৩৬৫ দিন। শ্রাবণ মাস শেষ হতেই কলকাতা ও শহরতলির বাজারে মুরগির দাম হু হু করে বেড়েছে। গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন পাইকারি বিক্রেতাদের মতে, গত ২৮-৩১ তারিখের মধ্যে সরকারি রেট চারদিনে যথাক্রমে ৮, ১০, ৭ ও ৩ টাকা করে বেড়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, হিন্দিভাষী সম্প্রদায়ের একটি পার্বণ বাঙালিদের প্রায় বারো দিন পরে শেষ হওয়ায় সেই উৎসব মিটতেই চাহিদা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি শ্রাবণ মাসে নিরামিষ খাওয়া মানুষজন মাস শেষ হতেই আবার মুরগি কিনতে শুরু করায় চাহিদা আরও বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, এক সপ্তাহের মধ্যে দাম কিছুটা কমতে পারে।
গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন পাইকারি বাজারে দুই ধরনের দর মেলে— সরকারি (পাইকারি) রেট এবং খুচরো রেট। পাইকারি দর ঘোরাফেরা করছে ১৫৭-১৬০ টাকার মধ্যে। এই দরেই পাইকাররা গড়িয়ায় বসে মাল কেনেন এবং কিলোপ্রতি ২-৩ টাকা মার্জিন রেখে খুচরো বিক্রেতাদের কাছে ছাড়েন। খুচরো বাজারে এখান থেকেই কাটা মুরগি বিকোচ্ছে ২৪০ টাকায়, গোটা মুরগি ১৬০-১৬৫ টাকায়, চামড়াসহ মুরগি ২২০ টাকায়, আর চামড়া ছাড়া মুরগি ২৩৫-২৪০ টাকায়। বিক্রেতাদের দাবি, গত তিনদিনে (২৮-৩০ তারিখ) দাম বেড়েছে প্রায় ২৫ টাকা। মুরগি আসে মূলত কাকদ্বীপ (একটি গাড়ি) ও ওড়িশা (দুটি গাড়ি) থেকে। ফিডের দাম নিয়ে তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট— ফিড তৈরি হয় সেন কোম্পানির মতো বড় সংস্থার হাতে, ধুলাগড়ে তৈরি হয় সেসব; ফিডের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই, তাঁরা কেবল পাইকারি মাল কিনে বিক্রি করেন।
খুচরো বাজারগুলিতে দামের হেরফের রয়েছে যদিও অভিযোগের সুর প্রায় একই। বালিগঞ্জে বোনলেস মুরগি ২৮০ ও কাটা মুরগি ২৪০ টাকা কিলো, মার্জিন থাকে প্রায় ১৪ টাকা; এখানকার এক বিক্রেতার মতে দাম বাড়া-কমার মূল কারণ নিউ মার্কেট থেকে আসা পাইকারি মালের ওঠাপড়া। গড়িয়াহাটে কাটা ও লেগ-কাটিং মুরগি ২৬০ টাকা, লাইভ চিকেন ১৭০ টাকা, গোটা মুরগি ১১০ টাকা, বোনলেস ৩০০ টাকা কিলো; জোগান আসে বসিরহাট, নদিয়া ও জয়নগর থেকে। মানিকতলায় কাটা বা ব্রেস্ট পিস ২৫০ টাকা, গোটা মুরগি ১৭৫ টাকা, এবং সরবরাহ মূলত বসিরহাট থেকে। নিউটাউনে চামড়া-সহ মুরগি বিক্রি হয় না, চামড়া ছাড়া কাটা মুরগি ২৮০ টাকা আর গোটা মুরগি ১৮০ টাকা কিলো; এখানে বসিরহাট ও বনগাঁ থেকে অর্ডার দিয়ে মাল আনানো হয়, আর কেনা দামও প্রতিদিন বদলায়। লেক মার্কেটে দাম সবচেয়ে চড়া— কাটা মুরগি ২৬০ টাকা, গোটা মুরগি ১৭০ টাকা, ব্রেস্ট ও লেগ পিস ২৬০ টাকা কিলো; বাজারের ভেতরের একটি দোকানের রেট-বোর্ড অনুযায়ী ড্রেসড চিকেন ৩২০ টাকা, লেগ (ফুল) ৩০০ টাকা, লেগ (হাফ) ৩৪০ টাকা, ব্রেস্ট ৩৬০ টাকা, বোনলেস ১৫০ টাকা, কিমা ২২০ টাকা, লিভার ৫০ টাকা, স্টমাক ১৩০ টাকা, হেড ২২০ টাকা ও নেক ৪০ টাকা কিলো দরে বিকোচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, ফিড কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রভাব ঘুরপথে তাঁদের ওপরেও পড়ছে, যদিও তাঁরা বলছেন এটা মূলত খামার মালিকদেরই বিষয়— তাঁরা কেবল কাটাকুটি করে বিক্রি করেন।
দাম বৃদ্ধির পেছনে আরও কিছু কারণ উঠে এসেছে— বর্ষায় খামার থেকে মুরগি তোলা ও পরিবহণে সমস্যা, ভেজা মুরগি নিয়ে ক্রেতাদের অনীহা, এবং খামারে সরবরাহ কমে যাওয়া। নিউ মার্কেটে মুরগির পায়ে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখার ফলে কুইন্টাল-পিছু প্রায় ৫ কিলোগ্রাম ওজন কমে যায়, যাকে বলা হয় ‘সিনকেস’; এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সেখানকার ব্যবসায়ীরা কিলোপ্রতি বাড়তি ১-২ টাকা চাপান, ফলে সেখানকার দর তুলনামূলক বেশি থাকে। স্থানীয় বাজারগুলিতে এই ‘সিনকেস’ ধরা হয় না বলে লাভের অঙ্কও তুলনায় কম।






