জঘন্য ফুটবল খেলেও ডুরান্ড সেমিফাইনালে মোহনবাগান! জামশেদপুরকে হারাল বিশালের হাত

মোহনবাগান ১ (সাহাল) জামশেদপুর ১ (দেবেন্দ্র)
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী।প্রথম ম্যাচে ৮ গোল। দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ গোল। তার আগে ডার্বি জয়। ডুরান্ড কাপে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে নামার আগে পর্যন্ত মোহনবাগানের রথ দারুণ গতিতে এগিয়ে চলছিল। কিন্তু সোমবার জামশেদপুর বুঝিয়ে দিল কত ধানে কত চাল। শেষ পর্যন্ত মোহনবাগান জিতলেও তাদের নাকানি চোবানি খাইয়েছে রেড মাইনার্স ব্রিগেড। ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল মোহনবাগান। সোমবার যুবভারতীতে তারা টাইব্রেকারে ৯-৮ ব্যবধানে হারাল জামশেদপুর এফসি-কে। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফলাফল ছিল ১-১। এর পর টাইব্রেকারে দুই দলই প্রথম আটটি শটে গোল করে। নবম শটে জামশেদপুরের মামার শট বাঁচিয়ে দেন বিশাল কাইথ। অভিমিতেই গোল করে মোহনবাগানকে সেমিফাইনালে তুলে দেন। তবে গোটা ম্যাচে খারাপ ফুটবল খেলেছে মোহনবাগান। ধারেভারে অনেক এগিয়ে থাকলেও নির্ধারিত সময়ে বিদেশিহীন জামশেদপুরকে হারাতে পারেনি তারা।পেনাল্টিতে প্রথম শট নিতে যায় জামশেদপুর। গোল করেন রিয়াতা। পাল্টা মোহনবাগানের রাহুল বেকে ১-১ করেন। দ্বিতীয় শট থেকে জামশেদপুরকে ২-১ এগিয়ে দেন রেনিয়ার। ২-২ করেন মোহনবাগানের সামির জেলকোভিচ। তৃতীয় শটে গোল করে জামশেদপুরকে ৩-২ এগিয়ে দেন আমন সিকে। মোহনবাগানকে সমতায় ফেরান শুভাশিস বসু। জামশেদপুরকে ৪-৩ এগিয়ে দেন অভিষেক। মোহনবাগানের হয়ে ৪-৪ করেন জেমি ম্যাকলারেন। জামশেদপুরকে ৫-৪ এগিয়ে দেন অধিনায়ক প্রণয় হালদার। মোহনবাগানের হয়ে পঞ্চম শট মারতে এসেছিলেন কিয়ান নাসিরি। তিনিও গোল করেন। ফলে পাঁচটি শট শেষে দুই দলই সব ক’টি প্রয়াসে গোল করে।ষষ্ঠ শটে জামশেদপুরের হয়ে গোল করেন প্রভাত লাকরা। মোহনবাগানের হয়ে সমতা ফেরান অনিরুদ্ধ থাপা।
সপ্তম শটে জামশেদপুরের হয়ে গোল প্রতীক চৌধরির। সপ্তম শটে গোল করেন আলবের্তো রদ্রিগেজ়। অষ্টম শটে গোল করেন জামশেদপুরের বারলা। সুহেল বাটের শটে হাত ঠেকিয়েও বাঁচাতে পারেননি আলবিনো গোমেজ়। ৮-৮ হয়। নবম শট নিতে এসেছিলেন জামশেদপুরের মামা। তাঁর শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচিয়ে দেন বিশাল। নবম শটে গোল করে মোহনবাগানকে জিতিয়ে দেন অভিমিতেই।দুই বিদেশি আলবের্তো এবং দেজান দ্রাজিচকে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন মোহনবাগান কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। শুরুটাই স্বপ্নের মতো হয় মোহনবাগানের। দু’মিনিটেই জামশেদপুরের ফুটবলারের ভুলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। প্রণয় হালদার নিজেদের অর্ধে পাস দিয়েছিলেন রাশিথোইকে। কিন্তু সেই বল কেড়ে নেন দ্রাজিচ। তিনি পাস দেন সাহালকে। পোস্টের কোণে শট মেরে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সাহাল। ডুরান্ড কাপে পঞ্চম গোল করে ফেলেন তিনি। শুরুতে গোল করলেও মোহনবাগানের খেলায় সেই ঝাঁঝ লক্ষ করা যায়নি। প্রথমার্ধ শেষের কিছু ক্ষণ আগে সমতা ফেরায় জামশেদপুর। দূর থেকে শট নিয়েছিলেন রাশিথোই। বিশাল সেই শট বাঁচালেও বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে গোল করেন দেবেন্দ্র। এই গোলটা খাওয়ার পর মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ে মোহনবাগান। ক্রমশ খেলা থেকে হারিয়ে যেতে থাকে তারা। জামশেদপুর পুরো ভারতীয় ব্রিগেড নিয়ে মোহনবাগানকে সমানে চাপে ফেলতে থাকে। দেখে মনে হয়নি বিদেশি নিয়ে খেলা মোহনবাগান ভারতীয়দের নিয়ে তৈরি জামশেদপুরের থেকে এগিয়ে। আনফোর্স এরর করতে থাকে বাগানের ফুটবলাররা। প্রচুর মিসপাস এবং গোল করার তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে জড়ামুড়ি করে ফেলছিল তারা। নিজেদের একসঙ্গে গুছিয়ে নিতে যেটা করা দরকার সেটা করতে পারেনি সবুজ মেরুন। একটা সময় নতুন আশা বিদেশি সামিরকে নামিয়ে দেওয়া হয়। প্রথম ম্যাচ, সবে এসেছেন। একটু নড়াচড়া করা ছাড়া সেভাবে তাকে চোখে পড়েনি। একটা শট নিয়েছিলেন বটে। কিন্তু লক্ষ্যে ছিল না। দেহান অবশ্য তার আগেই পায়ে টান লাগার ফলে উঠে যান। শেষ দিকে সায়ন এবং সোহেল ভাট কিছুটা চেষ্টা করেন উইনিং গোল করার। কিন্তু কিছুতেই টার্গেটে বল রাখতে পারেননি।ম্যানেজমেন্ট দল তুলে নিয়ে ১০০ টাকার প্রতীকী মূল্যে চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে লাইসেন্স বিক্রি করে দিয়েছে—এমন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব সংকটে থাকা জামশেদপুরের ফুটবলাররা মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিলেন। টাইব্রেকারে হেরে না গেলে আজ একটা অন্যরকম ইতিহাস লেখা হত। যদিও জামশেদপুরের এই পরাজয় আগৌরবের নয়। বরং মোহনবাগান এত বড় দল হয়ে কেন এত বাজে ফুটবল খেলল এই নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। সিআইএসএফ এবং সাউথ ইউনাইটেড দলের মতো চতুর্থ শ্রেণীর দল নয় জামশেদপুর। যাদের বাগান আট গোল এবং ৬ গোল দিয়েছিল। আজ ভাগ্য সহায় ছিল তাই ম্যাচটা জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ১৭ বারের চ্যাম্পিয়নরা। অন্য ম্যাচে নর্থইস্ট ইউনাইটেড শিলংকে ৫-২ হারাল। ফলে বৃহস্পতিবার মোহনবাগানের বিরুদ্ধে আলাদিনরা সেমিফাইনাল খেলবে। একদিন পরেই শিলং পৌঁছবে বাগান।

Scroll to Top