অবশেষে স্বস্তি! ১২ ঘণ্টা মৃ”ত্যুর সাথে লড়াই, ভোর ৫টায় খনি থেকে জীবিত উদ্ধার ১২ শ্রমিক

৩৬৫ দিন। পাণ্ডবেশ্বর। টানা ১২ ঘণ্টা ধরে খনির গভীরে ঝুলে মৃ”ত্যুর সাথে পাঞ্জা! অবশেষে আজ ভোর ৫টায় জী”বিত উদ্ধার হলেন পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি-এ কোলিয়ারিতে আটকে থাকা ১২ জন শ্রমিক। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকে আজ ভোর পর্যন্ত খনির ২০০ ফুট নিচে প্রাণ হাতে ঝুলে ছিলেন তাঁরা। সারারাত উৎকণ্ঠা, আ”তঙ্ক আর অসহায় অপেক্ষার পর ভোরের আলো ফুটতেই ফিরলো স্বস্তি।
১২ ঘণ্টা কিভাবে কাটলো খনির ভেতরে?
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় ইঞ্জিন ঘরের ড্রামে ডুলির লোহার রশি ফেঁ”সে যাওয়ায় ২০০ ফুট গভীর খনির মাঝপথে ঝু”লে পড়ে ডুলি। ভেতরে ছিলেন ১২ জন ECL কর্মী – ৮ জন নামছিলেন, ৬ জন উঠছিলেন। অন্ধকার, গুমোট খনির ভেতরে একটু নড়লেই ছিঁড়ে পড়ার ভয়। ওপর থেকে শুধু আওয়াজ দিয়ে আশ্বস্ত করা হচ্ছিল তাঁদের। যত রাত বাড়ছিল, ততই বাড়ছিল প্যানিক। পরিবারের লোকজন খনির মুখে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। গোটা পাণ্ডবেশ্বরের ঘুম উড়ে গিয়েছিল গতকাল রাতে।
রাত জেগে উদ্ধার অভিযানে বিধায়ক থেকে প্রশাসন
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। সারারাত তিনি খনির মুখেই ছিলেন। তাঁর সাথে ছিলেন ECL-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিক, কোলিয়ারি এজেন্ট মধুসূদন সিং, ম্যানেজার সহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা ও পুলিশ। প্রথমে রশি ছাড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিশেষজ্ঞ টিম এনে যু”দ্ধকালীন তৎপরতায় ড্রাম মেরামত করে ভোর ৫টার দিকে একে একে সবাইকে ওপরে তুলে আনা হয়।
এখন কেমন আছেন শ্রমিকরা?
কোলিয়ারি সূত্রে জানা গেছে, আপাতত সকলেই সুস্থ আছেন, তবে ১২ ঘণ্টা ঝুলে থাকার কারণে তাঁরা চরম শারীরিক ও মানসিক ধকলের মধ্যে রয়েছেন। সকলকেই দ্রুত বিশেষরি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে শারীরিক পরীক্ষার জন্য।
উদ্ধার হলেও, প্রশ্ন থেকেই গেল নিরাপত্তা নিয়ে
শ্রমিকরা প্রাণে বাঁচলেও, ECL-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল। কয়েক মাস আগেই যে ড্রাম মেরামত হয়েছিল, সেই ড্রামই কিভাবে ফেঁসে গেল? ঠিকাদারের কাজে কি গাফিলতি ছিল? বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি জানিয়েছেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কোলিয়ারির সমস্ত যন্ত্রের সুরক্ষা পরীক্ষা (Safety Audit) করা জরুরি। ১২টি প্রাণ আজ ফিরে এলো ঠিকই, কিন্তু কাল যদি আবার একই ঘটনা ঘটে? শ্রমিকদের জী”বন নিয়ে আর ছিনিমিনি নয়, এবার স্থায়ী সমাধান চাইছে শ্রমিক মহল।

Scroll to Top