ডানকুনিতে অ্যাপ ক্যাব চালক খুনের সূত্র ধরে এন্টালির অ্যাপ ক্যাব চালক খুনের কিনারা করে ফেলল চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট

৩৬৫ দিন। ডানকুনিতে অ্যাপ ক্যাব চালক খুনের সূত্র ধরে এন্টালির অ্যাপ ক্যাব চালক খুনের কিনারা করে ফেলল চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট। যদিও কেন পর পর দুই অ্যাপ ক্যাব চালককে খুন তা নিয়ে এখনো কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে পু্লিশের সন্দেহ আন্তঃরাজ্য গাড়ি চুরি চক্র এই দুই খুনের ঘটনার পেছনে রয়েছে। দুটি খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে এখনো পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও একাধিক দুষ্কৃতী এই দুই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট। তাদের এমন-ও আশঙ্কা ডানকুনি বা এন্টালির ঘটনা থেকেই শুরুটা হয়নি সম্ভবত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এরা এই এক কায়দায় অ্যাপ ক্যাব চালকদের খুন করে চোর বাজারে গাড়ি বেচে দিয়েছে।‌
শুরুটা হয়েছিল ৫ অক্টোবর। ওই দিন সকালে ডানকুনিতে জাতীয় সড়কের ধারে ভাদুয়ায় ঝোপ জঙ্গলের মধ্যে এক ব্যক্তির পা বাঁধা দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ তাকে শ্রীরামপুর ওয়ালস’ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। ময়নাতদন্তে জানা যায় পিছন থেকে কিছু দিয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মারা হয় ওই ব্যক্তিকে। পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে জানতে পারে মৃত ব্যক্তি অ্যাপ ক্যাব ড্রাইভার। নাম, রামজেশ কড়ি (৫৮)। বাড়ি উত্তর দমদমের বাকড়ায়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে চন্দননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দাপ্রধান রূপান্তর সেনগুপ্তের নেতৃত্বে একটি টিম তিন জনকে প্রথমে আটক করে। এরা হল মহম্মদ মনিরুল গাজি,শেখ শাহদাত ও মহম্মদ আরিয়ান মোল্লা। এদের মধ্যে প্রথম দু’জন মধ্যমগ্রামের ও তৃতীয় জন নিমতার বাসিন্দা। পুলিশের জেরার মুখে এই তিন জন ডানকুনিতে অ্যাপ ক্যাব ড্রাইভার খুনের কথা স্বীকার করে নেয়। জেরায় তারা জানায় এয়ারপোর্ট এক নম্বর গেটের কাছ থেকে তারা ৪ অক্টোবর রাতে অ্যাপ ক্যাব বুক করে তবে তা অনলাইন বা অ্যাপে নয়। চালক রামজেশের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয় অফলাইনে। ক্যাব ডানকুনির কাছে জাতীয় সড়কে নির্জন জায়গায় আসতেই পেছনের সিটে বসা দুজন প্রথমে চালকের গলায় পিছন থেকে ফাঁস লাগিয়ে চেপে ধরে।
এই সময় ড্রাইভারের পাশে বসা তৃতীয় জন গাড়ির স্টিয়ারিং সামলাচ্ছিল। চালক সংজ্ঞাহীন হয়ে নেতিয়ে পড়তেই হ্যান্ড ব্রেক দিয়ে গাড়ি থামানো হয়। তারপর চালকের পা নাইলনের দড়ি দিয়ে বেঁধে আরো এক দফা গলায় ফাঁস এঁটে মৃত্যু নিশ্চিত হতে ভাদুয়ার কাছে গাড়ি থেকে দেহ ফেলে তারা গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয়।ধৃতেরা জানিয়েছেন, গাড়িটি চোরা মার্কেটে বিক্রি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল। তাঁরা গাড়িটি নিয়ে চলে যান বেনিয়াপুকুরে। কিন্তু কেউ নথিপত্র ছাড়া গাড়ি কিনতে রাজি না হওয়ায় এবং গাড়িতে পর্যাপ্ত তেল না থাকায় গাড়ি রেখে দিয়েই পালান তিন অভিযুক্ত। ডানকুনির এই ঘটনায় ধৃতদের বয়ান খুনের ধরণ দেখে চন্দননগর কমিশনারেটের সন্দেহ হয় এন্টালিতে ডিসি দে রোডে অ্যাপ ক্যাবের মধ্যে চালকের খুনের ঘটনাতেও এই তিন জন জড়িত থাকতে পারে। দু’দিন আগে এন্টালিতে গাড়ির মধ্যে অ্যাপ ক্যাব চালক ভগবান প্রসাদ গুপ্তের পা বাঁধা দেহ উদ্ধার হয়। ধৃত তিনজনকে এই ঘটনার কথা জিজ্ঞাসা করতে প্রথমে তারা অস্বীকার করলেও টানা জেরায় তারা স্বীকার করে এন্টালির ঘটনাও তারাই ঘটিয়েছে। তবে এন্টালিতে কেন তারা গাড়ি চুরি না করে ফেলে পালালো তা পরিষ্কার নয়। শনিবার তিন জনকে আদালতে তোলা হলে তাদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

Scroll to Top