নন্দীগ্রামে ভোট পড়ল ৭৯.৩৯ % রেজিনগরে ভোট পড়েছে ৭৮.৪২ %

নতুন সরকারের আমলে প্রথম বিধানসভা ওপন নির্বাচনে বিক্ষিপ্ত অশান্তি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে, সকালেই গ্রেফতার হুমায়ুন কবীর, নন্দীগ্রামে ও অশান্তি ঠেকাতে লাঠিচার্জ পুলিশের, শাসক দলের বিরুদ্ধে রিগিংয়ের অভিযোগ বিরোধীদের, ২ কেন্দ্রেই রেকর্ড ভোটে জয়ের দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

৩৬৫ দিন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের সরকার গঠনের পরে রাজ্যের দুই কেন্দ্রে প্রথম বিধানসভা উপনির্বাচন হলো। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিপুল নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলেও দুই কেন্দ্রেই সকাল থেকে ঘটল একাধিক বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা। বড় ধরনের কোন রক্তপাতের ঘটনা না হলেও রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য লাঠিচার্জ করতে হলো পুলিশকে। ‌ সেইসঙ্গে রেজিনগর বিধানসভার সদ্য প্রাক্তন বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরকে উস্কানি মূলক মন্তব্য করার অভিযোগে সকালেই গ্রেফতার করলো পুলিশ। তবে দুই কেন্দ্রেই বিপুল হারে ভোটদানের ঘটনায় উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভোটের পরে দাবি করলেন দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই রেকর্ড ভোটে জিতবে বিজেপি।
নিজের বুথে ভোট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপ নির্বাচন হয়। আজ সকালেই নন্দীগ্রামের নন্দনায়েকবাড়ের বুথে টোটোতে চেপে গিয়ে ভোট দেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের নন্দনায়েকবাড়ের বুথে ভোট দেওয়ার পর বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে এই মাটি থেকেই ৮২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলাম। আমার বিশ্বাস, এ বার সেই রেকর্ডও ভেঙে যাবে। আইনি নিয়ম মেনে একসঙ্গে দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব নয় বলেই ভবানীপুর কেন্দ্রটি রেখেছি। কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে আমার দৃঢ় অঙ্গীকার— কালের নিয়মে সবাইকে চলে যেতে হয়, তবে আমৃত্যু আমার নাম এই নন্দনায়কবাড়ের ভোটার তালিকাতেই থাকবে।
রেকর্ড সংখ্যক ভোট দানের হার
মাত্র ৫ মাস আগেই বিধানসভা নির্বাচন হলেও আজ মুর্শিদাবাদে রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা ও উপনির্বাচনে ভোট দানের হার রীতিমতো নতুন রেকর্ড গড়েছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট দানের যে হার জানানো হয়েছে তার নিরিখে নন্দীগ্রামে ভোট পড়েছে ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ভোট পড়েছে ৭৮.৪২ শতাংশ।
বিক্ষিপ্ত অশান্তি দুই কেন্দ্রেই
দুই কেন্দ্রেই উপনির্বাচনের চেনা ছক ভেঙে ভোটদানের হার নজরকাড়া হলেও, মঙ্গলবার দিনভর বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট এবং এজেন্টদের বার করে দেওয়ার অভিযোগে সরব হল সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দল। নির্বাচন কমিশনের তথ‍্য অনুসারে এই ভোটে অভিযোগ পড়েছে ৯৭। দুপুর ১টাতেই নন্দীগ্রামে ভোটদানের হার ৬০ শতাংশ পেরিয়ে যায়, তবে বড় ধরনের হিংসা-হাতাহাতির খবর না-মিললেও বিরোধী দলগুলির অভিযোগের পাহাড় জমতে শুরু করে। সকালে কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি আশরাফুলতুল্লাকে অনৈতিকভাবে পুলিশ আটক করে বলে অভিযোগ করা হয়। সোনাচূড়ার ভাঙাবেড়া ২৮৫ ও ২৮৬ নম্বর বুথে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের উপস্থিতিতেই উত্তেজনা ছড়ায়, তাঁকে জয় শ্রীরাম ও চোর-চোর স্লোগান শুনতে হয়। মিলন অভিযোগ করেন, তাঁদের পোলিং এজেন্টদের জোর করে উঠিয়ে দিয়ে ভোট লুট করা হয়েছে। বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, প্লেয়ারই নেই, খেলবেন কী ভাবে? একই সঙ্গে সিপিএম এবং আইএসএফ-ও ভোট লুটের অভিযোগ এনেছে। রেজিনগরের পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে বুথে এজেন্ট বসতে না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের রেজিনগরেও চরম সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, শান্তিপূর্ণ সন্ত্রাস হয়েছে রেজিনগরের ভোটে। নন্দীগ্রামে যা হয়েছে রেজিনগরেও তাই হয়েছে। আমাদের অভিযোগের কোনো ফারাক নেই। নন্দীগ্রামে যে কায়দায় ভোট লুট হচ্ছে, রেজিনগরেও একই কায়দায় ভোট লুঠ হচ্ছে।
সকালেই গ্রেফতার হুমায়ুন
সকালে ভোট দিয়ে বেরিয়েই হুমায়ুন বিস্ফোরক অভিযোগ করেন রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। গায়ের জোরে রেজিনগর দখলের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, উপনির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে দেশের এমার্জেন্সির কথা মনে পড়ে গেল, ভোট করাবার দরকার কী ছিল! বেলা গড়াতেই পুলিশকে হুমকি, প্ররোচনা দেওয়া ও বিধিভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতার হন হুমায়ুন। বিধিভঙ্গের অভিযোগে নওদার বিধায়ক গ্রেফতার প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, আইন মেনে সকলের চলা উচিত। আজকের দিনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি বাড়তি কোনও সুবিধা নিইনি। নিয়ম অনুযায়ী ভোট দিয়ে নিজের বুথ এলাকার অস্থায়ী অফিসেই সময় কাটাচ্ছি। বুথের বাইরে গিয়ে প্রচার করার অনুমতি কমিশনের বিধিতে নেই। আইন সকলের জন্য সমান। আমি মুখ্যমন্ত্রী হলেও অন্য বুথে গিয়ে নিয়ম ভাঙলে পুলিশ আমাকেও আটক করতে পারে। হুমায়ুনজি যা করেছেন, তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

Scroll to Top