মোহনবাগান -৩ রেলওয়ে এফসি – ১
৩৬৫ দিন।রোহন রায় চৌধুরী।কলকাতা লিগে জর্জ টেলিগ্রাফের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা হাফ ডজন গোলে জিতেছিল মোহনবাগান। তবে রোজ তো আর ছটা করে গোল দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া জর্জ এবং রেলওয়ের মধ্যে দল হিসেবে অনেকটাই এগিয়েছিল রেলওয়ে এফসি। একটা সময় তাদের ময়দানে জায়ান্ট কিলার হিসেবে ধরা হত। তাই আজ মোহনবাগানের লড়াইটা খুব একটা সহজ হবে না জানা ছিল। তবু শনিবার যে হাজার পাঁচেক দর্শক ভিড় করেছিল মোহনবাগান মাঠে তাদের হতাশ হয়ে ফিরতে হল না।
কলকাতা লিগে জয়ের ধারা অব্যাহত মোহনবাগানের। শনিবার দুপুরে ঘরের মাঠে রেলওয়ে এফসিকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। পিছিয়ে পড়েও দারুণ কামব্যাক করল মোহনবাগান। ৪০ মিনিটে উমেশ মান্ডারির গোলে লিড নেয় রেলওয়ে। তবে হাল ছাড়েনি মোহনবাগান। প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মনবীর সিং। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর সাত মিনিটের মাথায় গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন রবিলাল মান্ডি। সুপার-সাব হিসেবে নেমে জ্বলে ওঠেন সুহেল ভাট। নেমেই ৭৮মিনিটে গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন তিনি।শনিবার চমক ছিল মোহনবাগানের প্রথম একাদশে। অ্যালেক্স সাজি, কিয়ান নাসিরির পরে রেলওয়ের বিরুদ্ধে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের হয়ে খেলেন মনবীর সিং ও সাহাল আব্দুল সামাদ। আক্রমণাত্মক ছন্দে শুরু করে মোহনবাগান। প্রচুর অ্যাটাক করলেও গোল পাচ্ছিলেন না সাহাল, কিয়ান, মনবীররা। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ দেন রেলওয়ের গোলকিপার সুদীপ্ত।
৪১ মিনিটে খেলার গতির বিরুদ্ধে উমেশ মারান্ডির গোলে লিড নেয় রেলওয়ে। তবে বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। স্পটকিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি মনবীর। ১-১ স্কোরে শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেয় মোহনবাগান। ৪৭ মিনিটে সায়নের শট ক্রসপিসে লেগে প্রতিহত হয়। ৫৩ মিনিটে লিড নেয় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কিয়ানের দুরন্ত পাস থেকে গোল করে মোহনবাগানকে লিড এনে দেন রবিলাল মাণ্ডি। পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি রেলওয়ে। ৫৫ মিনিটে তারক হেমব্রমের শট বাঁচিয়ে রেলওয়েকে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত করেন মোহনবাগানের গোলকিপার সৈয়দ জাহিদ হোসেন। ৭৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। পরিবর্ত হিসেবে নেমে জ্বলে ওঠেন সুহেল ভাট। দু’জন ডিফেন্ডারকে টপকে কর্নার থেকে দুরন্ত হেডে গোল করেন সুহেল ভাট। গোটা ম্যাচে নজর কেড়ে সেরা ফুটবলার হয়েছেন সাহাল। রেলওয়ে এফসিকে হারিয়ে কলকাতা লিগের সুপার সিক্সের আরও কাছে পৌঁছে গেল মোহনবাগান। ৯ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেব্লে তৃতীয় স্থানেই রইল বাস্তব রায়ের ছেলেরা। ছয়টিতে জয়, একটি ড্র এবং দুই ম্যাচে হেরেছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। এক ম্যাচ কম খেলে ২০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ইস্টবেঙ্গল। তবে জিতলেও কয়েকটা জায়গায় মোহনবাগানের দুর্বল জায়গা ধরা পড়ে গেছে আজকের খেলায়। যেমন বিপক্ষ দলের গতিশীল ফুটবলাররা ফাঁকা জায়গা পেলে মোহনবাগান ডিফেন্ডারদের অনায়াস ভঙ্গিতে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বাস্তব রায় মেনে নিয়েছেন তার দলের পারফরমেন্স আগে তুলনায় উন্নত হলেও এখনও চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে অন্তত ৩০% উন্নতি প্রয়োজন। সেটা বোঝাপড়ায় হোক অথবা ফিটনেসে। তবে আজ দুই সিনিয়র মনবীর এবং সাহাল যেভাবে দলকে সাহায্য করেছেন তার প্রশংসা করলেন বাস্তব। পাশাপাশি রবি, সায়ন, গাজি, বিভানরাও যে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন সেটা বোঝা গেল। এরপর মোহনবাগানের খেলা এক তারিখ। ওই ম্যাচেও দুজন সিনিয়র ফুটবলারকে ব্যবহার করার ইচ্ছা আছে ম্যানেজমেন্টের। এমনিতে সুপার সিক্সে উঠে গেলে সম্পূর্ণ নতুন লড়াই। সেখানে এই পর্যায়ের পয়েন্ট, কার্ড কিছুই কাউন্ট হবে না।




