রাতে ককরোচ পুলিশ তুমুল সংঘর্ষ, প্রশাসনের বিবৃতি “গুন্ডারা ৫ পুলিশ কর্মীকে মেরেছে, সেনা প্রস্তুত আছে”

৩৬৫ দিন। নতুন করে উত্তপ্ত দিল্লির যন্তরমন্তর। ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচীতে ফের লাঠি চালানোর অভিযোগ উঠলো দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাত ৮ টা নাগাদ। টল স্টয় মার্গের কাছে ককরোচ পার্টির কিছু সমর্থক মিছিল করছিল। সেই সময় তাদের মিছিলে বাধা দেয় দিল্লি পুলিশের বাহিনী। ককরোচদের অভিযোগ বিনা প্ররোচনায় তাদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ হয়। ৫০ জনের বেশী কর্মী তাতে জখম হন। যদিও দিল্লি পুলিশের দাবি, তরোয়াল হাতে কয়েকজন মিছিল করছিল। তাদের বলা হয় এ ভাবে সশস্ত্র অবস্থায় মিছিল করা যাবে না। এই সময় ওই মিছিল থেকে কয়েকজন পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে ইঁট ছোড়ে। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তরোয়ালের কোপ বসিয়ে দেওয়া হয় এতে এক এসিপি পদমর্যাদার অফিসার সহ ৫ জন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। যদিও অস্ত্র হাতে মিছিলের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

বন্ধ করা হল মেট্রো, এয়ারলিফট করে আনা হচ্ছে আধা সেনা
এদিকে নতুন করে যন্তর মন্তরে উত্তেজনা ছড়াতেই দিল্লির সব মেট্রো স্টেশন নিরাপত্তা জনিত কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হল। অনির্দিষ্ট কালের জন্য মেট্রো পরিষেবা বন্ধ থাকবে বলে সূত্রের খবর। যদিও এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজ্য থেকে সিআরপিএফ জাওয়ানদের দিল্লি আনা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে তাদের দিল্লি নিয়ে আসা হচ্ছে এয়ারলিফট করে। বাংলা থেকে ২০ কোম্পানী আধা সেনা বুধবার রাতে দিল্লি পৌঁছেছে। আরো আধা সেনা আগামী কয়েকদিনে দিল্লি আসবে।

আন্দোলন ছড়ালো মুম্বাইয়ে
যন্তরমন্তরে যখন নতুন করে গন্ডোগোল চলছে যখন মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কেও ককরোচদের বিক্ষোভে অশান্তি ছড়ালো। ২০০ জন ককরোচ সমর্থককে গ্রেফতার করল মুম্বাই পুলিশ। সূত্রের খবর, দিল্লির ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতে শিবাজী পার্কে কয়েক হাজার ককরোচ পার্টি সমর্থক জড়ো হন। তারা মিছিল করে এগোতে গেলে তাদের বাধা দেয় মুম্বাই পুলিশ। দু পক্ষের মধ্যে রীতি মত সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরে ২০০ জনকে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়।

আলোচনায় প্রস্তুত, রাজনীতি করবেন না, নাড্ডা
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টিকে ফের আলোচনায় বসার ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। বুধবার সাংবাদিক সন্মেলনে নাড্ডা বলেন, নিট সহ যে কোনো ইস্যুতে কেন্দ্র আলোচনা চায়। যে কেউ আলোচনায় বসতে পারে কিন্তু এই ইস্যুতে যারা রাজনীতি করছেন পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছেন তাদের সতর্ক হওয়া উচিৎ। রাহুলকে আক্রমণ করে নাড্ডা বলেন, প্রাক্তন বিজেপি সভাপতির অভিযোগ, প্রশ্নফাঁস নিয়ে রাহুল গান্ধী অহেতুক রাজনীতি করছেন। তিনি পড়ুয়াদের কথা ভাবছেন না। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতিসাধন তাঁর উদ্দেশ্য নয়। জেপি নাড্ডা বলছেন, “রাহুল গান্ধী বেছে বেছে কিছু উদাহরণ তুলে কেন আন্দোলন করছেন। সব ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করেন না কেন?” কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, বিরোধী দলনেতা ছাত্রদের সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন। পড়ুয়াদের উন্নতি তাঁর উদ্দেশ্যই নয়।

Scroll to Top