ইস্টবেঙ্গলকে হারাল পঞ্জাব, গ্রুপ টপ হওয়া হাতছাড়া লাল হলুদের

পঞ্জাব এফসি -১ (দিয়েগো)
ইস্টবেঙ্গল – ০

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী।  ৫১ বছর আগে আজকের দিনেই আইএফএ শিল্ড খেলায় মোহনবাগানকে ৫ গোল দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। যেটা নিয়ে মশাল বাহিনীর গর্ব আজও শোনা যায়। এই ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইস্টবেঙ্গল মুখোমুখি হয়েছিল পঞ্জাব এফসির। টুর্নামেন্ট ছিল সেই আইএফএ শিল্ড। ইস্টবেঙ্গল আগে থেকেই সেমিফাইনালে কোয়ালিফাই হয়ে গিয়েছিল এই ম্যাচটা শুরুর আগে। তাই সে দিক থেকে দেখতে গেলে গুরুত্বহীন ম্যাচ ছিল এটা। তবে যতই গুরুত্বহীন হোক মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের নিজেদের ঘরের মাঠে হার মেনে নেওয়া সব সময় কঠিন। কিন্তু সেটাই আজ করে দেখাল পঞ্জাব। এক গোলে তারা হারিয়ে দিল লোপেজ হাবাসের দলকে। যেটা ছন্দে থাকা ইস্টবেঙ্গল দলটার পক্ষে ভালো খবর হতে পারে না। শুরু থেকেই আক্রমণের আধিক্য ছিল পঞ্জাবের।
মনে রাখতে হবে আজকের আগে কাস্টম দলটাকে সাতটা গোল দিয়েছিল পঞ্জাব। প্রথমার্ধে বল দখলও বেশি ছিল তাদেরই। ৩০ মিনিটে আলফ্রেড ময়ার চেষ্টাকে দ্রুত এগিয়ে এসে ব্যর্থ করে দেন গোলকিপার ফুরবা লাচেনপা। ৩৭ মিনিটে মেসির ফ্রিকিক নিষ্ফলা। তবে ৪১ মিনিটে এগিয়ে যায় পঞ্জাব। বল ঠিকমতো বিপদমুক্ত করতে পারেননি লালচেংনুঙ্গা। সেই বল সরাসরি চলে যায় মেসি বাউলির কাছে। ডানদিক থেকে তিনি ক্রস রাখেন। জোরালো শটে গোল করেন দিয়েগো রাপোসো। দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার ছিল না ইস্টবেঙ্গল গোলকিপারের। ৪৪ মিনিটে দারুণ জায়গা থেকে ফ্রিকিকের সুবিধা নিতে পারলেন না ইকনোমিডিস। প্রথমার্ধ শেষ হয় পঞ্জাবের পক্ষে ১-০ অবস্থায়। রোহিত দানুকে তুলে পিভি বিষ্ণুকে নামালেন হাবাস।
ম্যাচে ফিরতে ‘ফ্রেশ লেগ’ কাজে লাগানোর চেষ্টা ছিল লাল-হলুদ কোচের। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হল না। ৬০ মিনিটে ফের আক্রমণে উঠল পঞ্জাব। ফের সুযোগ তৈরি করলেন মেসি বউলি। এর পরেই দুই দলই জোড়া পরিবর্তন করে। পঞ্জাবের হয়ে মাঠে নামলেন মহম্মদ সুহেল ও বিশাল যাদব, ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে নামলেন জিকসন সিং ও বিপিন সিং।৯০ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে বাঁক খাওয়ানো দুর্দান্ত শট নেন বিপিন সিং। গোলের দিকেই ছিল শট। বিপদ সামলান পঞ্জাবের গোলকিপার অর্শদীপ সিং। ৯০+২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পাঞ্জাবের নিখিল প্রভু। বাকি সময়টা অতিরিক্ত ৭ মিনিট চেষ্টা করেও গোল করতে পারেনি লাল হলুদ। এদিন অবশ্য রশিদ এবং দানিকে খেলানো হয়নি। তবুও সমর্থকদের সামনে এই পারফরমেন্স কিছুটা হলেও মেনে নেওয়া কঠিন হবে ইস্টবেঙ্গল কোচের পক্ষে। অন্যদিকে পাঞ্জাব সেমিফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করে নিল। ইস্টবেঙ্গল হয়তো এই হারের কারণে খুব একটা ক্ষতির মুখে পড়বে না, কিন্তু এই হার কিছু প্রশ্ন অবশ্যই তুলবে। পাঞ্জাব দলটার গতি এবং শক্তি কতটা সেটা প্রমাণ হয়েছিল কাস্টম ম্যাচে। আজ তারা আবার ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে সেই কথা প্রমাণ করল। হাবাস খেলার শেষে জানিয়েছেন পঞ্জাব দারুন ফুটবল খেলেছে। এই রেজাল্ট তার ছেলেদের বাস্তবটা বুঝিয়ে দিল। তিনি আশা রাখছেন সেমিফাইনালে তার ছেলেরা ঘুরে দাঁড়াবে। এই রেজাল্ট সেখানে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।

Scroll to Top