ভোর রাতে তারাপীঠের হোটেলে বিধ্বংসী আগুন। দগ্ধ হয়ে নিহত অন্তত আট। জখম ১৩। মৃতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর। ফলে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩ জন আলিপুরদুয়ার এবং ৫ জন উত্তর পূর্বের রাজ্য মেঘালয়ের বাসিন্দা। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২২ জন আবাসিককে। পুলিশ সূত্রে খবর,অগ্নিকান্ডের ঘটনায় হোটেল মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরো বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। যাদের গাফিলতি ধরা পড়বে প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হবে। প্রাথমিক তদন্তে দমকলের অনুমান শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। ভোর ৪ টে নাগাদ আগুন লাগে। সেই সময় বেশীরভাগ পর্যটক ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। ফলে আগুন যে লেগেছে তা অনেকে বুঝতেই পারেননি। যখন বুঝেছেন তখন আর কিছু করার ছিল না। বীরভূমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নীলেশ শ্রীকান্ত গায়কোয়াড় বলেন, ‘‘যাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে, রামপুরহাট হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ১২ থেকে ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’’ দমকলের ওসি নীলাদ্রি মজুমদার বলেন, ‘‘দোতলা পর্যন্ত আগুন ছড়িয়েছিল। কিন্তু তিনতলায় কোনও আগুন ছিল না। সেখানে অনেক ধোঁয়া ছিল। হোটেলে সিঁড়ি বা অন্যত্র সমস্ত জানলা বন্ধ ছিল। তাই ধোঁয়া বাইরে বেরোতে পারেনি। হোটেলে দুটো সিঁড়ি রাখতেই হয়। এখানেও সেটা ছিল। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ঠিক ছিল। আমরা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ন’জনকে উদ্ধার করেছি।’’
কাজ করেনি অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা, এমার্জেন্সি এক্সিট থাকলেও তার দিক নির্দেশ ছিল নাভোর তখন ৪ টে। ধীরে ধীরে জাগছে তারাপীঠ। শ্রাবণের শেষ সোমবারে তারাপীঠে শনিবার থেকেই ভিড় বেড়েছে। তারাপীঠ থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে হোটেল বিদেশিনী। সেখানেও প্রায় সব ঘর ফুল। পূণ্যার্থীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আচমকা বিকট শব্দ। চটকা ভেঙে উঠে পড়েন অনেকে। ব্যাপারটা কি তা দেখতে দরজা খুলতেই ঝলসে যান অনেকে। বিশেষ করে যারা একতলা বা দোতলায় ছিলেন তারা। বিপদ বুঝে অনেকে দরজা বন্ধ করে দেন। তাতে বিপদ আরো বাড়ে। কারণ, এসি রুমে ঘরে জানলা নেই। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ফলে দম বন্ধ কর পরিস্থিতি। দরজার ফাঁক গলে গল গল করে ঢুকছে বিষাক্ত ধোঁয়া। এই ধোঁয়ার জেরে অনেকে সংজ্ঞা হারান। দমকলের হিসাবে সংখ্যাটা ৯। কয়েকজন চেষ্টা করেছিলেন হোটেলের পিছন দিকে আপৎকালিন দরজা দিয়ে বেরতে। কিন্তু একে হোটেল অন্ধকার তার ওপর ধোঁয়া সঠিক দিক নির্দেশ পর্যন্ত ছিল না ফলে তারা হোটেলের পিছন দিকে যাওয়ার বদলে চলে আসেন সামনের দিকে। রিসেপশনের কাছে আসতেই তারা ধলসে যান। কারণ এই অংশে তখন আগুনের তীব্রতা ছিল মারাত্মক। ঘন্টাখানেকের মধ্যে দমকল আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে রিসেপশনের সামনে থেকে ৩ টি দেহ উদ্ধার করে। বাকি দেহ ছিল একতলা এবং দোতলায়। হোটেলের মালিক কল্যাণ পালের বক্তব্য, তাঁদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। পিছনের দিকে বেরোনোর দরজাও ছিল। কিন্তু আগুন লেগে যাওয়ায় তৎক্ষণাৎ হোটেলকর্মীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন। ফলে অন্ধকারে অনেকে পিছনের দরজা খুঁজেই পাননি। তাঁরা সামনে রিসেপশনের দিক দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন। তখনই অনেকে আগুনের মুখে পড়েন। তবে পিছনের দরজা বন্ধ থাকার যে অভিযোগ আবাসিকেরা করছেন, তা নিয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। 
এমার্জেন্সি গেটে কি তালা ছিল? তদন্তে পুলিশ
কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে বিদেশিনী হোটেল থেকে বেরিয়ে আসা পর্যটকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন তারা হোটেলের পিছন দিকে এমার্জেন্সি এক্সিট খুঁজে পেলেও বেরতে পারেননি কারণ সেখানে তালা দেওয়া ছিল। অনেক ডাকাডাকিতেও কেউ তালা খুলে দেয়নি। দমকল-ও বলছে, হোটেলে এমার্জেন্সি এক্সিট ছিল। কিন্তু তা আদৌও ব্যবহারের উপযোগী ছিল কি না তা তদন্ত না করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ-ও জানাচ্ছে, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাফিলতি থাকলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। আপাতত আগুন নিভেছে। ফরেন্সিক টিম নমুনা সংগ্রহ করবে তারপর জানা যাবে আগুন ঠিক কোথায় কি ভাবে লাগে এবং পাঁচতলা হোটেলকে গ্রাস করে।
ভোর রাতে তারাপীঠের হোটেলে বিধ্বংসী আগুন দগ্ধ হয়ে নিহত অন্তত ৯, জখম ১৩
- khabar365din
- August 17, 2026
- 5:01 pm
- No Comments





