ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটছিল বিএমডব্লিউ,নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজ ভেঙে ৭৫ ফুট নীচে পড়ল গাড়ি নিহত ৩ আশঙ্কাজনক ১

৩৬৫ দিন। ভোরের আলো তখন সবে ফুটতে শুরু করেছে। ঘড়ির কাঁটায় ৫.২০ মিনিট। বম্বে মেরিন ড্রাইভ থেকে হাজি আলির দিকে বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে আসছে একটা কালো বিএমডব্লিউ।‌ আচমকা একটা বিকট আওয়াজ।‌ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই গাড়ি সোজা গিয়ে পড়ল উড়ালপুল ৭৫ ফুট নীচে। দুমরে মুচড়ে একেবারে তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে সেটি। তার ভেতরে আটকে চারটি ছেলে। প্রত্যেকেই কলেজ ছাত্র। রবিবার ভোরে মুম্বাইয়ে ভয়ঙ্কর এই দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩ জনের। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়ির চার আরোহীর মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতেরা হলেন সনয় গুজ্জর (২১), আদিত্য জকাসানিয়া (১৯) এবং ধৈর্য শেঠ (১৭)।
গুরুতর জখম হয়েছেন আদিত্য ওসবাল। তিনি চালকের পাশের আসনে বসে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি চালাচ্ছিলেন গুজ্জর। গাড়িটি তাঁর পরিবারের। ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে গাড়িটি ছুটছিল। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন গুজ্জর। প্রথমে উড়ালপুলের উপরে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা মারে গাড়িটি। তার পর রেলিংয়ে ধাক্কা মেরে সেটি নীচে আছড়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তের পর  পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ৩ ছাত্র এবং যে চিকিৎসাধীন রয়েছে তারা প্রত্যেকেই গুজরাতের বাসিন্দা। শনিবার রাতে তারা মেরিন ড্রাইভে গিয়েছিল। ভোরে বাড়ি ফেরার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মনে করা হচ্ছে অত্যধিক গতির জন্য-ই কোনো ভাবে গাড়ির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। আর তখন-ই বিএমডব্লুউ গাড়ি ব্রিজের রেলিং ভেঙে সোজা নীচে গিয়ে পড়ে। ঘটনার সময়কার বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশ পেয়েছে সেগুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ।‌ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে রেস করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা কি না। গাড়িতে থাকা চার জন নেশাগ্রস্থ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে সেই রিপোর্ট এলে নেশার বিষয়টি পরিষ্কার‌ হবে তবে প্রাথমিক ভাবে পুলিশ মোটের ওপর নিশ্চিত অত্যধিক গতির কারণেই দুর্ঘটনা। প্রশ্ন উঠছে মুম্বাইয়ে রাতে পুলিশের নজরদারি নিয়েও।

Scroll to Top