কুনোয় চোরাশিকারীর থাবা! ১৯ মাসের পুরুষ চিতাশাবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার

৩৬৫ দিন। প্রধানমন্ত্রীর সাধের প্রোজেক্ট চিতায় এবার চোরাশিকারীদের থাবা! কুনো অভয়ারণ্য থেকে এবার গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার হল চিতা শাবক। বনদফতর প্রায় নিশ্চিত যে ভাবে চিতা শাবকটিকে জখম করা হয়েছে তাতে চোরাশিকারীদের হাত স্পষ্ট। কুনোয় যে চোরাশিকারীরা ক্রমশ ঘাঁটি গাড়ছে তা জুলাইয়েই বোঝা গিয়েছিল। সেই সময় কুনোর চিতা ল্যান্ডস্কেপ থেকে ১০টি লেপার্ডের চামড়া উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় ৭ চোরাশিকারিকে। সেখানেই এবার এক রক্তাক্ত, গুরুতর জখম চিতা শাবককে উদ্ধার করল বনদপ্তর।
ঘটনাটি কী?
কুনোর বনদফতর জানাচ্ছে, রবিবার রুটিন তল্লাশির সময় কুনো অভয়ারণ্যের অন্তর্গত মোরেনায় পাহাড়পুর এলাকা থেকে ১৯ মাসের একটি পুরুষ চিতাশাবককে অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায় ওই চিতা শাবক স্ত্রী চিতা নিরভার সন্তান। দ্রুত চিতাশাবকটিকে কুনোর পশু চিকিৎসালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ওই চিতাশাবকের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাত রয়েছে। এই আঘাত অন্য কোনো বন্য জন্তুর সঙ্গে মারামারিতে হতে পারে না। একমাত্র ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে ওই রকম মারাত্মক আঘাত লাগতে পারে। যদিও কুনোর তরফে সরাসরি চোরাশিকারীদের উৎপাতের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। কুনোর চিফ কনজারভেটর অফ ফরেস্ট উত্তম শর্মা। তিনি বলেন, ‘আগামী ৭২ ঘণ্টার আগে চিতাটির শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ওর শরীরে গুরুতর জখম রয়েছে। তবে সেটা কীভাবে হয়েছে, তা বলার সময় এখনও আসেনি।’
কোথায় প্রশ্ন?
কুনোয় লাগাতার চোরাশিকারীর উৎপাতে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে। কুনো সূত্রে যে পরি সংখ্যান দেওয়া হচ্ছে তাতে সেখানে এখন চিতার সংখ্যা ৬০-এর আশেপাশে। তার মধ্যে ৪১ টির জন্ম কুনো তে হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি যদি প্রোজেক্ট চিতার সাফল্য হয় তাহলে উদ্বেগ হল নজরদারি। অতীতে একাধিক বার কুনোর নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চোরাশিকারীরা একটি ১৯ মাসের শাবককে জখম করে ফেলল তা জানতেই পারল না বনদফতর? এদিকে খাতায় কলমে কুনো জাতীয় উদ্যানের নিজস্ব টাইগার স্ট্রাইক ফোর্স রয়েছে। নজরদারির জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে, ডগ স্কোয়াড রয়েছে অর্থাৎ সরকারি সব রকম ব্যবস্থা থাকার পরেও কেন গাফিলতি? এই প্রশ্ন বার বার উঠছে।

Scroll to Top