৩৬৫ দিন। বেআইনি ভাবে গবাদি পশু নিয়ে যাওয়া মানেই তা জবাইয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে— এমনটা ধরে নেওয়া যায় না। সম্প্রতি এক মামলায় এমনটাই বলল সুপ্রিম কোর্ট। প্রসঙ্গত, আজই শিলিগুড়িতে গবাদি পাচারের অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ২ ব্যক্তি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধু বৈধ নথিপত্র দেখাতে না-পারার জন্য এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।ছত্তীসগঢ়ে বেআইনি ভাবে ৩২টি বলদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন সুরভ বাজাজ এক ব্যক্তি। ছত্তীসগঢ়ের গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন, ২০০৪-এর আওতায় নিম্ন আদালত এবং ছত্তীসগঢ় হাই কোর্ট তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এ বার সেই অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বৈধ নথিপত্র না-থাকলে কোনও প্রমাণ ছাড়া শুধু হেড কনস্টেবলের অনুমানের ভিত্তিতে এ ভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।নিম্ন আদালত ওই অভিযুক্তকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ১০০০ টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছিল। এই সাজা বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত এ-ও জানিয়েছে, ছত্তীসগঢ়ের ওই আইন অনুযায়ী কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে নিশ্চিত হতে হবে যে ওই গবাদি পশুগুলি হত্যার উদ্দেশেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিংবা সেগুলিকে হত্যা করা হতে পারে, এমন কোনও পোক্ত তথ্য থাকতে হবে তদন্তকারীদের হাতে। কিন্তু এই মামলার ক্ষেত্রে হেড কনস্টেবলের অনুমান ছাড়া কিছুই দেখাতে পারেনি পুলিশ, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। আদালত আরও জানিয়েছে, গবাদি পশুগুলি নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও বৈধ নথিপত্র ছিল না অভিযুক্তের কাছে। তবে শুধুমাত্র এর ভিত্তিতে বলে দেওয়া যায় না সেগুলি জবাইয়ের উদ্দেশ্যেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।এ বিষয়ে পশু চিকিৎসক এবং এক গোশালা কমিটির কাছ থেকেও মতামত শোনে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। সে ক্ষেত্রেও আদালতকে জানানো হয়, ওই বলদগুলি কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। ফলে সেগুলি হত্যার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, এমন সম্ভাবনা কম। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে আদালতের পর্যবেক্ষণ, “এই সাজা বহাল রাখার কোনও কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”
নথি ছাড়া গবাদি পশু নিয়ে যাওয়া মানেই জবাই নয়, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
- khabar365din
- October 4, 2026
- 12:48 pm
- No Comments




