পুরনো শত্রুতার জেরে সোনারপুরে গণপিটুনিতে মৃত্যু, গ্রেপ্তার তিন

৩৬৫ দিন।সৌগত মণ্ডল। পুরনো শত্রুতার জেরে সোনারপুরে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা ঘটলো। রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় বন্দুক হাতে হামলা চালাতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন এক দুষ্কৃতী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানার অন্তর্গত কামরাবাদ ফুলোরহাটের আম্বেদকর নগর এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম গোপাল হালদার। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পুরানো শত্রুতা ও খুনের ঘটনার জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। ঘটনাচক্রে রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই এলাকাতেই 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেড়ানোর কয়েক দিনের মধ্যে গত ৩০ মে গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপাল হালদার সহ তিন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হঠাৎই এলাকার বাসিন্দা কেবো হাজরার বাড়িতে চড়াও হয়। ঘরের ভিতর হামলা চালানোর সময় পরিবারের লোকজন চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীদের দেখতে পেয়েই গোপালের সঙ্গে থাকা বাকি দুই সঙ্গী চম্পট দেয়। তবে গোপালকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপরেই শুরু হয় গণধোলাই। উত্তেজিত জনতার বেধড়ক মারধরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গোপাল। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
যদিও গোপালের নেতৃত্বে এই হামলা চালানোর ঘটনা একেবারেই হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন শত্রুতার জেরে নয় বলেই প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পরে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন এই হামলার পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুরনো শত্রুতার ঘটনা। বাড়ির মালিক কেবো হাজরার দাবি, বেশ কয়েক বছর আগে তাঁর ছেলে লাল্টু হাজরাকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। সোনারপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারও করেছিল। পুলিশের তরফেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, লাল্টু হাজরা খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন নিহত গোপাল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন এই গোপাল হালদারই। গোপালের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই বদলা নিতে সঙ্গী সাথী নিয়ে বন্দুক হাতে গোপাল হামলা চালিয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।

Scroll to Top