শিল্ড হাতছাড়া নিয়ে ভাবতে নারাজ, হাবাসের পাখির চোখ এখন শুধুই ইরাকের ক্লাব

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। কলকাতা লিগ হাতছাড়া হওয়ার পর আইএফএ শিল্ডও হাতের বাইরে চলে গেছে ইস্টবেঙ্গলের। তবে লাল হলুদ ক্লাবের যাবতীয় লক্ষ্য নাকি এখন এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু। এই প্রতিযোগিতায় দেশকে কি করে আরও বেশি গর্বিত করা যায় সেটাই এখন ফোকাস মশাল বাহিনীর। বৃহস্পতিবার শিল্ড ফাইনাল হেরে সাংবাদিক সম্মেলনে আসেননি কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ফলে দলের এহেন পারফরম্যান্স লাল-হলুদ হেডস্যর কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন, তা সরকারিভাবে জানার উপায় থাকল না। তবে ইস্টবেঙ্গল ড্রেসিংরুমের অন্দরের খবর, এএফসি-র কথা মাথায় রেখেই শিল্ড ফাইনালে অতিরিক্ত শক্তি খরচ করতে চাননি হাবাস। ফাইনাল এবং ডার্বি দু’টো বিষয় এক হওয়ায় ম্যাচটা হাইভোল্টেজ হলেও সেভাবে চাপ নেননি স্প্যানিশ হেডস্যর। যদিও গোটা ম্যাচে যথেষ্টই তৎপর ছিলেন হাবাস। সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় বিরতিতে মাঠে ঢুকে রেফারির সঙ্গে তর্কও করেন। ফলে এএফসি-র জন্য শিল্ড ফাইনালের ডার্বিকে গুরুত্ব না দেওয়ার যে ‘দাবি’ লাল-হলুদ শিবির থেকে শোনা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।আগামী মঙ্গলবার যুবভারতীতেই এএফসি ‘এসিএল ২-র গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামছে ইস্টবেঙ্গল। প্রতিপক্ষ ইরাকের আল শোর্তা। আপাতত সেদিকে ফোকাস করছেন রশিদ। তাঁর কথায়, “এমন নয় আমরা খারাপ খেলেছি। একটা দল জিতেছে, অন্যটা হেরেছে। এটুকুই। এবার আমাদের পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এই হারের প্রভাব দলের উপর পড়বে না। বরং এএফসি এবং আইএসএলের প্রস্তুতিতে এই ম্যাচটাও সাহায্য করবে।” আনোয়ার আলি ইস্যুতে রশিদের মত, “কে খেলেছে আর কে খেলেনি, সে সব ভাবলে চলবে না। যে নেমেছে, তাকে ভালো খেলতে হবে। আনোয়ার সবে জাতীয় দলের ম্যাচ খেলে ফিরেছে। ওকে বিশ্রাম দিতেই হত। জোর করে খেলানোর কিছু নেই। দলের সবাই আজকে ভালো খেলেছে। মাঠে সেরাটা দিয়েছে।”ডুরান্ড ফাইনাল আর শিল্ড সেমিফাইনালে দলের পারফরম্যান্স বাড়িয়ে দিয়েছিল মশালের তেজ। যদিও শেষ পর্যন্ত দলের জয় দেখতে পেলেন না সমর্থকরা। কলকাতা লিগের পর আইএফএ শিল্ড হাতছাড়া হওয়ায় ইস্টবেঙ্গল জনতার ক্ষোভের মুখে পড়তে হল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারকে। তার সঙ্গে ছিলেন ক্লাবের অন্য কয়েকজন আধা কর্তা। দেবব্রত বাবু পুলিশকে বলেন আপনারা আপনাদের ডিউটি করুন ঠিক করে। আপনাদের সামনেই হেনস্তা হতে হচ্ছে কেন? তবে এটা নিয়ে বড় ইস্যু করতে চায় না ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। তাদের যাবতীয় লক্ষ্য এখন মঙ্গলবার ইরাকের আল
শোরতা দলের বিরুদ্ধে নিজেদের সেরাটা দেওয়া। ইরাকের ফুটবল মান ভারতের থেকে অনেক উঁচুতে। তার উপর এই দলটায় বেশ কয়েকজন বিদেশি রয়েছে। তবে ইস্টবেঙ্গল নিজেদের ঘরের মাঠে ক্লাব এবং দেশের গর্বের কথা ভেবে নিজেদের সবটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। হাবাস তার ফুটবলারদের বলেছেন সবকিছু ভুলে শুধু মঙ্গলবার এর জন্য প্রস্তুত হতে। ইরাকের দলটার বিরুদ্ধে নিজেদের জান-প্রাণ লড়িয়ে দিতে প্রস্তুত ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়নরা। হাবাস পরিষ্কার বলেই দিয়েছেন তিনি শিল্ড হাতছাড়া হওয়া নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। শিল্ড নাকি ইস্টবেঙ্গলের নতুন করে জয়ের কিছু নেই। তার কাছে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং সামনে থাকা এশিয়ার লড়াই। এখন তাঁর এই মতের সঙ্গে সমর্থকরা কতটা একমত হবেন সেটা ভবিষ্যৎ বলবে।

Scroll to Top