প্রবল চাপের মুখে বিদেশী উদ্ধারকারী দলে, সম্মতি দিল নেপাল

৩৬৫ দিন। ১২ ঘন্টার মধ্যেই ঢোঁক গিলল নেপাল। প্রবল কূটনৈতিক চাপে পড়ে বিদেশী উদ্ধারকারী দলকে নেপালে উদ্ধারকাজে নিতে বাধ্য হল কাঠমান্ডু। নেপাল সরকারের তরফে শুক্রবার রাতে জানানো হয় যেহেতু একাধিক বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকরা এখনো নিখোঁজ তাই তাদের দেশ চাইলে উদ্ধারকারী দল পাঠাতে পারে। তবে শর্ত হিসাবে রাখা হয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়ে বিদেশী উদ্ধারকারীরা কোনো অভিযান করবে না। তাদের সর্বদা নেপাল সরকারের তরফে নিয়োগ করা লিঁয়াজো অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে হবে। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল থেকেই বলেন্দ্র সরকারের ওপর বিদেশী প্রতিনিধিদল এবং উদ্ধারকারী দলকে ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যাপারে চাপ আসছিল। শুক্রবার সকালে নেপাল সরকার উদ্ধারকাজে বিদেশী দলকে অনুমতি দেবে না প্রচার হতেই সেই চাপ কয়েক গুন বাড়ে। নেপালে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতরা বলেন সরকারের ওপর প্রবল চাপ তৈরী করেন। ঠারে ঠোরে বুঝিয়ে দেওয়া হয় উদ্ধারকারী দলে সম্মতি না দিলে অর্থ সাহায্য-ও ফেরৎ দিতে হবে। ইতিমধ্যে বিদেশ থেকে নেপাল ২০০ কোটি ডলার অর্থ সাহায্য পেয়েছে। এই চাপের মুখে আর পুরনো অবস্থানে থাকা সম্ভব হয়নি বলেন্দ্র শাহ।
তিব্বত থেকে আসা হরপা বানে নেপালে বিপর্যয়ের পর তিন দিন কেটে গেলেও এখনো উদ্ধারকাজ সে ভাবে এগোয়নি। তারপরেও বিদেশী উদ্ধারকারী দলের সাহায্য ফেরানো বলেন্দ্র সরকার। তাদের দাবী, উদ্ধারকাজ সঠিক পথেই এগোচ্ছে এই মুহূর্তে বিদেশী সাহায্যের দরকার নেই। তবে বিদেশ থেকে আসা ত্রাণ এবং অর্থ সাহায্যে না নেই কাঠমান্ডুর। তবে সেখানে শর্ত দেওয়া হচ্ছে অর্থ বা ত্রাণ সবটাই পাঠাতে হবে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। সূত্রের খবর, হরপা বানে বিপর্যয়ের পর নেপালকে সাহায্য করতে চেয়ে সেনা উদ্ধারকারী দল পাঠাতে চায় আটটি দেশ। যার মধ্যে রয়েছে আমেরিকা, ভারত, ব্রিটেন, চিনের মত দেশ। এ ছাড়াও রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা। কিন্তু কোনো দেশের থেকেই সেনা বা উদ্ধার দল নিতে নারাজ কাঠমান্ডু। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী শুক্রবার বলেন, অনেক দেশ সাহায্য পাঠাচ্ছে তারা সেনা বা উদ্ধারকারী দল পাঠাতে চাইছে কিন্তু আমাদের সেনা পুলিশ উদ্ধার দল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম। এখন বিদেশী সাহায্য দরকার নেই। কেন বিদেশী উদ্ধার কারী দলে এত অনীহা বলেন সরকারের। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আবার নেপালের আম্যন্তরীণ রাজনীতি জড়িয়ে রয়েছে। বলেন সরকার জেন জি দের সমর্থনে ক্ষমতায় এলেও এই সরকারের বিরূদ্ধেও আবার জনরোষ তৈরী হচ্ছে। এর মধ্যে যদি বলেন সরকার হরপা বান বিপর্যয় বিদেশী সাহায্য নেয় উদ্ধারের জন্য তাহলে তা সরকারের ব্যর্থতা বলে ধরা হতে পারে। তাই আপাতত বিদেশী সেনা বা উদ্ধার দল হাত লাগাক তা চাইছে না তারা। যদিও কাঠমান্ডু পোস্ট সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, নেপাল নাকি ঠেকে শিখেছে।‌ ২০১৫ তে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নেপাল তছনছ হয়ে গিয়েছিল। তখন ভারত সহ বিশ্বের ২০ টি দেশের সেনা উদ্ধারকারী দল উদ্ধারে হাত লাগিয়েছিল। নেপাল মনে করে এর ফলে অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্টের পরিস্থিতি তৈরী হয়। সমন্বয়ের চুড়ান্ত অভাব ধরা পড়ে। ৯০০০ মানুষের দেহ উদ্ধার হয় প্রায় মাসখানেক ধরে। তাই এবারে এখন-ই তারা বিদেশী দলকে উদ্ধারকাজে লাগাতে চায় না। তবে দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করতে না পারলে ভারত আমেরিকা ব্রিটেনের মত দেশ চুপ করে বসে থাকবে না। তারা বলেন সরকারের ওপর সেনা পাঠানোর জন্য চাপ দেবে। তাই শেষ পর্যন্ত বিদেশের দল কে ঢুকতে দেব না বলে বলেন্দ্র যে গোঁ ধরেছেন তা টিকবে না।

 

 

Scroll to Top