জাকির হোসেন, ঢাকা, ৩৬৫ দিন : ক্ষমতাচ্যুতির ঠিক দু বছরের মাথায় নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বার্তা ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল বাংলাদেশে। দেশে ফেরার ঘোষণা, আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি তোলার পর বাংলাদেশের সরকার জানিয়ে দিল, ভারতীয় ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ বা অস্থিরতা তৈরির মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত না হয়ে রেকর্ড করা অডিয়ো বার্তা দেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে এটিই তাঁর প্রথম বড় রাজনৈতিক বক্তব্য। সেখানে হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন বলেও জানান তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে চলা বিচার এবং মৃত্যুদণ্ডের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেন হাসিনা।
হাসিনার বক্তব্যের আগেই বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ভারতের কাছে আপত্তি জানিয়েছিল। ঢাকার বক্তব্য, ভারতে অবস্থান করে হাসিনা বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কেউ এমন কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালাতে পারেন না, যা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং দু’দেশের সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করেন। বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল এবং সংবাদমাধ্যমগুলিকেও হাসিনার বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার বা প্রকাশ না করার জন্য সতর্ক করা হয়। ঢাকা জানিয়েছে, আদালতের আগের নির্দেশ অনুসারেই এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের আশঙ্কা, তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নতুন করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারেন।
তবে ভারত সরকার গোটা ঘটনা থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করেছে; ভারত সরকারের সঙ্গে তার কোনও যোগ নেই। হাসিনার বক্তব্যে যে মতামত প্রকাশিত হয়েছে, ভারত সরকার তার অনুমোদনও করছে না। হাসিনার দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টের হিংসা নিয়ে তাঁর সরকার যে বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছিল, পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার তা বন্ধ করে “সত্য চাপা দেওয়ার” চেষ্টা করেছে। অন্য দিকে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এবং জুলাই আন্দোলনের নেতাদের বক্তব্য, আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহারের দায় এড়াতেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এখন পাল্টা ভাষ্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা সংগঠনগুলির তরফে বুধবার রাত পর্যন্ত হাসিনার সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে কোনও নতুন ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে তাদের ঘোষিত অবস্থান অপরিবর্তিত–জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন মেনে নেওয়া হবে না। এর আগে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা হাসিনার বিচার, আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং দলটির রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিলের দাবি তুলেছিলেন। একই দিনে ঢাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় হত্যার জন্য দায়ীদের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ফলে এক দিকে দিল্লি থেকে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বার্তা, অন্য দিকে ঢাকায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের অঙ্গীকার–৫ আগস্টের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকট হল।
জাকির হোসেন, ঢাকা, ৩৬৫ দিন : ক্ষমতাচ্যুতির ঠিক দু বছরের মাথায় নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বার্তা ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল বাংলাদেশে। দেশে ফেরার ঘোষণা, আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি তোলার পর বাংলাদেশের সরকার জানিয়ে দিল, ভারতীয় ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ বা অস্থিরতা তৈরির মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত না হয়ে রেকর্ড করা অডিয়ো বার্তা দেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে এটিই তাঁর প্রথম বড় রাজনৈতিক বক্তব্য। সেখানে হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন বলেও জানান তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে চলা বিচার এবং মৃত্যুদণ্ডের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেন হাসিনা।
হাসিনার বক্তব্যের আগেই বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ভারতের কাছে আপত্তি জানিয়েছিল। ঢাকার বক্তব্য, ভারতে অবস্থান করে হাসিনা বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কেউ এমন কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালাতে পারেন না, যা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং দু’দেশের সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করেন। বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল এবং সংবাদমাধ্যমগুলিকেও হাসিনার বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার বা প্রকাশ না করার জন্য সতর্ক করা হয়। ঢাকা জানিয়েছে, আদালতের আগের নির্দেশ অনুসারেই এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের আশঙ্কা, তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নতুন করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারেন।
তবে ভারত সরকার গোটা ঘটনা থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করেছে; ভারত সরকারের সঙ্গে তার কোনও যোগ নেই। হাসিনার বক্তব্যে যে মতামত প্রকাশিত হয়েছে, ভারত সরকার তার অনুমোদনও করছে না। হাসিনার দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টের হিংসা নিয়ে তাঁর সরকার যে বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছিল, পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার তা বন্ধ করে “সত্য চাপা দেওয়ার” চেষ্টা করেছে। অন্য দিকে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এবং জুলাই আন্দোলনের নেতাদের বক্তব্য, আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহারের দায় এড়াতেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এখন পাল্টা ভাষ্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা সংগঠনগুলির তরফে বুধবার রাত পর্যন্ত হাসিনার সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে কোনও নতুন ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে তাদের ঘোষিত অবস্থান অপরিবর্তিত–জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন মেনে নেওয়া হবে না। এর আগে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা হাসিনার বিচার, আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং দলটির রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিলের দাবি তুলেছিলেন। একই দিনে ঢাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় হত্যার জন্য দায়ীদের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ফলে এক দিকে দিল্লি থেকে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বার্তা, অন্য দিকে ঢাকায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের অঙ্গীকার–৫ আগস্টের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকট হল।


