৩৬৫ দিন। শুভায়ন বন্দোপাধ্যায়। নিউটাউন ও মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে প্রস্তাবিত প্রায় ৫.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়ালপুলের নির্মাণ পরিকল্পনা ও প্রকল্পের খরচ রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতর নির্ধারণ করে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ দফতরে ফাইল পাঠানো হল। অর্থ দফতরের অধীন প্রকল্প অনুমোদন কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করার পর চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেবে। সেই অনুমোদন পাওয়ার পরই নির্মাণকাজের জন্য দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্য বাজেটে এই উড়ালপুল নির্মাণের জন্য ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা কেএমডিএ এই প্রকল্পের ব্যয় যাচাই করার জন্য রেলের সহযোগী সংস্থা রাইটসকে নিযুক্ত করা হয়। রাইটসের এর মূল্যায়নে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১,২১৮ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এরপর সেই সংশোধিত ব্যয়ের হিসাব নগরোন্নয়ন দফতরের মাধ্যমে অর্থ দফতরে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব কেএমডিএ-র হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত উড়ালপুলটি ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন মোড় থেকে শুরু হয়ে চিংড়িঘাটা মোড়ের উপর দিয়ে এগোবে। চিংড়িঘাটায় এটি ডানদিকে ঘুরে নিকো পার্কের দিকে যাবে এবং পরে ফের ডানদিকে ঘুরে সেক্টর ফাইভে প্রবেশ করবে। সেক্টর ফাইভে ওঠা ও নামার জন্য র্যাম্প থাকবে। নিউ টাউনের দিকে উড়ালপুলটির শেষ অংশটি পানাশে আবাসনের কাছাকাছি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে র্যাম্প, এলিভেটেড পার্কিং বেস, শব্দনিরোধক ব্যবস্থা, ব্রিজের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি নজরদারি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উড়ালপুল নির্মাণের ফলে নিউটাউন, সল্টলেক ও মধ্য কলকাতার মধ্যে যোগাযোগের একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে বলে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্তাব্যক্তি থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ মহল তাই মনে করছে।
উড়ালপুলটির একটি অংশ ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ডসের উপর দিয়ে যাওয়ার কথা। জলাভূমির পরিবেশের কথা মাথায় রেখে এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে উড়ালপুলের বৃষ্টির জল সরাসরি জলাভূমিতে না পড়ে। কেএমডিএ সূত্রের খবর, উড়ালপুলের সঙ্গে পাইপলাইন যুক্ত থাকবে এবং সেই পাইপের মাধ্যমে বৃষ্টির জল জলাভূমির বাইরের দিকে নিষ্কাশন করা হবে।
এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য চিংড়িঘাটা–নিকো পার্ক সড়কের যানজট কমানো। বর্তমানে ওই প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘক্ষণ সময় লেগে যায়। নতুন উড়ালপুল চালু হলে ওই রুটের উপর চাপ কমিয়ে নিউটাউন ও সল্টলেকমুখী যানবাহনের জন্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে।
নগরোন্নয়ন দফতরের অনুমোদনের পর এখন প্রকল্পটি অর্থ দফতরের চূড়ান্ত ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই অনুমোদন মিললেই দরপত্র ডাকার মাধ্যমে নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।




