৩৬৫ দিন। একদা বাস চালিয়ে, ইলেকট্রিকের কাজ করে দিন গুজরান করতেন, সেই ভোজ়িনহার জীবনের পরতে পরতে তো লড়াই, আর সেই লড়াইয়ের প্রতিচ্ছ্বিই দেখা যায় তাঁর পারফরম্যান্সে। আমেরিকার মাটিতে শেষ বিশ্বকাপ ফুটবলে কেপ ভার্দে গোলকিপার কি অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছিলেন সেটা মনে আছে ফুটবলপ্রেমীদের। লিওনেল মেসি পর্যন্ত তার পারফরমেন্সে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
ভারত সম্পর্কে আগ্রহী ৪০ বছরের ভোজ়িনহা। শুনেছেন কলকাতার ফুটবল প্রেমের কথাও। তা নিজের চোখে দেখতে চান তিনি। গত বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক বৃহস্পতিবার নৈশভোজ করেছেন শতদ্রুর সঙ্গে। তাঁর কাছে জানতে চেয়েছেন ভারতীয় ফুটবল সম্পর্কে। ভারতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ঠিক কেমন, তা-ও জানতে চেয়েছেন। সব জেনে ভারত সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ আরও বেড়েছে।শতদ্রু কলকাতার বাসিন্দা জানার পর ভোজ়িনহা জানতে চান, ‘‘আপনি তো কলকাতায় থাকেন। শুনেছি, ওখানে ফুটবল খুব জনপ্রিয়। ভারতের কথাও শুনেছি। তাই আপনার কাছে আরও জানতে চাই।’’ উত্তরে শতদ্রু বলেছেন, ‘‘হ্যাঁ, কলকাতায় ফুটবল খুব জনপ্রিয়। এখন নতুন সরকার এসেছে। নতুন সরকার ফুটবল নিয়ে খুবই আগ্রহী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফুটবলের পাশে থাকার কথা বলেছেন। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁও প্রশাসনিক ভাবে সব রকম সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন।’’কাবো ভার্দের গোলরক্ষক জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে ভারতের সেরা লিগে খেলবেন। শুধু তা-ই নয়, ফুটবল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আগ্রহের কথা শুনে শতদ্রুর হাত দিয়ে পাঠাচ্ছেন বিশেষ উপহারও। ভোজ়িনহা এখন খেলেন চিলের ক্লাব কোলো-কোলোয়। ক্লাবের ২৯ নম্বর জার্সিতে সই করে দিয়েছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার বন্ধু স্যার শুভেন্দুর জন্য।’’ ভোজ়িনহা শেষ পর্যন্ত ভারতে আসবেন কিনা এবং আইএসএল খেলবেন কিনা তার উত্তর দেবে সময়। তবে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলরক্ষককে যদি ভারতের ইন্ডিয়ান সুপার লিগে যে কোনও একটি ক্লাবে খেলতে দেখা যায় সেটা ভারতীয় ফুটবলের জন্য একটা বিশাল বিজ্ঞাপন হবে। এমনিতেই পানামা, ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে ম্যাচ খেলার পর কেন্দ্রীয় সরকার বুঝতে পেরেছে ফুটবলকে বিশ্বকাপ পর্যায়ে পৌঁছতে হবে। তবেই ভারত বিশ্বের মানচিত্রে ফুটবল খেলিয়ে দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। তবে সেই পথ সহজ নয় অনেক লড়াইয়ের। কিন্তু ভারতের প্রতিভা আছে, শুধু নিয়মিত বড় দলের সঙ্গে খেলে যেতে হবে।
শুভেন্দুর জন্য জার্সি পাঠালেন ভোজ়িনহা, খেলতে চান আইএসএলে
- khabar365din
- October 9, 2026
- 2:42 pm
- No Comments





