খবর ৩৬৫।নদীয়া।বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। পিতা পুত্রের মুখ দেখতে পারলেন না তার আগেই নিজে এমন করুন পরিস্থিতি গ্রহণ করলেন। সূত্রে জানা গেছে,স্ত্রীর সাধভক্ষণের আনন্দের মাঝেই নেমে এল শোকের কালো ছায়া। সারারাত মদ্যপান ও বাইকে ঘুরে বেড়ানোর পর, সাতসকালে গঙ্গার ঘাটে এসে ভেসেল থেকে জলে ঝাঁপ দিলেন এক ইউটিউবার। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার নদীয়ার শান্তিপুর নৃসিংহপুর ফেরিঘাটে। নিখোঁজ ওই যুবকের নাম সাগর বিশ্বাস। চোখের সামনে ভাইরাভাইকে তলিয়ে যেতে দেখেও বাঁচাতে পারলেন না অজয় হালদার
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ যুবকের শ্বশুরবাড়ি শান্তিপুরের নীলকুঠিতে। বুধবার ছিল সাগরের স্ত্রীর সাধভক্ষণের অনুষ্ঠান। সেই আনন্দেই মেতে উঠেছিলেন দুই ভাইরাভাই। হরিপুর হালদারপাড়ার বাসিন্দা অজয় হালদার জানান, বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে তিনি এবং সাগর বুলেট মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। আনন্দ-ফুর্তিতে মদ্যপান করে সারারাত শান্তিপুরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান তাঁরা। এরপর ভোর হতেই দু’জনে নৃসিংহপুর ঘাটে চা খেতে আসেন।অজয় হালদার বলেন, সাগর পেশায় একজন ইউটিউবার এবং তিনি ইউটিউবে প্রমোশনাল বিজ্ঞাপনের কাজ করতেন। ভোররাতে ঘোরার সময় থেকেই সাগরের ফোনে ক্রমাগত কারও কল আসছিল। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে ফোনে কারও সাথে তাঁর তুমুল বাকবিতণ্ডাও চলছিল। সেই কারণে মানসিক অস্থিরতা থাকায় সাগরের বুলেট বাইকটি অজয় নিজেই চালাচ্ছিলেন।ভোরবেলায় নৃসিংহপুর ফেরিঘাটে এসে বাইক দাঁড় করাতেই ঘটে বিপত্তি। বাইক থেকে নেমেই হঠাৎ দৌড়ে গিয়ে ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভেসেলে উঠে পড়েন সাগর এবং মুহূর্তের মধ্যে সেখান থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। এই দৃশ্য দেখে হতচকিত অজয়ও তাঁকে বাঁচাতে তৎক্ষণাৎ জলে ঝাঁপ দেন। তিনি সাঁতরে গিয়ে সাগরের জামার কলারও চেপে ধরেন । কিন্তু সাগর সজোরে ঝটকা মেরে নিজেকে ছাড়িয়ে নেন এবং চোখের নিমেষে গভীর জলে তলিয়ে যান।
অজয়ের চিৎকারে স্থানীয় মানুষজন ছুটে এলেও ততক্ষণে সাগরকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়েই নিখোঁজ যুবকের পরিবার, অজয়ের পরিবার এবং নীলকুঠি থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন এসে ভিড় জমান নৃসিংহপুর ঘাটে। উৎসবের বাড়ি মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয়েছে শোকের স্তব্ধতায়। গোটা নৃসিংহপুর ঘাট এবং দুই এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।





