৩৬৫ দিন।নেপালে হড়পা বানের পর ভোতকাশী ,রোসুয়া সহ সংলগ্ন এলাকায় যা ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে নেপালের ক্ষতি প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।অন্যদিকে পর্যটনের ওপর অনেকটাই নির্ভর এই স্থলবেষ্টিত ( ল্যান্ড লকড ) দেশটি ।কিন্তু নেপাল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে পর্যটনের জন্য জনপ্রিয় জায়গাগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় এভারেস্টের ও কৈলাসের দিকে যাওয়ার বিশ্বের জনপ্রিয় মানস সরোবর যাওয়ার ট্রেকিং রুটটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে ।একই সঙ্গে নেপাল পর্যটনের জন্য পুজোতে বুকিংও কমেছে অনেকটাই। উল্লেখ্য পর্যটন শিল্প থেকে নেপাল প্রায় তার জিডিপির ১০ % রাজস্ব পায় যার অঙ্কটা বছরে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার ওই এই শিল্পের সঙ্গে প্রায় ১২ লক্ষ লোক সরাসরি যুক্ত রয়েছে । ঠিক কি অবস্থায় রয়েছে নেপাল তা জানতে কলকাতায় নেপাল কনসুলেটের অফিসে যোগযোগ করা হলে কনসাল জেনারেল ঝাক্কা প্রাসাদ আচারিয়া জানান অবস্থা ঠিক কি এখনই বলার অবস্থায় আমরা নেই। ভারতীয়রা অনেকেই নিখোঁজ। কিন্তু কলকাতার কেউ আছেন কি না বলা সম্ভব নয়। হেল্পলাইন খুলেছি। বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল টাওয়ার ভেঙেছে। তিনি জানান তারা নিয়মিত নেপাল ও ভারতের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন সর্বশেষ তথ্য পেতে। তাঁর দপ্তরের এক আধিকারিক রাতে জানান, নুয়াকোট ও ধান্দিং জেলা ধুয়েমুছে সাফ এই হড়পা বানে। সেখানে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রিয় ট্রেকিং রুট গোঁসাইকুণ্ড এবং অন্যদিকে মানস সরোবরের যাত্রাপথও। দুইই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত যা পাহাড়প্রেমী ও তীর্থযাত্রীদের জন্য খুবই কষ্টের।ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন সেসব কবে ঠিক হবে তা এখনো ৩/৪ মাস বলা অসম্ভব ।প্রয়োজনে আরও সময় লাগবে উত্তর দিতে ।
পর্যটন সংস্থাগুলি জানিয়েছেন সবে জুলাই থেকে পুজোর বুকিং শুরু হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই এবার তা বাতিলের হিড়িকও পড়ছে । পর্যটননির্ভর অর্থনীতির ওই দেশে বাঙালি বেশি যায় পুজোর সময়। কিন্তু এবার আর ওই ছবির মতো দেশে বাঙালি পুজোয় পা রাখবে বলে মনে হয় না। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে আসার পরিকল্পনাও ভয়ে বাতিল করছেন অনেকে।এপ্রসঙ্গে বাংলার পর্যটন সংগঠনের এক আধিকারিক অমিতাভ সরকার জানিয়েছেন নেপালের বিপর্যয় আমাদের মতো ট্যুর অপেরাটরদের কাছেও বড় আঘাত।কাঠমান্ডুর ভূমিকম্পের পর পর্যটন নির্ভর যে দেশ ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, সেখানে এবার হড়পা বান। নেপালের বিমানভাড়া আকাশছোঁয়া। তাই সড়কপথই ভরসা। ভারতের সঙ্গে সংযোগরক্ষাকারী সেই সড়কপথ বেঁচে রইলেও বেড়াতে যাওয়ার মানসিকতাই যে মরে গেল এই বিপর্যয়ে।
মরার ওপর খাঁড়ার ঘা , বাংলার নেপালে পুজোর বুকিং কমল প্রায় ৯০ %
- khabar365din
- August 31, 2026
- 5:23 pm
- No Comments





