রাহুলের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিযানে জনসমুদ্র। ব্যাট ম্যান মুখোশ পড়লেন রাহুল খাড়্গে, ব্যারিকেডে চাপলেন তেজস্বী, সামিল মমতা, অখিলেশরা
৩৬৫ দিন। রাতে ঘুমতে পারছেন না, রাজসাক্ষী হয়ে যান সত্যি কথা বলুন, আপনাকে ক্ষমা করে দেব – মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পরামর্শ রাহুলের। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক বিস্ফোরক দাবী করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। রাহুলের দাবী, অনেক রকম বার্তা পাচ্ছি। জ্ঞানেশ কুমার খুব সিগ্গির সাংবাদিক বৈঠক ডাকবেন বলে শুনছি। আমি তো বলবো আমি পদত্যাগ করুন। আমরা আপনাকে ক্ষমা করে দিতে পারি। জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি মোদি-শাহকে টেনে রাহুল বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বাঁচাতে আপনাদের তৎপরতাই বলে দিচ্ছে ভোট চুরি হয়েছে। গন্ডোগোল আছে বলেই তো আপনাদের এত তৎপর হতে হচ্ছে সত্যকে চাপা দিতে হচ্ছে। মোদি সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে রাহুলের দাবী, প্রশাসনের একটা বড় অংশ এখন আর সরকারের সঙ্গে নেই তারা বিরোধীদের আন্দোলনকে সমর্থন করছে। রাহুলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, শিল্পপতি গৌতম আদানি জ্ঞানেশের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। জ্ঞানেশ পদত্যাগ না-করলে এবং দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার না-হলে আন্দোলন থেকে না-সরার বার্তা দিয়েছেন রায়বরেলীর কংগ্রেস সাংসদ। রাহুলের কথায়, “সংবিধান আক্রান্ত হচ্ছে। এই প্রতিরোধ একদিনের নয়। আমরা থামব না। এটা চলবে। জনআন্দোলন হবে এটা।”
সত্যি বলুন, দেশ সেবা করুন
জ্ঞানেশ কুমার এস আই আর করে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিরোধীরা। তবে তারা এটাও বলছেন, জ্ঞানেশ আসলে বোরে, তিনি আজ্ঞা পালন করেছেন। আসলে কলকাঠিটা নর্থ ও সাউথ ব্লক থেকে নাড়া হয়েছে। সোমবার ফের জ্ঞানেশ প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বিস্ফোরক দাবী করে বলেন, জ্ঞানেশকুমারের থেকেও বার্তা পাচ্ছি। অনেকের থেকে অনেক রকম বার্তা পাচ্ছি। আমি জ্ঞানেশ কুমারকে বলবো আপনি ইস্তফা দিন। আপনি ভুল করেছেন তার শাস্তি পেতে হবে আপনাকে। বাঁচতে চাইলে রাজসাক্ষী হয়ে যান। আপনি তো ষড়যন্ত্রী নন, তাই আপনি কার নির্দেশে এস আই আর করে ভোট চুরি করালেন সেই সব নাম তথ্য প্রকাশ্যে আনুন। আপনাকে আমি অন্তত ক্ষমা করে দেব। সত্যি বললে আপনি দেশের প্রকৃত সেবক হবেন। রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমতে পারবেন।
২০০ সরকারি আমলা অফিসার যোগাযোগ রাখছেন
রাহুল বলেন, বিজেপি যতোই ‘আমাদের আন্দোলনকারী দেশদ্রোহীতা বলুক মোদি শাহদের জানা দরকার তাদের সরকারের এই দিল্লি প্রশাসনের-ই অন্তত ২০০ জন আমলা অফিসার আমাদের সঙ্গে আছেন। তারা নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দিল্লি পুলিশের ভুমিকা নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠলেও রাহুল সোমবার দাবী করেন, দিল্লি পুলিশের একটা বড় অংশ এখন বিরোধীদের আন্দোলনকে সমর্থন করছেন। তারাও চান জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দিক। এস আই আর বাতিল হোক। মানুষের ভোটাধিকার ফিরে আসুক। তাই তারাও আমাদের সঙ্গে আছেন। রাহুলের কথায় দিল্লি পুলিশের অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মী অফিসার কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে আছেন।
ওয়ান ডে শো নয়, আন্দোলন চলব
ইন্ডিয়া জোট ও কংগ্রেসের আন্দোলন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাহুল বলেন, আমাদের আন্দোলনকে একদিনের ব্যাপার বলে ভাবলে সরকার খুব বড় ভুল করবে। আমরা একদিন আন্দোলন করে বাড়ি ফিরে যেতে ময়দানে নামিনি। যতক্ষণ না দাবী পূরণ হবে ততক্ষণ আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। যত অত্যাচার হোক না কেন আন্দোলন থামবে না। রাহুলের কথায়, সুপ্রিম কোর্ট চায় আমরা আইনি পথে পিটিশন জমা করি আমরা তাই করবো। আমরা দেশ বিরোধী নয়, দেশের আইন সংবিধান মোদি সরকার ভাঙলেও আমরা তা মেনে চলবো। আমরা হিংসায় বিশ্বাসী নই তাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। তবে এটা আমাদের দুর্বলতা নয়। প্রতিটি বিরোধী দল দৃঢ় সংকল্প।
কেন দিল্লি জেলখানা
শনিবার ককরোচদের যন্তরমন্তর ২.০ কর্মসূচিকে আটকাতে দিল্লিকে কার্যত দুর্গ বানিয়ে ফেলা হয়। সোমবার এই প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, গণতন্ত্রে তো মতপার্থক্য থাকবে। লোকে আন্দোলন করবে সরকাররে প্রশ্ন করবে,এটাই স্বাভাবিক তার জন্য মোদি সরকার গোটা দিল্লিতে অঘোষিত কার্ফু জারি করে দিল। বিমান থেকে আন্দোলনকারীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হল। বাস, ট্রেন, মেট্রো সব বন্ধ। রাস্তায় বেরলেই পুলিশ তাড়া করছে। আইনজীবীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হল প্রধান বিচারপতিকে হস্তক্ষেপ করতে হল।এ তো একনায়কতন্ত্র,স্বৈরাচারী শাসন। রাহুলের মতে, মোদি সরকার দেশের আইন সংবিধান আদালত কিছুই মানে না। আদালতের নির্দেশের পরেও জনজীবন স্বাভাবিক রাখা হয়নি। সর্বোচ্চ আদালতের উচিৎ কড়া ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি যে পুলিশ অফিসাররা বেআইনি ভাবে আন্দোলনকারীদের মারধর করেছে তুলে নিয়ে গিয়েছে তাদের তদন্তের আওতায় আনতে হবে। কে তাদের এসব করতে বললো তা তাদের বলতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট চলো
বাসের জানলায় পাশাপাশি বসে রাহুল গান্ধি, মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বাস ঘিরে রয়েছে অসংখ্য কংগ্রেস সমর্থক। তাদের-ই কয়েকজনের মুখে ব্যাট ম্যানের মুখোস। নজর এড়ায়নি রাহুলের। জানলা দিয়ে ইশারায় চেয়ে নেন সেই মুখোশ। হাতে মুখোশ আসতেই তা চটপট পড়ে নেন মুখে – ইন্ডিয়া জোটের পূর্ব ঘোষিত সুপ্রিম কোর্ট চলো অভিযানে এমন-ই সব ছবি উঠে এল। সোমবার সকাল সকাল দিল্লির কন্সস্টিটিউশন ক্লাবে পৌঁছে যান মমতা, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, অখিলেশ, তেজস্বী, বেবি, খাড়্গেরা। বেশ কিছুক্ষণ তারা বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে আলোচনা হয় সুপ্রিম কোর্টের দিকেই কি মিছিল করে যাওয়া হবে ? বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি যখন চিঠি দিয়ে বলেই দিয়েছেন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় তিনি সাক্ষাৎ করতে পারবেন না তখন আর সেদিকে যাওয়া কী সমীচীন হবে! যদিও শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় যে অসংখ্য কর্মী সমর্থক এতো উৎসাহ নিয়ে জমায়েত করেছেন তাই পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিই হবে। তবে পুলিশের সঙ্গে কোনো সংঘাতে তারা যাবেন না। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে বাসে চাপেন রাহুল গান্ধি, মল্লিকার্জুন খড়্গে, নেহা বোরারা। সেই বাসের পিছনে মিছিল করে হাঁটতে থাকেন হাজার হাজার কর্মী। কিছু ক্ষণ পরে বাস থেকে নেমে কর্মীদের সঙ্গে রাহুল, প্রিয়ঙ্কা গান্ধি, নেহারাও হাঁটতে শুরু করেন। ভগবান দাস মার্গে আটকে দেওয়া হয় বিরোধী জোটের মিছিল। সেখানে মানব-শৃঙ্খল গড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন আধাসেনা জওয়ানেরা। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যান রাহুলেরা। তার পরে সেখান থেকে বেরিয়ে রওনা দেন খড়্গের বাড়ির উদ্দেশে।
রাতে ঘুমতে পারছেন না, রাজসাক্ষী হয়ে যান ক্ষমা করে দেব – জ্ঞানেশ কুমারকে পরামর্শ রাহুলের
- khabar365din
- October 13, 2026
- 2:46 pm
- No Comments





