সুযোগ নষ্টের খেসারত, ইরাকের দলের বিরুদ্ধে এগিয়েও হারল ইস্টবেঙ্গল

ইস্টবেঙ্গল: ২ (ডেভিড ২)

আল শোর্তার: ৩  (ইয়া ইয়া, হুসেন, কুকু)


৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী।
ফুটবল বড় নিষ্ঠুর খেলা। সবকিছুই মূল্যহীন যদি সুযোগ কাজে লাগানো না যায়। কেউ মনে রাখে না বেশি সুযোগ কারা পেয়েছে। মনে থাকে কে জিতেছে। স্কোরলাইন শেষ কথা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুবভারতীতে ইরাকের আল শোর্তার বিপক্ষে দাপট রেখেও ম্যাচটা হেরে যেতে হল ইস্টবেঙ্গলকে। শেষ পনেরো মিনিট বিপক্ষ দলকে ১০জনে পেলেও জিততে পারেনি কলকাতার ক্লাব। ডেভিড দুটো গোল করেছেন। আবার সহজ সুযোগ মিস করেছেন। এডমনড নিজেও দুটো ওপেন সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না। আবার কয়েকটা ক্ষেত্রে বিপক্ষ দলের গোলরক্ষক জালাল অনবদ্য বাঁচিয়েছেন। তবুও সুযোগ তৈরি ক্ষেত্রে এগিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল।
এই পরাজয়টা দুঃখের বললেও কম বলা হয়। ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে মাত্র ৩ মিনিটের বাজে ফুটবল! এসিএল টু-তে ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্নভঙ্গ ইস্টবেঙ্গলের। ঘরের মাঠে ইরাকের শক্তিশালী ক্লাব আল শোর্তার বিরুদ্ধে দু’বার এগিয়ে গিয়েছিল লাল-হলুদ শিবির। আরও অন্তত বার তিন-চারেক গোলের ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষমেশ হেরে ৩-২ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হল লাল-হলুদ শিবিরকে। প্রথমার্ধে ইরাকি প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে ফালাফালা করে দেওয়া, পর পর সুযোগ তৈরি করে বিশ্বকাপার গোলরক্ষককে চাপে ফেলে দেওয়া, এসবই যেন বিফলে চলে গেল। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ৭ বিদেশি নিয়ে এসেছিল্ ইরাকের ক্লাবটি। দলে ছিলেন বিশ্বকাপার গোলরক্ষকও। সেই দলের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গল কোচ অ্যান্তনীয় লোপেজ হাবাস যখন এডমুন্ড-ডেভিডদের মতো দেশি ফুটবলারদের দিয়ে আক্রমণ সাজালেন, তখন অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু হাবাসের ভরসা ছিল ডেভিডের উপর। মিজোরামের স্ট্রাইকার গোল করলেন দুটো, কিন্তু দলকে জয় এনে দিতে পারলেন না। শেষ দিকে লবা এবং লুকাস নেমেছিলেন। লুকাস একটা দেখার মত ব্যাকভলি করলেন বটে। সব মিলিয়ে দুরন্ত একটা লড়াই করলেও নিশ্চিত জেতা ম্যাচ মাঠে ফেলে এল লোপেজ হাবাসের ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গল যখন ভুরি ভুরি সুযোগ নষ্ট করছে, তখনই হয়তো কু ডাকছিল লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা বদলে যাওয়ার আশঙ্কা কাজ করছিল তখন থেকেই। সেটাই হল। মাত্র মিনিট তিনের দুর্বলতা প্রথমে ৫১ মিনিটে আল সায়েদি এবং তারপর ৫৩ মিনিটে ফিডেলস কুকু গোল করে আল শোর্তাকে এগিয়ে দিল। দ্বিতীয় গোলটি হয়তো আটকাতে পারতেন গোলরক্ষক গিল। মাঠে উপস্থিত দর্শকরা মন খারাপ করে বাড়ি ফিরলেন। লোপেজ হাবাস বললেন গোল করতে না পারলে ম্যাচ জেতা যায় না। তার সঙ্গে নিজেদের ভাগ্যকেও কিছুটা দায়ী করলেন তিনি। সত্যি বলতে আজ ইস্টবেঙ্গলের দিন ছিল না। নইলে এতটা দাপট নিয়ে খেলেও ইরাকের ক্লাবের কাছে এই ম্যাচে পরাজয় মেনে নেওয়া কষ্টের।

Scroll to Top