‘ভোরের আলো’ পর্যটন হাবকে বিকেন্দ্রীকরনের পরিকল্পনা পর্যটন দপ্তরের

৩৬৫ দিন। ভোরের আলো পর্যটন হাবকে বিকেন্দ্রীকরনের পরিকল্পনা পর্যটন দপ্তরের।  পর্যটনে গতি ফেরাতেই গজলডোবা ভোরের আলো পর্যটন দপ্তরের নিজস্ব ট্যুরিস্ট হাবকে বেসেকারি হাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে দপ্তর। একদিকে বাংলার পর্যটনকে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে উদ্যোগী হয়েছেন পর্যটন মন্ত্রী ডঃ শঙ্কর ঘোষ। অন্যদিকে সবার জন্য পর্যটন অর্থাৎ রাজ্য পর্যটনকে সকল শ্রেণীর মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে আনা ও সমাজের সমস্ত শ্রেণীর মানুষ যাতে পর্যটনের স্বাদ উপভোগ করতে পারে তা অন্যতম লক্ষ্য পর্যটন মন্ত্রীর।
পর্যটন মন্ত্ৰী শিলিগুড়ির এক পর্যটন সংস্থার অনুষ্ঠান মঞ্চে পর্যটন দপ্তরের আগামীর নয়া রূপরেখা সকলের সামনে তুলে ধরে জানান- বাংলার পর্যটন-ব্র্যান্ডকে নতুনভাবে বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরা ও পার্টনারশিপিং প্রগ্রেস-অর্থাৎ উন্নয়নের অংশীদারিত্ব এই হলো রাজ্যের নতুন সরকারের পর্যটন নীতির মূল স্তম্ভ। ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে পর্যটনের প্রসারকে নজরে রেখে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সরকারি বৈঠক পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ও যাচাই করে পর্যটন দপ্তরের খোলনলচে বদলে নয়া রূপরেখা ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন মন্ত্রী। নয়া পরিকল্পনায় জলপাইগুড়ি জেলার গজলডোবা ভোরের আলো পর্যটন কেন্দ্রকে বেসরকারিকরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০একরের বেশি জমির উপর রয়েছে  ভোরের পর্যটন হাব। রাজ্য পর্যটন দপ্তরের এই কেন্দ্রে ২৩টি ইকো কটেজ আছে। যা ভোরের আলো পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে চঞ্চলা তিস্তা আর তার তীর ধরে আঁচল ছড়িয়ে রেখেছে সবুজ বৈকুণ্ঠপুর বনাঞ্চল! তারসঙ্গে চোখের সম্মুখপ্রান্তে কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখরচূড়ার দর্শন ভোরের আলোর এই মোহময়ী রূপই পর্যটকদের মুগ্ধ করে তোলে। তবে গত  কয়েক বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষনে কিছু খামতি নজরে আসে। এই পর্যটন হাবে মোট ২৩টি ইকো কটেজ যার মধ্যে পূর্বতন সরকারের সময়কালে তিনটি ইকো কটেজকে বছর ভর বিশেষ ভিভিআইপি সংরক্ষনে রাখা হতো।
এই তিন এক্সিকিউটিভ কটেজগুলিতে পর্যটকদের বুকিংয়ের সুযোগ ছিল না। পর্যটন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে এই কটেজগুলি সাধারণ পর্যটকদের বুকিংয়ের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া  দশটি ডুপ্লেক্স কটেজে,চারটি কটেজ রয়েছে লেক সাইট লাগোয়া ও চারটি সুইস কটেজ ও দুটি সিঙ্গেল। পর্যটন দপ্তরের অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য কটেজ বুকিংয়ের সুবিধে আছে। এই পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটন দপ্তরের স্থায়ী অস্থায়ী কর্মী সংখ্যা ২৮ জন। পর্যটন হাবে ছয় জন শেফ থাকেন অতিথি আপ্যায়নে। বিগত সরকারের তরফে এই পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে একাধিক বিনোদন ও অ্যাডভেঞ্চার প্রকল্প নেওয়া হলেও ধারাবাহিকতার অভাবে পর্যটকদের বিনোদন ও  মনোরঞ্জনে ব্যবস্থা সে অর্থে কিছুই নেই।বেশ কয়েক মাস যাবৎ অ্যাডভেঞ্চার সাইকেলিং বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে কাঁচে মোড়া রিডিং কিয়স্ক তৈরি করা হলেও আয়তনে অত্যন্ত ছোট যার জেরে তা ঘিরে পর্যটকদের উৎসাহ দেখা যায়না। পাখিরালয়, ওয়াকিং জোনও হতাশ করেছে। এছাড়া বছরের পর বছর পেড়িয়ে গেলেও হাতিনালা থেকে অর্কিড পার্ক, ফুড কোর্টের মতো প্রকল্প পরিকল্পনার পর্যায়ে আটকে রয়েছে। সেক্ষেত্রে দেশ বিদেশের পর্যটক টানতে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর এই পর্যটন প্রকল্পটিকে বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা নিয়ে বেসরকারিকরনের দিকে এগোচ্ছে। পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান- ভোরের আলো পর্যটন প্রকল্পটিকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হবে। বেশ কিছু পরিকল্পনাও আছে। পর্যটন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের বিগত পর্যটন মরশুম জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ভোরের আলো-তে পর্যটক সমাগম ছিল ২৫-২৮শতাংশ। আগামী পুজোর পর্যটন মরশুম সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর উৎসবের এই দুই মাসে ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ পর্যটক বুকিং হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে শুধু ভোরের আলো পর্যটন প্রকল্প নয় রাজ্যজুড়ে  পর্যটন  দপ্তরের একাধিক সম্পত্তি ও লজের গুলিকে এ,বি,ও সি তিনটি শ্রেণী বিভক্ত করে করা হয়েছে।পর্যটন মন্ত্রী বলেন- বি- গ্রেড বা বি স্ট্যান্ডার্ডে আমাদের যে ক্লাসিফিকেশনে থাকা কিছু কিছু ক্ষেত্রের পর্যটন প্রপার্টি নিয়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) দিকে যাব। খুব দ্রুত নোটিফিকেশন করা হবে।

Scroll to Top