৩৬৫ দিন। ধরুন, আপনি একজন মহিলা। অথচ, আপনি না পারেন ঘর থেকে বেরোতে। না পারেন পড়াশোনা করতে, বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে, সিনেমা দেখতে। ‘স্বাধীন’ দেশে থেকেও আপনি পরাধীন। আপনাকে বাঁচানোর জন্য নেই কোনও কমিশন, তর্ক-তত্ত্ব। তাহলে আপনি কী করবেন? একজন পাখিকে যদি আকাশ থেকে ধরে সোজা খাঁচায় পুরে দেওয়া হয়, সে তো উড়তে না পেরে ছটফট করবেই। সেই একই অবস্থা আফগানিস্তানের তালিবান শাসনের অধীনে থাকা মহিলাদের।ফারিবা হাশিমিকে চেনেন? না চেনারই কথা। তিনি আফগানিস্তানের সাইক্লিস্ট। যিনি গতকাল আফগানিস্তানকে পদক এনে দেওয়া প্রথম নারী প্রতিযোগী। এর আগে রবিবার মহিলাদের সাইকেলের ট্রায়ালে সপ্তম হয়েছিলেন ফারিবা। গতকাল তাঁর হাত ধরে প্রথম পদক পেল তাঁর দেশ। রুপো জেতার পর সংবাদমাধ্যমে ফারিবা বলেন, “এশিয়ান গেমসে আমি পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেছি। এই স্বপ্নই আমাকে নিয়ে এসেছে এই মঞ্চে। আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি বাইরে বেরোলে ছেলে সেজে যেতাম। এই রুপোর পদক আফগান নারীদের দৃঢ়তা ও সংগ্রামের প্রতীক। আমি একা নই, আমার পিছনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মহিলা আছেন, যাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে কিছু করতে চান।”আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত জায়গা ফারিয়াবের বাসিন্দা ফারিবা ১৫ বছর বয়সে সাইক্লিং শুরু করেন। তাঁর বড় বোন ইউলদুজও একজন আন্তর্জাতিক সাইক্লিস্ট।প্রতিবেশীর কাছ থেকে সাইকেল চেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা তাঁরা অনুশীলন করতেন। কিন্তু একে আফগানিস্তান, দুইয়ে মহিলা। তাঁদের দেখে বোতল থেকে পাথর – কী না ছোঁড়া হয়নি? ২০১৭ সালে প্রথম কোনও প্রতিযোগিতায় নেমে তাঁরা মাথায় ওড়না, মুখে মাস্ক ও চোখে সানগ্লাস পরে পরিচয় গোপন করেছিলেন। এরপর থেকেই শুরু হয় ছদ্মবেশে সাইকেল চালানো।
ছেলে সেজে সাইকেল চালাতেন!
আফগানিস্তানকে রুপো এনে দিলেন ফারিবা




