৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। নতুন করে কি পশ্চিমবঙ্গের এতগুলো কেন্দ্রে বিধানসভা ভোটের নির্দেশ দেওয়া সম্ভব? পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন মামলার শুনানিতে এমন গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন তুললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। মূলত এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় যে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া চালিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন, সেই প্রক্রিয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে বারে বারে অভিযোগ করে সুপ্রিম কোর্টে ভোটের আগেই মামলা দায়ের করেছিল তৃণমূল। সেই সময় নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল মামলার নিষ্পত্তি না করে ভোটের পরে রিভিশনের পথ খোলা রাখা হচ্ছে। ভোটের ফলাফলের পরে যদি দেখা যায় কোন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজয়ী প্রার্থীর জয়ের মার্জিন বা ব্যবধান সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে বাদ পড়া বৈধ ভোটারের সংখ্যার থেকে কম, তাহলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক অধিকারের উপরে সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। তবে পুরোটাই প্রমাণ সাপেক্ষ।
মূলত ভোট পূর্ববর্তী সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে অবলম্বন করেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা এবং সরকার গঠন হয়ে যাওয়ার পরেই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয় রিভিউ পিটিশন। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে তৃণমূলের একাধিক পরাজিত প্রার্থীর ইলেকশন পিটিশন মামলা। যার মধ্যে রয়েছেন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা ইলেকশন পিটিশন মামলাও। আজ তেমনি একটি মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে।
তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে তৃণমূলের আইনজীবী তথা লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমতো পরিসংখ্যান পেশ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে জানান, অন্তত ৩১ বিধানসভা কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধানের তুলনায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ দেওয়া ভোটারের সংখ্যা বেশি। যার মধ্যে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত 145 সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০১ ভোট, সেখানে ৮৭৮৫ জন ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়। অন্য একটি কেন্দ্রে মাত্র ৩১৬ ভোটে প্রার্থী পরাজিত হন, অথচ সেখানে এসআইআর-এর সময় অনেক বেশি ভোটার বাদ পড়েছিলেন।আবেদনকারীদের যুক্তি, এত বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ দেওয়ার ফলে নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে এবং হাজার হাজার বৈধ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পাশাপাশি কল্যাণ জানান, বিধানসভা-ভিত্তিক আপিলের সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে জানা কঠিন। কারণ নির্বাচন কমিশন এখনও এই সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি।
এই সওয়ালের পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মৌখিকভাবে প্রশ্ন করেন, এই বিষয়ে আবেদন করতে পারেন, কিন্তু আদালত কি এভাবে নতুন করে নির্বাচন করার নির্দেশ দিতে পারে? প্রধান বিচারপতি জানতে চান, ওই ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজিত প্রার্থীরা জয়ী প্রার্থীদের নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে আনুষ্ঠানিক নির্বাচন মামলা করেছিলেন কি না। জবাবে আইনজীবী জানান, কিছু কেন্দ্রে নির্বাচন মামলা হয়েছে, তবে সব কেন্দ্রে হয়নি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কতজন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, সেটিও দেখা প্রয়োজন। কোনও বাদ পড়া ভোটার যদি তাঁর নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়ে আপিল না করেন, তাহলে তাঁর হয়ে নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করা অনেকটাই তাত্ত্বিক হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু যদি ১০০ জন ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়, জয়ী প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান হয় ৫০ ভোট এবং বাদ পড়া ৬০ বা ৭০ জন ভোটার আপিল করে থাকেন, তাহলে ভোটার বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এসআইআর মামলায় তৃণমূলের সওয়ালের প্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির
- khabar365din
- August 27, 2026
- 4:33 pm
- No Comments





