গঙ্গার ঘাটে পুরমন্ত্রীর পরিদর্শন, একাধিক নির্দেশ মেরিন ড্রাইভের আদলে রিভারফ্রন্ট গড়ার পরিকল্পনা

৩৬৫ দিন। ছট পুজোকে কেন্দ্র করে গঙ্গার ঘাটগুলিতে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতিতে নামল রাজ্য প্রশাসন। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কলকাতা ও হাওড়ার গঙ্গার একাধিক ঘাট স্পিড বোটে চড়ে পরিদর্শন করলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, আইএএস আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডে, প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক এবং কলকাতা ও হাওড়ার কমিশনার-সহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা। পরিদর্শন শেষে পুরমন্ত্রী জানান, ছট পুজোয় কোনও বাধা দেওয়া হবে না। তবে রবীন্দ্র সরোবর-সহ কোনও জলাশয় যাতে দূষিত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
ঘাটগুলিতে চেঞ্জিং রুম, বায়ো-টয়লেট, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, মাইকিং এবং পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি বিবেচনা করে জলের সীমানা নির্ধারণ করা হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে ঘাটে বাঁশের ব্যারিকেডও তৈরি করা হবে। পরিদর্শনের সময় একাধিক ঘাটের আশপাশে জমে থাকা আবর্জনা নজরে আসে পুরমন্ত্রীর। দ্রুত সেগুলি পরিষ্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি ভাঙাচোরা ঘাট সংস্কার, সিঁড়ি প্রশস্ত করা এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। শুধু উৎসবের প্রস্তুতিই নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য। মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের আদলে কলকাতা ও হাওড়ার গঙ্গার দুই তীরকে আধুনিক ও আকর্ষণীয় রিভারফ্রন্ট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান অগ্নিমিত্রা পল। এই প্রকল্প নিয়ে শীঘ্রই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি। পুরমন্ত্রীর কথায়, কালীপুজোর বিসর্জন, ছট পুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোকে সামনে রেখে পুণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
একইসঙ্গে গঙ্গার ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষা করে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলির সামগ্রিক উন্নয়ন করতে চায় রাজ্য। ঐতিহাসিক ঘাট ও মন্দিরগুলির সৌন্দর্য সংরক্ষণের পাশাপাশি গঙ্গায় সরাসরি পয়ঃবর্জ্য ও নিকাশি জল পড়া বন্ধ করার উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি এবং নদীতীরবর্তী এলাকার পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন পুরমন্ত্রী। সব মিলিয়ে ছট পুজোর আগে ঘাটগুলিকে উৎসবের উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি কলকাতা ও হাওড়ার গঙ্গাতীরকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও নাগরিকদের ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনা সামনে আনল রাজ্য প্রশাসন।

Scroll to Top