ইস্টবেঙ্গল – ৩
ক্যালকাটা কাস্টমস – ১
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। কলকাতা লিগ সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েও হাতছাড়া হয়েছে সুপার সিক্সের অদ্ভুত নিয়মের কাছে। মুখে না বললেও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনের ভেতর অল্প হলেও দুঃখ আছে এটা নিয়ে। কিন্তু কিছু করার নেই। যেটা হাতছাড়া হয়েছে সেটা তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই এবার সামনে শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি রয়েছে লাল হলুদ ব্রিগেডের কাছে। এই ট্রফিটা যাতে হাতছাড়া না হয় সেটা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করবে মশাল বাহিনী। মনে আছে কলকাতা লিগে খেলেছেন জুনিয়ররাই। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ডার্বিতেও সিনিয়র দলের কোনও মুখকেই নামতে দেখা যায়নি। এবার আইএফএ শিল্ডেও একই স্ট্র্যাটেজি ইস্টবেঙ্গলের।
বৃহস্পতিবার কাস্টমসের বিরুদ্ধে শিল্ড জয়ের অভিযান শুরু করল লাল-হলুদ ব্রিগেড। তবে বিদেশি খেলানোর অনুমতি থাকলেও ইস্টবেঙ্গলের ভরসা সেই জুনিয়র ব্রিগেড। ভক্তদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, ম্যানেজমেন্ট কি শিল্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছে না? কেন শক্তিশালী দল নামানো হচ্ছে না শিল্ডের ম্যাচে? আশা করা গিয়েছিল এই ম্যাচে কিছুটা শক্তিশালী দল নামাবে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সৌভিক চক্রবর্তী, জেসিন টিকে ছাড়া সিনিয়র দলের ফুটবলারদের দেখা গেল না প্রথম একাদশে। বরং কলকাতা লিগে খেলা মুখগুলিই এদিন নেমে পড়েছিল কাস্টমসের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, কাস্টমসের শিল্ড খেলার কথা ছিল না। মহামেডান বয়কট করায় একেবারে শেষ মুহূর্তে খেলতে নেমেছে তারা। এদিন ম্যাচের শুরুতেই লাল-হলুদ ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে গোল করে ফেলেন রিকি হেমব্রম। ১২ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর দুরন্ত ডিফেন্স করছিল কাস্টমস। তবে ২৯ মিনিটে গোলকিপারের ভুলেই তেকাঠিতে জড়িয়ে গেল রোহিতের হেড। সমতা ফেরানোর পর দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য অনেক বেশি উন্নতি চোখে পড়ল লাল-হলুদের খেলায়। ৫২ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন রোহিত দানু। ম্যাচের একেবারে শেষদিকে ৮৫ মিনিটে গোল করেন আকাশ হেমব্রম। এদিন ম্যাচ হল ইস্টবেঙ্গল মাঠে। টানা বৃষ্টিতে একেবারে কাদাভর্তি মাঠে নামলেন দুই দলের ফুটবলাররা। সেই দেখে ভক্তদের অনেকেই মনে করছেন, এমন বিপজ্জনক মাঠে সিনিয়র দলকে না খেলানোই ভালো। কারণ সামনে এসিএল এবং আইএসএল রয়েছে। অনেকে আবার চাইছেন ম্যাচ সরিয়ে অন্য কোনও ভেন্যুতে নিয়ে যাওয়া হোক। আবার ভক্তদের অনেকের মতে, শিল্ডটাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ম্যানেজমেন্টের। স্রেফ জুনিয়রদের খেলানোর গোঁ ধরে বসে থাকা উচিত নয়।
ইস্টবেঙ্গলের পরের ম্যাচ ৩০ সেপ্টেম্বর পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে। সেখানে ছবিটা পালটাতেও পারে। পঞ্জাব কোয়ালিটি এবং অভিজ্ঞতার দিক থেকে অনেক এগিয়ে। অনেক বেশি শারীরিক ফুটবল খেলে তারা। তাই এমন দলকে হারাতে গেলে বেশিরভাগ জুনিয়র ছেলে দিয়ে হবে না। তবে যারা খেলাটা আজকে দেখেছেন তাদের নিশ্চয়ই চোখ এড়িয়ে যায়নি কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের কাস্টমস কিন্তু কাউন্টার আক্রমণ চালিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। তবে ডিফেন্সে বড় কিছু ভুল না হওয়ার কারণে একের বেশি গোল হজম করতে হয়নি তাদের। কয়েকটা ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক গৌরব দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সেভ করেন। ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গলের ম্যানেজার বিনও জর্জ বলেন তার ছেলেরা প্রথমার্ধে কিছু ভুল করেছিল। কিন্তু সেকেন্ড হাফে নিজেদের ভুল ঠিক করে নিতেই অনেক বেশি ছন্দময় খেলা হয়েছে। তবে গোলের সামনে গিয়ে বেশ কিছু মিস যে চোখে লেগেছে সেটাও মেনে নিয়েছেন জর্জ। জেসিন টিকে একাই দুটো নিশ্চিত সহজ সুযোগ হারিয়েছেন আজ। পরে নামা আনন্তুও নিশানায় অব্যর্থ্য থাকতে পারেননি। তবে ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজার নিশ্চিত পরের ম্যাচের আগে অনুশীলনের মাধ্যমে এই ভুল ত্রুটিগুলো ঠিক করে নেবে তার দল।




