রামধনু রাস্তায় পিছলে আহত ৪ বাইক চালক

৩৬৫ দিন। নীল সাদা থেকে রং বদলে কোথাও কালো সাদা আবার কোথাও হলুদ, গেরুয়ার সঙ্গে সাদার মিশ্রন ।বিজেপি সরকারে আসার পরে পুজো উপলক্ষ্যে রাস্তার ডিভাইডার এর রং করা হচ্ছে কালো সাদায় আবার দুই রাস্তার মাঝে যে মিডিয়ান ডিভিআইডার রয়েছে সেগুলিকে সাদার সঙ্গে কোথাও করা হচ্ছে কোথাও গেরুয়া আবার কোথাও হলুদ।রাস্তায় এই রং করার ফলে স্কিড্ করে দুর্ঘটনা হচ্ছে বলে এদিন অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল এ ।অন্যদিকে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের বক্তব্য যদি দুর্ঘটনা রঙের কারণে হয় তাহলে দল সরকারকে রাস্তা রং করা নিয়ে ভেবে দেখতে বলবে।তবে কেন এই রং করা হচ্ছে তা নিয়ে কার্যকরী সংস্থা পি ডব্লু ডি, কলকাতা পুরনিগম ( কে এম সি ) সহ অন্যান্য সংস্থা কাছে কার্যত কোনো কারণই দেখতে পারেনি।অথচ রাস্তা ও নির্মাণ নিয়ে মানক (স্ট্যান্ডার্ড ) তৈরী করে যে সংস্থা সেই ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেসের নিয়মের সঙ্গে এসব রঙের মোটেই সাযুজ্য থাকছে না বলেও ওই আধিকারিকরা জানিয়েছে ।
কি হয়েছে
ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরনিগম ও হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্স (এইচআরবিসি)-এর যৌথ উদ্যোগেই চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের উপর দিয়ে যাওয়া রাস্তাটিকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় নানা রঙে সাজিয়ে তোলা হয়েছে । চিংড়িঘাটা বাইপাস থেকে শুরু হয়ে পার্কসার্কাসের ‘সেভেন পয়েন্ট’ পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাস্তাই যে শুধু লাল, গোলাপি, হলুদ ও কমলার মতো উজ্জ্বল রঙে সেজেছে। উডালপুলের নীচের অংশ এবং পার্কসার্কাস কানেক্টরের সংযোগস্থলগুলোতেও ঐতিহ্যবাহী আলপনার নকশাও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি জায়গাতে । এসব জায়গার পাশাপাশি গড়িয়াহাট এলাকাতেও একই ধরনের কাজ চলছে ।শহরজুড়ে ব্যস্ত রাস্তার উপর ঝোলানো সুন্দর সব চিত্রকর্ম ও রঙিন নকশা পথচারী ও গাড়িচালকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।
রাস্তায় ইচ্ছেমতো রং করা কেন বিপজ্জনক
দুর্গাপুজোর ঠিক আগে শহরকে এমনভাবে সাজিয়ে তোলা কেবল কলকাতার বাসিন্দাদের জন্যই নয় বরং উৎসবের মরশুমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর জন্যও এক স্মরণীয় ও অনন্য উপহার হলেও তা কতটা নিয়ম সম্মত তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। রাস্তার গঠনগত নিরাপত্তা মূলত জাতীয় সড়ক কতৃপক্ষ (এন এইচ এ আই) ও পি ডব্লু ডি’র সড়ক বিভাগই দেখে ।এই পরিবর্তনে তারাও উদ্বিগ্ন। রাজ্য সড়ক বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন নিয়োনুসারে ডিভাইডারে কালো সাদা ও রাজ্য ও জাতীয় সড়কে হলুদ কালো রং করা উচিত ।এর কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন শহরের রাস্তায় গাড়ির গতি অপেক্ষাকৃত কম থাকায় সাদালোতে রাতে এল পড়লে তা পরিষ্কার বোঝা যায় ।অন্যদিকে জাতীয় সড়কে হলুদ রং ব্যবহার হয়।এই নিয়ে মূল মানক সংস্থা ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেস এই দুই রঙের ব্যবহার নির্দেশ করেছেন ।হলুদ মূলত ব্যবহার হয় রাস্তা বিভাজনের নির্দেশ করতে এই হলুদ রং ও সাদা কালো রাস্তার কিনারা নির্দেশ করতে ব্যবহার করা হয়।
প্রতিবাদ তৃণমূলের , ঢোক গিললো বি জে পিও
তবে এই নিয়ে তৃণমূল ভিডিও পোস্ট করে জানিয়েছে যে বৃষ্টির পরে বেশ কিছু রঙিন ফ্লাই ওভারে রঙের কারণেই বাইককে স্লিপ করে পরে যেতে দেখা গেছে ।ফলে রঙিন রাস্তা কার্যত দুর্ঘটনা প্রবন ও মরণ ফাঁদ হয়ে উঠছে বলেই অভিযোগ তাদের ।তারা এই দুর্ঘটনার জন্য পুর ও নগরউন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকেও দায়ী করেছে তারা ।রোড সেফটি নিয়ে গবেষণাকারীরা জানিয়েছেন পিচের ওপর রঙের প্রলেপ গাড়ির চাকার সঙ্গের রাস্তার গ্রিপ কমিয়ে দেয় । এর সঙ্গে রঙের মধ্যে যে তৈলাক্ত প্রলেপ থাকে তা আরও গ্রিপ কমিয়ে দেওয়ার ফলে ওই সব রঙিন রাস্তা বাইক চালকদের জন্য মৃত্যুফাঁদ তো বটেই গাড়ির ক্ষেত্রেও তা বিপজ্জনক।

Scroll to Top