যন্তর মন্তরে অন ডিউটি মহিলা সাংবাদিকরা জানালেন, কীভাবে পুলিশ অত্যাচার করেছে

গৌতম লাহিড়ী,( সভাপতি ফেডারেশন অফ প্রেস ক্লাব)

৩৬৫ দিন। যন্তর মন্তরে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর সাংবাদিকরা গর্জে উঠল। দিল্লি পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা লাগু করায় সাংবাদিক রা প্রতিবাদ শোভাযাত্রা করে নীরবে প্রতীকী প্রতিবাদ জ্ঞাপন করে। প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার প্রাঙ্গণ মঙ্গলবার প্রবীণ নবীন সাংবাদিকের জমায়েত কানায় কানায় পূর্ণ হয়। যন্তর মন্তর আন্দোলনের সময় দিল্লি পুলিশ কর্মরত সাংবাদিকদের কেবলমাত্র হেনস্তা বা নিগ্রহই শুধু করে নি, আটক করেছিল অনেককেই। আজকাল প্রথাগত সংবাদ মাধ্যম ব্যতীত ডিজিটাল মিডিয়া প্রভাব বিস্তার করেছে। পুলিশ তাদের সাংবাদিক মানতেই রাজি নয়। সরকারি পরিচয় পত্র থাকা সত্ত্বেও পুলিশ অনেক কে আটকেছে। বিশেষ করে নারী সাংবাদিকরাও রেহাই পায়নি। প্রতিবাদ শোভাযাত্রা আগে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সভা হয়। সেখানে মূল সুর ছিল ,” দিল্লি পুলিশ এক ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংবাদিকদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে। এই আচরণ সংবিধানে বর্ণিত মুক্ত চিন্তার আদর্শ বিরোধী। “।
জন্য বিশেক সাংবাদিক কে আটক করে পুলিশ,যারা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ্ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন নিয়ে রিপোর্ট করতে গিয়েছিলেন। এদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন সভায়। একে একে সকলেই তারা অত্যাচারের কাহিনী বিধৃত করে। মহিলা সাংবাদিক বলছিলেন তাদের পরিচয় পত্র দেখানোর আগেই পুলিশ হামলা করে। ডিজিটাল মিডিয়া হাউসের নিউজ লন্ড্রির সাংবাদিক আস্থা বলেছিলেন, পুলিশ নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সাংবাদিক কে। সহকর্মী আনমোল প্রীতমের সঙ্গে পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করে। এমনকি ওই জমায়েত মধ্যে দক্ষিণ পন্থী দুষ্কৃতীরা ছিল যারা পুলিশের সাহায্যে মহিলাদের শ্লীলতা হানীর চেষ্টা করে।
প্রেস ক্লাব সভাপতি সঙ্গীতা বড়ুয়া পিসারতি একই সুরে বলেন, সাংবাদিকদের অবাধ কাজে বাধা দেওয়া গর্হিত কাজ। এতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।” কারাভান ম্যাগাজিনের সাংবাদিক রিয়ান থমাস বলছিলেন, পুলিশ তাকে আটকে রেখে দেয়। এমনকি শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করে। বিবিসির সাংবাদিক দিলওয়াজ পাশা কে হিন্দুত্ব বাদি একদল কীভাবে হেনস্তা করে তার বর্ণনা দেন। সভায় উপস্থিত হন ইন্ডিয়া টুডের সম্পাদক রাজদীপ সারদেশাই, বিবিসির প্রবীণ সাংবাদিক সতীশ জ্যাকব, পরোঞ্জয় গুহঠাকুরতা,সহ সাংবাদিক সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দও। ছিলেন ড হিন্দুর সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার। অজিত অঞ্জুম থেকে সকল ইউ টিউবের। মূল স্রোতের কিছু সাংবাদিক ছিলেন । ছিলেন এনডিটিভির সাংবাদিক। সাংবাদিক ঐক্যের এক চিত্র মনে করিয়ে দিল জরুরি অবস্থার সময়কার প্রতিবাদের ইতিহাস।

Scroll to Top