জানলা দিয়ে সদ্যোজাতকে ছুঁড়ে ফেলল বালিকা মা

৩৬৫ দিন। হাসপাতালের বাথরুমে সন্তান প্রসব করে সেই সদ্যোজাতকে জানলা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে খুন করার অভিযোগ উঠল নাবালিকা মায়ের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা উত্তরপাড়ার। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, উত্তরপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে স্টেশনের কাছে কেয়ার নামে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে এই ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে ওই নার্সিংহোমের পিছনের দিকে সাফাইয়ের কাজ করছিলেন এক পুরকর্মী। আচমকা তিনি পাশে একটি ঝোপে কিছু পড়ার শব্দ পান। সন্দেহ হতে তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন একটি সদ্যোজাত সেখানে পড়ে আছে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে খবর দেওয়া হয় নার্সিংহোমে। সদ্যোজাতকে উদ্ধার করে নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে জানান চিকিৎসকরা। খবর পেয়ে আসে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।
নার্সিংহোমের দাবি, শুক্রবার রাত ১ টা নাগাদ পেটে যন্ত্রনা নিয়ে সেখানে আসেন বালির বাসিন্দা নাবালিকা। সে যে সন্তানসম্ভবা তা ওই নাবালিকা বা তার পরিবারের কেউ জানাননি। শনিবার সকালে বাথরুমে যায় ওই নাবালিকা। তারপরেই এই ঘটনা ঘটায় সে। যদিও এখানে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে।‌ যেমন, নাবালিকা পেটে যন্ত্রনার উপসর্গ নিয়ে এলেও তাকে পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা সে যে সন্তানসম্ভবা তা আঁচ করতেই পারলেন না? কেন তাকে একা বাথরুমে যেতে দেওয়া হল কোথায় ছিলেন নার্সরা? বাথরুমে জোর করে সন্তান প্রসব কী সম্ভব? সেই সদ্যোজাতকে বাথরুমের জানলা থেকে ফেলেও দেওয়া হল! স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পরিষেবা না দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তো আছেই কয়েক বছর আগে এই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে ভ্রুণ নষ্টের মারাত্মক অভিযোগ ওঠে। তাই এক্ষেত্রে যা বলা হচ্ছে সেটাই ঘটেছে নাকি পরিকল্পনা করে নাবালিকা মায়ের প্রসব করিয়ে সন্তান নষ্ট করা হয় তা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক, চাইছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে নার্সিংহোমের মালিক সুচেতা মুখোপাধ্যায়ের দাবি, “নাবালিকা গতকাল রাত ১টা নাগাদ ভর্তি হয় পেটে ব্যথা নিয়ে। সকালে তার রক্ত পরীক্ষা হয়। পেটে ব্যথা একটু বেড়েছিল নিজে হেঁটে বাথরুমে যায়। নিজেই শিশুটিকে প্রসব করায় তারপর জানলা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়। কারন তাকে প্রমাণ করতে হত সে স্বাভাবিক আছে, গর্ভধারণ করেনি। তার পরিবারও নাকি জানত না।”

Scroll to Top