এসআরএফটিআই-এর ছাত্ররা জাতীয়স্তরে আন্দোলন চায়

৩৬৫দিন। বারবার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগত হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের হামলা কোনোও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আসলে জে এন ইউ, আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর ইউনিভার্সিটির মতোই এস আর এফ টি আইতে ও পরিকল্পনা করে হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারী ছাত্র -ছাত্রীরা। আসলে এটি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর হিন্দুত্ববাদীদের সংগঠিত আক্রমণ বলে মনে করছেন তাঁরা। তাই আগামী দিনে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলনকে এস আর এফ টি আইয়ের আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা ছড়িয়ে দিতে চাইছে বলে জানিয়েছেন।
জাতীয় স্তরে আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে উদ্যোগী এস আর এফ টি আইয়ের পড়ুয়ারা গত ২৭ অক্টোবর ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা থিয়েটার হলে আর এস এসের ঘনিষ্ঠ অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত নামে একটি সংগঠনের সভা ঘিরে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। কেন টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের থিয়েটার হল ভাড়া দেওয়া হয়েছে, এই প্রশ্ন তুলে পড়ুয়াদের একাংশ থিয়েটার হলে পোষ্টার মারতে গেলে,বিবাদ বাঁধে। অভিযোগ,বহিরাগত বাহিনী বচসা আচমকা পড়ুয়াদের একাংশের ওপর হামলা চালায়। সেই হামলায় ৮ জনের কাছে পড়ুয়া জখম হয় বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। এরপরের রবিবার একইভাবে ছাত্র -ছাত্রীদের ওপর বাইরে থেকে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ করেন ছাত্র ছাত্রীদের একাংশ। আক্রান্ত ছাত্র -ছাত্রীরা একযোগে নিরাপত্তার দাবি তুলে সোচ্চার হয়। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার পদত্যাগ দাবি করেন। সেই দাবিতে এখনও এস আর এফ টি আইয়ে অবস্থান আন্দোলন চলছে।বৃহস্পতিবার সেই আন্দোলন ২৫ দিনে পড়ল।এই বিষয়ে,আন্দোলনকারী ছাত্রদের তরফে সুদীপ চক্রবর্তী জানান, কর্তৃপক্ষ পুজোর মধ্যে ছাত্রদের হোস্টেল ছাড়তে বলায় সব পড়ুয়া বিপাকে পড়েছেন। আমরা চেষ্টা করছি, চাঁদা তুলে আগামী সপ্তাহ থেকে কমিউনিটি কিচেন চালু করতে।এই সপ্তাহে একদিন কমিউনিটি কিচেন চালু করি। আগামী দিনে যাতে এই কমিউনিটি কিচেন লাগাতার ভাবে চালু করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা মনে করি,এস আর এফ টি আইয়ের ওপর আক্রমণ কোন ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যেভাবে জে এন ইউ, আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করা হয়েছে, একইভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনা করে হামলা করা হয়েছে। আগামী দিনে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আন্দোলনকে বৃহত্তর রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জিম, মিউজিক রুম, ফিল্ম দেখার নতুন সি আর টির দরজা বন্ধ করে রাখার অভিযোগ এস আর এফ টি আই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র শিক্ষা ও গবেষণার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন নতুন নতুন ফিল্ম দেখার। এরজন্য নতুন সি আর টি রুমে ফিল্ম দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি এন্টারটেইনমেন্ট ও সুর চর্চার জন্য রয়েছে মিউজিক রুম।আন্দোলনে নামার পর থেকে এই সমস্ত ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে এস আর এফ টি আই কর্তৃপক্ষ। এমনটাই অভিযোগ করছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের একাংশ। উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন করায় এমনকি, স্বাস্থ্য চর্চার জন্য জিমের ঘর ও বন্ধ করে রাখার ঘটনা দেখে তাঁরা বলছেন, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই কাজ করা হয়েছে, যাতে পড়ুয়াদের কোণঠাসা করে দেওয়া যায়। এই অবস্থায় চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ চেয়ে আর্জি জানালেও তারা কোনো রকম সাড়া পাননি। অবশেষে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে মরিয়া ছাত্র ছাত্রীরা।

Scroll to Top