৩৬৫ দিন।নিজস্ব সংবাদদাতা। নিম্নচাপের জেরে টানা ভারী বৃষ্টিতে ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। একাধিক নদী ও খালের জলস্তর বাড়ায় ডুবে গিয়েছে কজওয়ে ও সেতু। এর জেরে গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম, ঝাড়গ্রাম সদর, গিধনি, লালগড় ও বাঁকুড়ার সঙ্গে বেশ কিছু এলাকার যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বহু রুটে বাস ও ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ফেকোঘাট থেকে তপসিয়া বাজার হয়ে গোপীবল্লভপুর ও নয়াগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে তপসিয়া খালের কজওয়ে জলের তলায় চলে যাওয়ায় বাস, পণ্যবাহী গাড়ি-সহ অন্যান্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে এই সমস্যার পিছনে শুধু বৃষ্টির জল নয়, দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তপসিয়া খালের উপর থাকা মূল সেতুটি প্রায় সাত-আট বছর ধরে ভারী যান চলাচলের জন্য বন্ধ। বছর সাত-আট আগে সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ার পর ভারী যান চলাচল বন্ধ করে সেটি ঘিরে দেওয়া হয়। যোগাযোগ সচল রাখতে সেতুর পাশে একটি নিচু কজওয়ে তৈরি করা হলেও বর্ষায় খালের জল বাড়লেই সেটি ডুবে যায়। এ বার টানা ভারী বৃষ্টিতে কজওয়েটি সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যাওয়ায় গোপীবল্লভপুর ১ ও ২ নম্বর ব্লক এবং নয়াগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সাত-আট বছর ধরে মূল সেতু বন্ধ থাকার পরেও কেন স্থায়ী সেতু বা উঁচু বিকল্প সেতু তৈরি করা হল না, সেই প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। স্থায়ী সেতুর দাবিতে সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ নিত্যযাত্রী সমিতিও। সংগঠনের ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির সম্পাদক সৌগত মাহাতের দাবি, সাময়িক ব্যবস্থা করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নয়াগ্রামের রামেশ্বরে সুবর্ণরেখার রামেশ্বর ও গড়ধরার মাঝে সেতু তৈরির দাবিও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে টানা বৃষ্টিতে ঝাড়গ্রাম ব্লকের কুন্ডলডিহি গ্রামে হরিপদ মাহাতোর মাটির বাড়ির একটি দেওয়াল রবিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ভেঙে পড়ে। বারান্দায় থাকায় অল্পের জন্য রক্ষা পান হরিপদ ও তাঁর স্ত্রী খলনা মাহাতো। বাড়ির অন্য একটি দেওয়ালেও ফাটল দেখা দিয়েছে। সোমবার ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ত্রাণসামগ্রী দেন। আপাতত ওই দম্পতিকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বাড়িটি নতুন করে তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের গালুডি জলাধার থেকে ৫২ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। নদীর জল এখনও বিপদসীমার উপরে না উঠলেও জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। ডুলুং নদীর জল বেড়ে চিল্কিগড়ের কজওয়েও জলের তলায় চলে গিয়েছে। কজওয়ের উপর দিয়ে জল বইতে থাকায় গিধনির সঙ্গে ঝাড়গ্রাম জেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
বিনপুর ২ নম্বর ব্লকের হাড়দা অঞ্চলেও তারাফেনি নদীর জল বাড়ায় ঢোলভাঙা কজওয়ে ডুবে গিয়েছে। এর ফলে বাঁকুড়া এবং লালগড়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ঘুরপথে যাতায়াত চলছে। শিলদার এঠেলাতেও তারাফেনি নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় সোমবার সকালে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। সব মিলিয়ে এদিন জেলাজুড়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাস চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।
এছাড়াও গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের রগড়া থেকে ঝাড়গ্রাম যাওয়ার মূল রাস্তার উপর থাকা বড়ামারা সেতুও টানা বৃষ্টিতে জলের তলায় চলে গিয়েছে। সেতুর উপর দিয়ে জল বইতে থাকায় বড় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে টানা বৃষ্টির জেরে সাময়িকভাবে ডুবে যাচ্ছে কজওয়ে ও সেতু, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পুরনো সেতুগুলির স্থায়ী সংস্কার বা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
টানা বৃষ্টিতে জেলাজুড়ে যোগাযোগ বিপর্যস্ত
ডুবে গেল একাধিক কজওয়ে ও সেতু
- khabar365din
- August 17, 2026
- 4:08 pm
- No Comments





