আগস্ট মাসে মালদা মেডিক্যালে মৃত্যু হয়েছে ৮৯ টি সদ্যোজাতের!

৩৬৫ দিন। ৬০ নয় চলতি বছরের আগস্ট মাসে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৮৯ টি সদ্যোজাতের! চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের গঠন করে দেওয়া তদন্ত কমিটির রিপোর্টে। শনিবার চার সদস্যের কমিটির চেয়ারম্যান চিকিৎসক প্রলয় আচার্য এবং কমিশনের তিন সদস্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক-অধ্যাপক রাজশেখর সরকার, ভোলানাথ আইচ এবং এসএসকেএমের চিকিৎসক-অধ্যাপক বিজন সাহা মালদা মেডিক্যাল কলেজের শিশু রোগ বিভাগ, সিএনসিইউ ঘুরে দেখেন। পরে তারা জানান, মালদা মেডিক্যাল কলেজে চলতি মাসে এখনো পর্যন্ত ৮৯ টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই ৮৯ জনের মধ্যে প্রায় অধিকাংশই রেফার হয়ে মালদা মেডিক্যালে ভর্তি হয়। প্রায় সকলেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছিল।
শিশু ভর্তির নিরিখে মৃত্যুর হার নগন্য-ই। তবে পরিকাঠামোগত উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে। রিপোর্টে সে সব বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে।‌ সূত্রের খবর, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে শিশু মৃত্যুর পেছনে অপুষ্টিকেই দায়ী করা হচ্ছে। এখানে পুষ্টির ঘাটতি যে শুধু শিশুর তা নয় মূলত প্রসূতির অপুষ্টিকেই দায়ী করা হচ্ছে। তাছাড়া মালদার বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোম গুলো নবজাতক যদি কোনো সমস্যা নিয়ে জন্মায় তাহলে সেই পরিস্থিতি সামলানোর মত পরিকাঠামো তাদের আছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা‌ হচ্ছে। তদন্ত কমিটি বলছে, মালদা মেডিক্যালে শুধু তো মালদা জেলার শিশুরা আসছে তা তো নয় মালদার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ, দুই দিনাজপুর, ঝাড়খন্ড এমনকি বাংলাদেশ থেকে পর্যন্ত শিশু ভর্তি হচ্ছে। ফলে এত শিশু সামলানোর মত পরিকাঠামো না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।‌ এ প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী শারদ্বৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, সমস্যাটা হচ্ছে প্রসূতিদের নিয়ে। খুব অল্প বয়সে মালদা মুর্শিদাবাদের মত জেলায় মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মায়ের শরীর সন্তান ধারণের জন্য তৈরীই হচ্ছে না অথচ তারা সন্তান সম্ভবা হয়ে পড়ছে ফলে গর্ভে সন্তান পুষ্টি পাচ্ছে না। জন্মের সময় সদ্যোজাতের ওজন হচ্ছে ৭০০ থেকে ১.৫০০ গ্রামের মধ্যে। আড়াই কিলো ওজন না হলে আমরা শিশুকে স্বাভাবিক বলতেই পারি না।‌ এত কম ওজনের শিশু নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের যখন হাসপাতালে আনা হচ্ছে তখন আর কিছু করার থাকছে না।

Scroll to Top