৩৬৫ দিন। তালাবন্ধ যন্তরমন্তরে গেট টপকে ঢোকার অভিযোগ! তার জন্য দুই ককরোচ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠাল আদালত। তবে জামিন পেয়েছেন আরো এক ককরোচ নেতা আজিঙ্কে শিন্ডে। ৫ হাজার টাকার বন্ডে এবং আগামী এক বছর জনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কোনও কাজে যুক্ত না থাকার মুচলেকায় ছাড়া পেয়েছেন তিনি। যদিও সিজেপি-র প্রশ্ন, যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য কেন জেলে যেতে হবে? এমনকি গুরুতর অপরাধ করেছে তারা যার জন্য তাদের দুই নেতাকে জেলে কাটাতে হবে? ককরোচদের অভিযোগ, আসলে রাঙ্কা ও সৌরভকে জেলে পাঠিয়ে আন্দোলনের গতি স্তব্ধ করতে চাইছে পুলিশ। সৌরভ ও রাঙ্কাকে জেলে পাঠানোর প্রতিবাদে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি ও। বুধবার এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র যুবরা আন্দোলন করছে। তাদের কণ্ঠরোধ করছে মোদি সরকার। যন্তরমন্তরে তারা জাতীয় পতাকা নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়েছে তার জন্য তাদের জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। ভয়ের পরিবেশ তৈরীর চেষ্টা করছে। একনায়কতন্ত্র চলছে।
‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচি
যন্তরমন্তরে তেরঙা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে গ্রেফতার হতে হয়েছে ককরোচ নেতাদের,এমন-ই অভিযোগ সিজেপির। এর পাল্টা শুক্রবার ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচি নিল সিজেপি। বুধবার ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দিপকে জানান, মোদি সরকার দিল্লি পুলিশ জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য যন্তরমন্তর থেকে ককরোচদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানো যদি অপরাধ হয় বেআইনি হয় তবে ককরোচরা সেই অপরাধ আবার করবে বার বার করবে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে বিকেল ৫ টা থেকে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি নেওয়া হবে। আন্দোলনে নেতৃত্বে থাকবেন দিপকে নিজে। বিকেল ৪ টে থেকে লাখ লাখ ছাত্র যুবকে জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসে জমায়েত করতে বলা হয়েছে ককরোচদের তরফে।
জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ!
সৌরভ ও রাঙ্কার জেল হেফাজতের পরে ককরোচ পার্টির প্রধান দিপকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বলেন, ককরোচরা তো যন্তরমন্তরে গিয়ে দেশের জাতীয় পতাকা ওড়াচ্ছিল। ভারত মাতা কি জয় বলছিল এগুলো কী দেশবিরোধী কাজ। নিশ্চয় নয়, তাহলে তাদের কেন জেলে যেতে হল? কি প্রমাণ করতে চাইছে পুলিশ ও প্রশাসন? এ ভাবে ককরোচদের আটকে দেবেন ভাবলে ভুল করছেন। আইনজীবীদের একাংশ-ও বলছেন, যদি কোনো জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ হয় এবং সেই নির্দেশ অমান্য কেউ সেখানে বিক্ষোভ দেখায় তাহলে আইন অনুযায়ী পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে তবে সেই দৃষ্টান্ত অত্যন্ত কম। সাধারণত এই ক্ষেত্রে পুলিশ আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দেয় অথবা খুব বেশী তাদের আটক করে পরে ছেড়ে দেয়। একেবারে গ্রেফতার করে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে তাদের আদালতে পেশ করে জেলে পাঠানো বেনজির। একটি ভিডিয়োবার্তায় দিপকে বলেছেন, ‘‘আপনারা সকলে জানেন, সৌরভ আর আশুতোষকে শুধু দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য জেলে পাঠানো হয়েছে। সকল দেশভক্তদের কাছে আমার অনুরোধ, যাঁরা দেশকে এবং তেরঙা জাতীয় পতাকাকে ভালবাসেন, ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় সকলে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে আসুন। সেখানে আমরা জাতীয় পতাকা ওড়াব। বলব, এটা কোনও অপরাধ নয়। যাঁরা আসতে পারবেন না, নিজ নিজ শহরে সন্ধ্যায় ‘তেরঙা অভিযান’ বার করুন। এই স্বৈরাচারীদের দেখিয়ে দিন, তেরঙা আমাদের গর্ব। সেটা ওড়ানো অপরাধ হতে পারে না।’’ দিপকে জানিয়েছেন, এর পর তাঁকেও গ্রেফতার করা হতে পারে। তাঁর কথায়, ‘‘হয়তো এর পর আমাকেও গ্রেফতার করা হবে। আমি তা নিয়ে ভাবি না। জাতীয় পতাকা আমার গর্ব। আমি তা ওড়াবই।’’
আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা
ককরোচদের আরো অভিযোগ সৌরভ ও রাঙ্কার হয়ে মামলা লড়ার কোনো সুযোগ-ও তাদের দেওয়া হয়নি। আগেই দুজনের ফোন কেড়ে নেওয়া হয় ফলে তারা সিজেপি-র যে লিগ্যাল সেল রয়েছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ-ই করে উঠতে পারেনি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা হচ্ছে বা তাদের কোন আদালতে পেশ করা হচ্ছে তা জানাই যায়নি। ফলে সৌরভ ও রাঙ্কার হয়ে মামলা লড়তেই পারেননি তাদের আইনজীবীরা। আদালতে পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়গুলো তুলবেন সিজেপি-র আইনজীবীরা। বুধবার মন্দির মার্গের স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে তোলা হয়েছিল তাঁদের। শুনানি শেষে দু’জনকেই জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। তবে তাঁদের সঙ্গী অজিঙ্ক শিন্ডেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে। ৫ হাজার টাকার বন্ডে এবং আগামী এক বছর জনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কোনও কাজে যুক্ত না থাকার মুচলেকায় ছাড়া পেয়েছেন তিনি।
প্রতিবাদ মমতার
সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারির ঘটনায় কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক হ্যান্ডেলে মমতা লেখেন, আমরা এবং আমাদের পূর্ববর্তী বহু প্রজন্ম গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য লড়েছি। আরো লড়াই চালিয়ে যাব। সিজেপির আশুতোষ, সৌরভের গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করছি। এক প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুন্ন করতে দেওয়া হবে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণতন্ত্রকে হত্যা করার ঘটনা ঘটছে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ১৪ হাজার মানুষ পুলিশি অত্যাচার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। যে সরকার ভুলে গিয়েছে, তারা ‘জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য এবং জনগণের সরকার’, তাদের পতন অনিবার্য। আমি বলছি, তোমাদের দিদি তোমাদের পাশে আছেন, আজ এবং চিরকাল থাকবেন ! আমরা সবাই মিলে আমাদের ভারতমাতাকে রক্ষা করব।”
আন্দোলনকারীদের মারছে পুলিশ, অভিযোগ রাহুলের
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে প্রিজন ভ্যান , বাসে আন্দোলনকারীদের মারধরের অভিযোগে সরব হলেন রাহুল গান্ধি। বুধবার কংগ্রেসের যুব দলের কয়েকজনকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে গোটা দেশ আন্দোলনে নেমেছে দেখে কেন্দ্রে মোদি সরকার এমন ভয় পেয়েছে যে ছাত্র যুবদের আটক করে পুলিশের গাড়িতে তুলে তাদের মারধর করা হচ্ছে। রাহুলের সঙ্গে থাকা যুব কর্মীরা জানান কি ভাবে দিল্লি পুলিশ তাদের মারধর করেছে। হুঁশিয়ারির সুরে এরপর রাহুল জানান, দমন পীড়ন করে আন্দোলন থামানো যাবে না।





