে। তারা একেবারেই ঠিক কথা বলেছেন। চুক্তির ভিত্তিতে সেটা হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু ফুটবল খেলা যদি একটা দলের মাপকাঠি হয় তাহলে সমর্থকদের এই আবদার একেবারে ফেলে দেওয়ার নয়। এই মোহনবাগান দলটা জঘন্য ফুটবল খেলছে গত কয়েক মাস ধরে। ডুরান্ড কাপ ফাইনালেও উঠেছিল নর্থইস্ট দলের বিপক্ষে জিতে। নির্ধারিত সময়ে সেদিনও ম্যাচ ছিল ড্র। টাইব্রেকারে বাগানকে জয় এনে দিয়েছিলেন সেই বিশাল কাইথ। আজকেও আইএফএ শিল্ড সেমিফাইনালে এক গল্প। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে নির্ধারিত এবং অতিরিক্ত সময় গোল হল না একটিও। টাই ভাঙার ম্যাচে আবার বিপক্ষ দলের দুটো শট বাঁচিয়ে নায়ক বাগান কিপার বিশাল। মনে হয় সাম্প্রতিক সময় মোহনবাগান গোল করে ম্যাচ জিততে ভুলে গেছে। বিশাল ছাড়া তাদের গতি নেই। গোটা নব্বই মিনিট মোহনবাগানের খেলা নিয়ে যত কম লেখা যায় ততই ভালো। অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং একঘেয়ে ফুটবল। গ্রিক কোচ পানোস ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল এর কাছে চার গোল খাওয়ার পর বলেছিলেন আমরা দ্রুত উন্নতি করব। শিল্ড ফাইনালে উঠে গেল মোহনবাগান। তিনটে ম্যাচ খেলে ফেলল। কিন্তু উন্নতি কোথায়? ফিটনেসর ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বোঝাপড়া, জায়গা নেওয়া, বল ছাড়া, একে অপরের সঙ্গে টেলিপ্যাথি – আজ থেকে কুড়ি দিন আগে যে জায়গায় ছিল এখনও সেখানেই। এই প্রশ্নের উত্তর একমাত্র বাগান কোচ দিতে পারবেন। মিগুয়েল একটু দৌড়াদৌড়ি করেছেন, কিন্তু ইস্টবেঙ্গলে যে ছন্দে তাকে দেখা যেত সেটা এখনও মিসিং। সমীর জেলকোভিচ তবু আজ পরিশ্রম করেছেন। ওপরে একা পড়ে যাচ্ছিলেন স্কটল্যান্ডের লি আরউইন। চাঙতে, লিস্টন কেউ তাকে একটা ভালো গোল করার মত বল দিতে পারলেন না। বোঝা গেল সাহালের অভাবটা। মনবীরও ভারতের হয়ে খেলছেন। অনিরুদ্ধ থাকলে মাঝখানটা যেভাবে কন্ট্রোল করেন সেটা পারছেন না দীপক। ডান দিক থেকে অভিষেক যে গতির সঙ্গে ওভারল্যাপ করেন সেটাও হচ্ছে না। তার ওপর চোট পেলেন আসিস রায়। তার অভাবটাও পরিষ্কার বাগানে। তবু দিনের শেষে জয় এবং ৩ পয়েন্ট পাওয়া আসল। সেটা পেয়েছে গঙ্গা পাড়ের দল। ম্যাচ শেষে মোহনবাগানের কোচ বললেন, বক্সের মধ্যে ফিনিশিং করতে পারছে না তার দল।
ম্যাকলরেন কুঁচকির চোটে আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের প্রথম তিনটি ম্যাচ পর্যন্ত তিনি খেলতে পারবেন না। তার না থাকাটাও বাগানের কাছে একটা ধাক্কা। অন্যদিকে পঞ্জাব দলটা যে লড়াকু সেটা বোঝা গেছিল ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। তাই মোহনবাগানের পক্ষেও তারা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়বে আশা ছিল। রবিবার সেটাই দেখাল শেররা। সোমবার অর্থাৎ আজ ইস্টবেঙ্গল খেলবে নর্থইস্ট দলের বিপক্ষে। অত্যন্ত কঠিন ম্যাচ। জিতলে ডুরান্ড কাপের পর আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে আরও একটা ডার্বি অপেক্ষা করছে ফুটবল প্রেমীদের জন্য।




