শান্তিপুরের সাজ ও প্রতিমা পাড়ি দিচ্ছে বেনারসে

৩৬৫ দিন।বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী । বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার প্রাক্কালে নদিয়ার শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম ফের একবার তার অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল। শান্তিপুরের বৈষ্ণবপাড়ার বিখ্যাত শিল্পী অমল কুণ্ডুর সাজঘর থেকে অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়ে মা দুর্গার প্রতিমা এবার রওনা হচ্ছে সুদূর উত্তরপ্রদেশের বেনারসের সিগড়ার উদ্দেশ্যে। সেখানে রাজস্থানের বাসিন্দা ভরদ্বাজ পরিবারের পারিবারিক পূজায় পূজিত হবেন দেবী ।জানা গিয়েছে, রাজস্থানের ভরদ্বাজ পরিবার কর্মসূত্রে বর্তমানে বেনারসের সিগড়া এলাকায় থাকেন। তাঁদের এক পরিচিত বন্ধু ব্যারাকপুরের বাসিন্দা। সেই বন্ধুর সূত্রেই তাঁরা প্রথম শান্তিপুরের এই অনন্য প্রতিমা ও সাজের সন্ধান পান। কারণ, ওই বন্ধু নিয়মিত শান্তিপুর থেকেই প্রতিমার সাজ কিনে নিয়ে যান। সেখান থেকেই ভরদ্বাজ পরিবার যোগাযোগ করেন শান্তিপুরে।
অমল কুণ্ডুর কারখানার কারিগর ধ্রুব দেবনাথ জানান, প্রায় বেশ কিছুদিন আগে বেনারসের এই পরিবার তাঁদের প্রতিমা ও সাজের বায়না দিয়ে গিয়েছিলেন। শান্তিপুরের শ্যামবাজারের মৃৎশিল্পী সৌরাজ বিশ্বাসের কারখানায় প্রতিমাটি নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়। এরপর প্রায় দিন পাঁচেক আগে প্রতিমাটি আনা হয় বৈষ্ণবপাড়ায় অমল কুণ্ডুর সাজসজ্জার দোকানে। সেখানে সম্পূর্ণ শান্তিপুরী নিজস্ব ঘরানায় শুরু হয় সাজের কাজ প্রতিমাটির উচ্চতা প্রায় পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ফুট। সাজসজ্জায় ব্যবহৃত হয়েছে অত্যন্ত নিখুঁত কাজের দামি পাথর, লাল স্টোন ও বিশেষ ধরনের পুঁতি। চালচিত্রে সুন্দর পটচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবং প্রতিমার মুখের আদলে রয়েছে শান্তিপুরের প্রাচীন রীতির অপূর্ব টান। পরিবারের পছন্দের রঙের শাড়ি ও রূপরেখা বজায় রেখেই গোটা সাজটি নিপুণভাবে তৈরি করা হয়েছে। বেনারস থেকে পরিবারের সদস্যরা আগেই এসে প্রতিমার সম্পূর্ণ রূপ দেখে পছন্দ করে গেছেন এবং আজ সড়কপথেই গাড়ি করে প্রতিমাটি বেনারসের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে।
ধ্রুববাবু আরও জানান, শুধু এই প্রতিমাই নয়, প্রতি বছর তাঁদের কারখানা থেকে তৈরি শান্তিপুরী ডাকের সাজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। দিল্লি (সি আর পার্ক), বেঙ্গালুরু, অসম এমনকি সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশেও শান্তিপুরের সাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে এবার সম্পূর্ণ প্রতিমা এবং শান্তিপুরী ঘরানার সাজ একসঙ্গে বেনারসের মতো পবিত্র শহরে পাড়ি দেওয়ায় শান্তিপুরের শিল্পী মহলে খুশির হাওয়া।

Scroll to Top